হরিসভায় ৫০ বছর পূর্তির বড় আয়োজন
ঝালকাঠিতে ১৭৭টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ঝালকাঠিতে ১৭৭টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা
আসন্ন শারদীয় দুর্গোত্সব উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা জুড়ে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। জেলার ৪টি উপজেলায় ১৭৭টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে মৃিশল্পীদের নিপুণ কারুকাজে। শিল্পীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চুক্তিতে এসে মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন।

জেলায় এ বছর সবচে’ বড় বাজেটের পূজা হচ্ছে শহরের আড়ত্দারপট্টি হরিসভায়। এ মণ্ডপের দুর্গাপূজার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিমা ও আলোকসজ্জাসহ জমকালো আয়োজন। অনেকেই বলছেন, এবছর ঝালকাঠির এ মণ্ডপের প্রতিমা বরিশাল বিভাগের মধ্যে অন্যতম হবে।

মণ্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সাহা জানিয়েছে, ৫০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বছর পূজার আয়োজন করা হয়েছে। রাজবাড়ি জেলার নামকরা নিতাই পাল এখানকার প্রতিমা তৈরি করছেন।

এদিকে ঝালকাঠিতে আসা প্রতিমা শিল্পীরা জানান, দলবল নিয়ে সর্বনিম্ন ৫টি থেকে ১৫টি পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করছেন এক একজন প্রধান কারিগর। সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রতিমা তৈরির বায়না নিয়ে কাজ চলছে।

এখন কোনো মণ্ডপে বেণি তৈরি আবার কোনো মণ্ডপে প্রথম পর্যায়ের মাটির কাজ চলছে। আবার কোনো মণ্ডপে মাটির শেষ কাজ করে রং করার পর্যায়ও তৈরি করেছেন শিল্পীরা।

 আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে ৫ দিনব্যাপী দুর্গোত্সব শুরু হবে।

বাবুগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করছে শিল্পীরা

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। আর কিছুদিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উত্সব দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানাতে মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের বাবুগঞ্জের মৃিশল্পীরা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী পূজা থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসার শব্দ। পাঁচ দিনের উত্সবের পর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা বিসর্জনের পর ঘটবে এর সমাপ্তি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মহালয়ার দিন  থেকে দেবীর আগমনী উত্সব শুরু হয়। আর এবারের মহালয়া ১৯ সেপ্টেম্বর। বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। বাবুগঞ্জের সবচেয়ে বড় পূজা মন্দির বাবুগঞ্জ বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, মাটির কাঠামো নির্মাণের মূল কাজ ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন শিল্পীরা। এখন বাকি রং-তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমার রূপ-যৌবনা ফিরিয়ে আনার মূল কাজ। তবে মৃিশল্পীরা জানান, বৃষ্টি এবং মেঘলা আবহাওয়ার জন্য প্রতিমা শুকাতে না পেরে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা। তারা বলেন, টানা বৃষ্টি গেল কয়েকদিন। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে তা আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু পরিতোষ পাল বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সকল মণ্ডপে সর্বাধিক সহযোগিতা করা হবে। বাবুগঞ্জ ও এয়ারপোর্ট থানার ওসিদ্বয় বলেন, হিন্দু সমপ্রদায়ের সব থেকে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা। এই দুর্গাপূজায় যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা-পুলিশের পাশাপাশি থাকবে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্য।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাবুগঞ্জ থানা-পুলিশ তত্পর। আমি আশাকরি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। এদিকে আজ বিকাল ৩টায় রহমতপুর পূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি বাবু পরিতোষ পাল।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন