ডিক্রিভূমি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাঠদান মাদ্রাসার বারান্দায়!
৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত স্কুল ভবন
ডিক্রিভূমি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাঠদান মাদ্রাসার বারান্দায়!

গফরগাঁওয়ের ডিক্রিভূমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী একটি নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার বারান্দায় চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। এতে মাদ্রাসার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ও অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম।

১৯৭৩ সালে ডিক্রিভূমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক ও ১৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে উক্ত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ১৪-১৫ বছর না যেতেই ছাদসহ ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ এই স্কুল ভবনটি ২০০৯ সালে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপরেও পরের তিন বছর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বিদ্যালয়টির পাঠদান চলে। ভাঙা ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হয় বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক। পরে বিদ্যালয়ের সামনে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান শুরু হয়।

২০১২ সালের অক্টোবর মাসে এ নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন মাত্র ৫ বান্ডিল টিন দিয়ে জানালা বিহীন একটি ছোট ঘর উঠিয়ে দেয়। এই ঘরে পাঠদানের পরিবেশ নেই। বর্ষা-বাদলের দিনে এই ঘরের মেঝে কাদা-পানিতে একাকার থাকে। গরমের দিনগুলোতে টিনের এই ছাপড়া ঘরে শিশুদের টেকা দায় হয়ে পড়ে। বিকল্প কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী প্রিন্সিপাল আব্দুল হাই নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার বারান্দায় বসিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিকরুল হক জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৯ বছর আগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিত্যক্ত ঘোষিত বিদ্যালয় ভবনকেই অফিসরুম হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোমেনা খাতুন, সাবিকুন্নাহার জানান—কখনও খোলা আকাশের নিচে, কখনো টিনের ছাপড়া ঘরে কিংবা মাদ্রাসার বারান্দায় ক্লাস নেওয়ার সময় উপকরণ ও পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অসুবিধা হয়।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শফিউল আলম জানান—বিদ্যালয় ভবন ৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিষয়টি জরুরি বিবেচনায় নিয়ে পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাদ্রাসার বারান্দায় এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ অতীব জরুরি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম জানান—এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে । অচিরেই এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন