মেলান্দহের এক ইউনিয়নে ১০ ইটভাটা
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
মেলান্দহের এক ইউনিয়নে ১০ ইটভাটা
বিপর্যয়ের মুখে ফসলি জমি

g মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা

মেলান্দহের ১৮টি ইটভাটার মধ্যে শুধু ৫নং নয়ানগর ইউনিয়নেই ১০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষি, প্রকৃতি ও ফসলি জমি।

ওই ১০টি ছাড়াও মেলান্দহ উপজেলায় আরো আটটিসহ মোট ১৮টি ইটভাটা ফসলি জমি ও জনবসতির উপর গড়ে উঠেছে। এই ইটভাটাগুলো টপসয়েল সাবার করে চলেছে। প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক সম্পর্কের সূত্র ধরেই এসব ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। ইটভাটাগুলো সদর রাস্তার পাশে, ফসলি জমি এবং বসতি এলাকায় গড়ে উঠেছে।

মালিকরা প্রতিযোগিতামূলক কৃষি জমির টপসয়েল ইট ভাটায় নিচ্ছে। আর এই কৃষি জমির মাটি সংগ্রহের জন্য দালাল নিয়োগ করেছে। ওই দালালরাই সহজ-সরল কৃষকদের কৌশলে ফাঁদে ফেলে টপসয়েল গ্রাস করে চলেছে। এতে আবাদী জমি এখন শেষের দিকে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ওই এলাকায় কৃষি উপযোগী জমি থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি অধিদপ্তরের লোকসহ সচেতন মহল।

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়েছে কৃষি ফসল, সবজি, গাছের ফলমূলেও। এমনকি গবাদি পশুসহ মানুষের উপরও। অনেক গাছের ফলন কমেছে। ফল ধরা বন্ধ হয়েছে। বিশেষ করে নারিকেল-সুপারি-কলায়ও অজানা রোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব ইটভাটা পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই।

ইটভাটার আওতায় উদনাপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রহিম, সেলিনা বেগমসহ আরো অনেকে জানান, আমার বাড়ি থেকে আটটি ইটভাটা খুব কাছাকাছি। বাড়ি ও ক্ষেতের জায়গা পড়ছে মাঝখানে। আগের চেয়ে ধান উত্পাদন কমে গেছে। অনেক নারিকেল গাছেই ফল ধরছে না। দুই একটি গাছে যা ধরছে, তাতে পানি নাই। ভাটার কালো ধোঁয়ায় আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাসেল সাবরিন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন এবং আইন না মেনে ফসলি জমি ও বসতিতে স্থাপন করা বেশকটি ইটভাটাই ইতোমধ্যে বন্ধ করেছি। মেলান্দহের নয়ানগর ইউনিয়নে ফসলি ও বসতি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন