হাজীগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ৪৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
শাখাওয়াত হোসেন শামীম, হাজীগঞ্জ, (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অনেকের যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্তের ভারে মানসম্মত শিক্ষা ও ভালো ফলাফল অর্জন অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে উপজেলার ১৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৭টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ৩ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পান। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস ১শ’ জনের একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিন্তু ৫ বছরেও কেউ পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ পাননি। এদিকে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হবার সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। একাধিকবার প্রধান শিক্ষক চেয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কাজ করতে বিপাকে পড়ছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য বিদ্যালয়গুলো হলো পশ্চিম রাজারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব রাজারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেনাপুর আগরজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুকুন্দসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাজা গরীবে নেওয়াজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পীর বাদশা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম মুকুন্দসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারিয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওদ্রোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয়ছিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর শ্রীপুর শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাড়কী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিদলা নওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলাচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাকনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শমেসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম জাকনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাওকোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হাটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়িয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পশ্চিম বেলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গন্ধর্ব্যপুর শ্যামলী গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাকৈরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাটরা শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাচৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পাচৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পয়ালজোষ আনোয়ার হোসেন রাজু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য ধড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাসিরকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আহমেদাবাদ লুত্ফুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টোরাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর পূর্ব মকিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রশিদ মজুমদার বলেন, প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে সহকারী শিক্ষকদেরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয়ে আসছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষক চেয়ে প্রতিবছর মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করতে গিয়ে শিক্ষক সংকটও তৈরি হয়। তাছাড়া ভারপ্রাপ্তদের কাছে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়াও যায় না। কারণ স্থায়ী প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করার জন্যে নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেন যেটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা সাধারণত করে না। তাই প্রধান শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন