২০ হাজার পরিবারের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
২০ হাজার পরিবারের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা
যমুনা থেকে বালু উত্তোলন

জামালপুর প্রতিনিধি

জেলার ইসলামপুর উপজেলায় যমুনার নদীর ২০-২৫টি স্পটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালু উত্তোলনের কারণে ২০ হাজার কৃষক পরিবারের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস নামার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার যমুনার বাম তীর পাথর্শী, মোরাদাবাদ, কুলকান্দি, চিনাডুলীর গুঠাইল ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের  উলিয়া ও কাজলা-কাঠমা এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট করে প্রতি বত্সরের ন্যায় এবারও যমুনা নদীর ২০-২৫টি স্পট থেকে বুলগেট মেশিন, ড্রেজার ও ব্যাকু দিয়ে অবৈধভাবে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে আসছে। এ সব বালু সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাহিন্দ্র ট্রাক্টর ও ভটভটিযোগে লাখ লাখ সিএফটি বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের নির্মাণাধীন যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মোরাদাবাদ এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। আগামী বন্যা  মৌসুমে প্রকল্পটি চরম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ছাড়া, বালি উত্তোলনের ফলে শশারিয়াবাড়ি, হরিণধরা, গোয়ালডোবা, চখারচর, নামারচর, ফরিপাড়া, রাজনগর, করিরতাইর, ভাংবাড়ী ও রায়েরপাড়া এলাকায় যমুুনার বুকে জেগে উঠা নতুন চর এখনই নদীতে বিলীন হতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে—যমুনার বুকে জেগে ওঠা হরিণধরা ও শশারিয়া নামক চর দুটি  বুলগেট মেশিনে কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সদ্য জেগে উঠা ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান—কয়েক বছর আগে যমুনার বুকে পাথর্শী ইউনিয়নের হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক দুটি বিশাল চর জেগে ওঠে। বর্তমানে সেখানে গম, ভুট্টা, পিঁয়াজ ও মরিচসহ ফসল উত্পাদন করে পাথর্শী ও কুলকান্দি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক চর দুটির প্রায় তিন হাজার একর জমি ফসলসহ যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে।

অপরদিকে চিনাডুলী ইউনিয়নের গুঠাইল, বেলগাছা ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালেরডোবা, চহারচর, নামারচর, ফকিরপাড়া, রায়েরপাড়া এলাকাসহ যমুনা নদীর যত্রতত্র অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে বন্যা  মৌসুমে নির্মাণাধীন যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে প্রভাব পড়বে। এতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি আগামী বন্যায় হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মোরাদাবাদ ও কুলকান্দী এলাকার কৃষক আফজাল, রাজন, হাসমত আলী ও সুলতান জানান—বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য এলাকার ৩৯৯ জন সুধী ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট  প্রেরণ করা হলেও বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে নিরীহ কৃষক লাঞ্ছিত হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে বেলগাছা, চিনাডুলি, সাপধরী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের আরও প্রায় ২০ হাজার কৃষক পরিবারের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাথর্শী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবলু বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত গাড়ি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নির্মাণাধীন যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মোরাদাবাদ অংশে ইতোমধ্যে ধস দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধে নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছি কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দুই-একদিনের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন