খেজুরের গুড়ে ভেজাল
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
খেজুরের গুড়ে ভেজাল
পশ্চিমের জেলাগুলোতে খেজুরের গুড় পাটালিতে ব্যাপকভাবে ভেজাল দিচ্ছে এক শ্রেণির গাছি। এতে সুনাম হারাচ্ছে শীতের ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যটি।

অনেক অনেক বছর আগ থেকে ‘খেজুরের রস যশোরের যশ’ বলে পরিচিত। খেজুর গুড় পাটালির নলেন ঘ্রান মানুষের মন কাড়ে। শীতের পিঠা পায়েশ তৈরি করা হয় খেজুরের গুড় পাটালি দিয়ে। ব্রিটিশ আমলে যশোরের খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি হতো চিনি। আর ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ছিল চিনি তৈরির কেন্দ্র। এ শহরের আশ-পাশে গড়ে উঠেছিল প্রায় ৫’শ চিনি কারখানা। এ অঞ্চলের তৈরি চিনি বিদেশে রপ্তানি হতো। বৃহত্ মিলে আখ থেকে সাদা চিনি উত্পাদনের আখ পর্যন্ত খেজুরের গুড়ের চিনির জমজমাট ব্যবসা ছিল। পরে খেজুর গুড় থেকে চিনি তৈরির ব্যবসায় লোকসান শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় কারখানাগুলো। ১৯৫০ সালের দিকেও দু-একটি কারখানার অস্তিত্ব ছিল।  কিন্তু খেজুর গুড় ও পাটালির কদর কমে না।

শীতের শুরুতে গাছিরা যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় খেজুর গুড়ের পাটালী তৈরিতে নেমে পড়ে। গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জ্বালিয়ে গুড় পাটালি তৈরি করে।  কিন্তু গত ৪/৫ বছর ধরে গাছিরা ভেজাল করছে। চিনির দাম সস্তা হওয়ায় তারা খেজুর গুড়ের পাটালিতে চিনি মিশাচ্ছে। এক কেজি খেজুরের গুড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১৫/১২০ টাকা। পাটালী বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত দরে। পক্ষান্তরে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা কেজি দরে। অধিক লাভের আশায় গাছিরা গুড় পাটালি তৈরিতে দেদার ভেজাল করছে।  জানা যায়, কেউ কেউ নলেন ঘ্রানের কেমিক্যাল মিশাচ্ছে। যাতে ভোক্তারা ধরতে না পারে।  ভেজাল মিশানোর কথা গাছি ও গুড় ব্যবসায়ীরা স্বীকারও করছে। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মণ্ডল বলেন, প্রায় এক’শ ভাগ গুড় পাটালিতে চিনি ভেজাল করা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছে। ভোর রাতে গুড় পাটালি তৈরি করে থাকে। একারণে মোবাইল কোর্ট করে সাজা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন