১৩৩ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
১৩৩ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
জেলার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম। ১৩৩ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি।

১৮৮৩ সালে শহরের কেন্দ্রস্থলে ৯.৫০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত স্কুলের পুরাতন একাডেমিক ভবনগুলো সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাবু রসিক লাল সেন এমএ ছিলেন স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক (১৮৮৩-৯৫)। এক সময় বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট গবেষক ও খ্যাতনামা সাহিত্যিক ড. দীনেশ চন্দ্র সেন এবং উপমহাদেশের খ্যাতনামা বাগ্মী বিপিন চন্দ্র পাল স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯১১ সালে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এটি। প্রাচীন এ বিদ্যালয়টি ১৮৪৩ সালে শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজার সংলগ্ন লস্করপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। লস্করপুরে তখন ছিল হবিগঞ্জ মহকুমার প্রধান কার্যালয়। ১৮৬৩ সালে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এমই স্কুলে উন্নীত হয়। ১৮৮১ সালে মহকুমা সদর লস্করপুর থেকে হবিগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ায় অন্যান্য অফিস আদালতের সঙ্গে বিদ্যালয়টিও হবিগঞ্জ সদরে স্থানান্তর হয়। ১৯১১ সালে সরকারিকরণের পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কুঞ্জবিহারী ঠাকুরতা। বর্তমানে ৫৫তম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুন নাহার খানম।

১৯২২ সালে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয়ের দুটি প্রধান ভবন ভস্মীভূত হয়। এ সময় প্রায় পাঁচ বছর শ্রেণিকক্ষ হিসেবে অস্থায়ী সেড ব্যবহার করা হয়। ১৯২২ সালের মেট্টিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৫ জন ছাত্রের মধ্যে ৪৫ জন প্রথম বিভাগ, নয়জন দ্বিতীয় বিভাগ এবং একজন তৃতীয় বিভাগসহ সকলেই কৃতকার্য হয়। ওই ছাত্রদের মধ্যে পাঁচজন স্টার মার্কস এবং ৪৬ জন লেটার মার্কস নিয়ে পাস করে। এ বিস্ময়কর ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়টি তদানীন্তন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। বরাদ্দ অর্থে ১৯২৫ সালে শুরু হয়ে ১৯২৭ সালে চারটি সুদৃশ্য ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

স্কুলে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৩৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। ২০১১ সালে চালু হওয়া দুই শিফটে বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা ১৭০৬ জন। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে ছয়টি একাডেমিক ভবন, অডিটরিয়াম, স্কাউট ও ল্যাবরেটরি ভবন, ছাত্র হোস্টেল ও হোস্টেল সুপারের বাসভবন। মুসলিম ছাত্রাবাসের জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনটি এখন শিক্ষকদের অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। তবে ১৯২১-২২ সালে প্রধান শিক্ষকের জন্য নির্মিত বাসভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ব্যায়ামাগার, মসজিদ ও বিজ্ঞান ভবন। লাইব্রেরিতে রয়েছে ৫ হাজার ৪শ ৫০টি বই।

অতীতের মতো বর্তমানেও বিভিন্ন পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফলাফল করছে শিক্ষার্থীরা। এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ২০১৪ সালে ৯৮.৯১%, ২০১৫ সালে ৯৯.৫৩% এবং ২০১৬ সালে ১০০%। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও শতভাগ পাসের রেকর্ড রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীরা এখন দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ জানুয়ারী, ২০১৯ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:০৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩০
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:২৫
পড়ুন