শ্রেষ্ঠ জয়িতা ইসমত আরার তৈরি ‘পরচুলা’ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
শ্রেষ্ঠ জয়িতা ইসমত আরার তৈরি ‘পরচুলা’ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে
g শেরপুর প্রতিনিধি

শূন্য থেকে শুরু করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী হিসেবে শেরপুর জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ জয়িতা ইসমত আরার তৈরি ‘পরচুলা’ (হেয়ার ক্যাপ) এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তার কাছে হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করে তারই কারখানায় বর্তমানে কর্মরত ১২০ জন নারী কর্মীর আর্থিক সংকট দূর হয়েছে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার পশ্চিম নন্নী গ্রামের স্বাবলম্বী আর আত্মবিশ্বাসী এই নারী জানান, তার বাবা একজন ভূমিহীন দিনমজুর। মা দুলুফা খাতুন গৃহবধূ। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে আর পড়তে পারেননি। এরপর একই গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আবু তালেবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরও অভাব তাদের পিছু ছাড়েনি। কিন্তু ঢাকায় চাচাতো বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তার সামনে সম্ভাবনার দ্বার খুলে যায়। যেখানে তার বোন তাকে পরচুলা তৈরির প্রশিক্ষণ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন। স্বামীর মত নিয়ে তিনি সেখানে তিন মাস পরচুলা তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আরো তিন মাস সেখানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। পরে শেরপুরে তার গ্রামে ফিরে এসে কয়েকজনকে হাতে-কলমে কাজ শেখান। ২০১৩ সালে মাত্র চারজন কর্মী নিয়ে তিনি পরচুলা তৈরি শুরু করেন। ঢাকার শিশির ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রতিষ্ঠানটি হেয়ারক্যাপ তৈরির জন্য সকল উপকরণ সরবরাহ করে। তাদের চাহিদা অনুসারে পরচুলা তৈরি করে তারা মজুরি পান।

ইসমত আরা জানান, তার কারখানায় বর্তমানে ১২০ জন নারী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এদের প্রতিমাসে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা মজুরি দেন। নিজের মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। এখন তার নিজস্ব বাড়ি হয়েছে। সংসারে সচ্ছলতাও এসেছে।

অপরদিকে তিনি তার ভাইদেরসহ চার শতাধিক নারী-পুরুষকে পরচুলা তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তারা এখন ঢাকার বিভিন্ন ক্যাপ তৈরির প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন