মিলনহাটি কমিউনিটি বিদ্যালয় বন্ধ অধিকাংশ জায়গা বেদখল
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
মিলনহাটি কমিউনিটি বিদ্যালয় বন্ধ অধিকাংশ জায়গা বেদখল

g সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও মিলনহাটি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ ফুট প্রস্থ আর ৮৫ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল একটি আধা-পাকা ভবনের ভেতরে রয়েছে চারটি কক্ষ।

একটি কক্ষের চালের টিন এবং দুটি দরজা ও তিনটি জানালা বিদ্যমান রয়েছে। বাকি তিনটি কক্ষের চালের টিন, আটটি জানালা ও চারটি দরজা নেই। নেই কোনো আসবাবপত্র ও টিউবওয়েল। শিশুদের খেলার মাঠের মাটির পর এখন কক্ষের ভেতরের মাটিও কেটে নিচ্ছে স্থানীয়রা। বেদখলে রয়েছে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ জায়গা। নোয়াগাঁও মিলনহাটি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র এমনটিই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চাত্পদ মিলনহাটি, ভাটেরা ও জয়নগর গ্রামের শিশুদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার জন্য সরকার খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় নোয়াগাঁও মিলনহাটি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তত্কালীন থানা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের দান করা ৩৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে ৯৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পাঠদান শুরু হয়। চলে টানা ১১ বছর। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল চার শতাধিক। শিক্ষক ছিলেন চারজন। শুরুতেই প্রধান শিক্ষদের দায়িত্বে ছিলেন প্রতিবেশী চৌরাগুদা গ্রামের বাসিন্দা মো. আমীর হামজা।

আমীর হামজা বলেন, শুরুর দিকে সরকার শিক্ষকদেরকে ৫০০ টাকা করে সম্মানী দিতেন। আর ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের মাসে ৩০ কেজি করে গম দিতেন। কয়েক বছর পর শিক্ষার্থীদের গম দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এ সামান্য সম্মানী পেতেও নানা বেগ পেতে হতো। এ জন্য ২০০০ সালে এ চাকরি ছেড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। স্থানীয়রা জানান, ২০০৭ সালে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধের সময় যে চার শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল তাদের অধিকাংশই ঝরে পড়ে। তাদের আর লেখাপড়া হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে মিলনহাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারটি কক্ষের মধ্যে একটি তালাবদ্ধ রয়েছে। মিলনহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের ভূমি দাতাদের একজন মো. তৈয়বুর রহমান ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘গ্রামে স্কুল ছিল না, তাই আমরা অনেক মূল্যবান জমি দিয়ে এখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে ২০০৪ সালের বন্যার পর এটি মেরামত হয়নি। পরে ধীরে ধীরে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা তিন গ্রামের এই স্কুলটি আবার চালু দেখতে চাই।   

নোয়াগাঁও এক নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তাতে আমার পক্ষে এটি চালু করা সম্ভব নয়।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল খায়ের গত ২৫ মে এ প্রতিবেদকের কাছে বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা জেনে বলেছিলেন, ‘আমি এখানে এমন একটি বিদ্যালয় যে ছিল এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যাব এবং এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’ গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘আমি ওই বিদ্যালয়টি সম্পর্কে এখনো কোনো খোঁজ-খবর নিতে পারিনি, তবে শিগগির যাব।’ উপজেল নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইসরাত বলেন, এখন পর্যন্ত আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন