ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
হাওরে কৃষি শ্রমিকের অভাব

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা  

গত বছরের অকাল বন্যায় বোরো ফসল মার খাওয়া হাওরপাড়ের কৃষকরা এবার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ধান কাটা-মাড়াই শ্রমিক না পেয়ে। চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা শুরু হলেও কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষকের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ইতিমধ্যে (মঙ্গলবার) আনুষ্ঠানিকভাবে খালিয়াজুরীর শান্তিনগর হাওরে মনির হোসেনের জমিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মঈনউল ইসলাম ধান কাটার উদ্বোধনও করেছেন। আর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ধান কাটা পড়বে পুরোদমে। অন্যান্য বছর এমন সময় এখানে বহিরাগত অসংখ্য শ্রমিক এসে ধান কাটা মাড়াইয়ের জন্য কৃষকের শরণাপন্ন হয়। অথবা কৃষকেরা দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে খোঁজ করে কৃষি শ্রমিক নিয়ে আসে। কিন্তু এ বছর শ্রমিকের সন্ধান খুব একটা মিলছে না। তাই জমির ধান গোলায় কিভাবে তোলবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালিয়াজুরীতে বিছিন্নভাবে শুরু হয়েছে ধান কাটা। বোরো মৌসুমের ধান পাকার সময়টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবার সম্ভাবনা থাকে বেশি। বিশেষ করে এমন সময় কালবৈশাখী ঝড়, শিলা বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যা এসে হানা দেয়। তাই খুব দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে নেওয়াই সবার কাম্য।

খালিয়াজুরী সদরের কৃষক মনির হোসেন জানান, ৭৯ একর জমিতে তিনি বোরো ধান আবাদ করেছেন। তার ধান নিরাপদে ও নিদৃষ্ট সময়ে কাটা, মাড়াই, শুকানো ও গোলায় তোলতে শ্রমিক প্রয়োজন অন্তত ৫০ জন। অথচ শ্রমিক পাওয়া গেছে মাত্র ২০ জন। অর্ধেকেরও বেশি শ্রমিক নেই। এখানকার অধিকাংশ কৃষকই শ্রমিক সংকটের এমন অবস্থায় ধুঁকছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী বৈশাখ মাসের মধ্যে এখানকার বোরো ধান কাটতে না পারলে ফের তা অকাল বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এখন এখানে যে পরিমাণ কৃষি শ্রমিক ও কৃষি যন্ত্রপাতি রয়েছে তা দিয়ে এ সময়ের মধ্যে ফসল কেটে গোলায় তোলা অনেকটা কঠিন হবে। খালিয়াজুরীতে এবার ১৯ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ সমস্ত জমির ধান কাটার জন্য ইতিমধ্যে সরকারিভাবে এখানে কৃষকের হাতে ধান কাটার মেশিন রিপার ৯৫টি ও কমবাইন হারভেষ্টার সাতটি সরবরাহ করা হয়েছে। তাছাড়া, ধান মাড়াই কল দেওয়া হয়েছে মাত্র সাতটি। এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (্ইউএনও) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান, খালিয়াজুরীতে এবার ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে শক্তভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন শ্রমিক সংকটের কারণে যদি ফসল তোলা না যায় তবে সব আয়োজন বৃথা যাবে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে হলেও শ্রমিক আনিয়ে কষ্টার্জিত এ ফসল ঘরে তুলতেই হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন