দলাদলিতে ভেঙে পড়েছে বিসিসির শৃঙ্খলা, কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস

স্থায়ী কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পাশাপাশি মাস্টাররোল ও দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কর্মরতদের দলাদলিতে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে টানা একমাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে অচলাবস্থা কাটতে না কাটতেই সংঘাতে জড়াচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একে অপরের প্রতি বিষোদগারে নিজ দায়িত্ব ফেলে রেখে হামলা-মারধরে লিপ্ত হচ্ছেন। গত সোমবার বিসিসির ঠিকাদার মোমেন সিকদার কর্তৃক নির্বাহী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল কঠোরতার সাথে তদন্ত কমিটি গঠনসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার কর কর্মকর্তা আবুয়াল মাসুদ মামুনকে মারধর করে মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। মেয়র মোঃ আহসান হাবিব কামালের সামনেই নগর ভবন চত্বরে এ ঘটনার পর প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিসিসি’র শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ নামে পৃথক দুটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে তত্কালীন মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন  কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এ কমিটির সভাপতি বিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী খান মোঃ নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কর কর্মকর্তা আবুয়াল মাসুদ মামুন। ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠনের পর ২০১৭ সালে পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধাকে সভাপতি ও  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামানকে সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ দুই সংগঠনের মধ্যে তীব্র বিরোধ থাকায় নানান সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সম্পাদক কর কর্মকর্তা আবুয়াল মাসুদ মামুনকে মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা মারধর করে। এর পূর্বে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামানকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ ভূমিকা না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এড়াতে লাঞ্ছিতের পরদিন প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের অনেকেই বিসিসিতে আসেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিসি’র কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা পরিচয় দিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করা হয়ে থাকে। তাদের কক্ষের দরজায় লাথি মারা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হাত কেটে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। এতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার ১৭ বছর পার হলেও নানান জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী।

বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, তার যোগদানের দেড় বছরে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। দলাদলিতে শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না এমন অভিমত ব্যক্ত করে প্রধান নির্বাহী বলেন বিভিন্ন মেয়রের সময়ে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে যারা চাকরি পেয়েছেন তারা বিবাদে জড়াচ্ছে। এছাড়া প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বিসিসি মেয়র মোঃ আহসান হাবিব কামাল জানান, চাহিদার তিনগুণ শ্রমিক হওয়ায় বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে বেতন নেওয়া কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মচারী নানান প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। তিনি বলেন, প্রতিদিনই কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা তাদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে অসত্ কর্মচারীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত বলে মেয়র জানান।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন