বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন স্কুল ১২৮ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে
বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন স্কুল ১২৮ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে
বানারীপাড়ার ঐতিহ্যবাহী মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুল কালের সাক্ষী হয়ে ১২৮ বছর ধরে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী বসন্ত কুমার গুহঠাকুরতা ১৮৮৯ সালের ১ এপ্রিল বানারীপাড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চিকিত্সক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বিচারক ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অনেকের খ্যাতি  দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়েছে। এসএসসিতে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যশোর শিক্ষা বোর্ডে গৌরবময় ফলাফলের ইতিহাস রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর আগে বিদ্যালয়টি মডেল বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১৬ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের তত্কালীন সভাপতি পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল’র উদ্যোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে একটি আধুনিক দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে দুটি দ্বিতল ভবনে প্রায় ৭শ ছাত্র-ছাত্রী পাঠ গ্রহণ করছে।

 এ ছাড়াও একটি একতলা ভবন রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়ার সুবিধার্থে স্কুল ক্যাম্পাসে রয়েছে আধুনিক জামে মসজিদ। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার জন্য রয়েছে বিশাল সবুজ মাঠ। যেখানে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ও ২৬ মার্চের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ এবং উপজেলা পর্যায়ের ফুটবল ও ক্রিকেট খেলাসহ যাবতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে ১৬ জন এমপিওভুক্ত, দুজন খণ্ডকালীন ও তিনজন ন্যাশনাল সার্ভিসের শিক্ষক পাঠদান করছেন। এ ছাড়াও লাইব্রেরিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল রয়েছে। জ্ঞান অর্জন ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার, তথ্য ও প্রযুক্তি জ্ঞান লাভের জন্য কম্পিউটার ল্যাব ও আইসিটি ল্যাব রয়েছে। এখানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শাখা চালু থাকলেও শাখা শিক্ষক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয়তা রয়েছে প্রাচীর ও ছাত্রাবাসের। প্রধান শিক্ষকের পুরনো বাসভবনটি জরাজীর্ণ বেহাল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রধান শিক্ষককে ক্যাম্পাসের বাহিরে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কিছুটা হ্রাস পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় অতীত হূত গৌরব ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, মা সমাবেশ ও শিক্ষা সচেতন সুধীজনদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত হাওলাদার জানান, ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি তার অর্জিত সবটুকু শিক্ষা ও জ্ঞান ঢেলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান, আদর্শ এ বিদ্যাপীঠ থেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ ও সোনার মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলে যেন আগামী প্রজন্ম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে পারে সেজন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার হারানো হূত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ জুলাই, ২০২০ ইং
ফজর৩:৫১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১৮সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন