সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী কার্গো জাহাজ উদ্ধারে অনিশ্চয়তা!
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাটিকে পুরোপুরি উদ্ধারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কয়লার জাহাজ ডুবির পর দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এটিতে ইতোমধ্যে তিনটি ফাটল খুঁজে পেয়েছেন ডুবুরিরা।

উদ্ধারকারীরা জানান, বর্তমানে কয়লা তোলার কাজ চলছে। দুই-একদিনের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। এরপর জাহাজটি উদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করা হবে। এরজন্য অন্তত ২০ দিন সময় লাগতে পারে। ডুবুরিরা জানান, এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সময় চাওয়া হবে।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের সুন্দরবনের অভ্যন্তরের হারবাড়িয়া এলাকায় ৭৭৫ টন কয়লা নিয়ে এমভি বিলাস নামে একটি কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। এ ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ জাহাজটি উদ্ধারে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়। এদিকে, ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজ এমভি বিলাসের মালিক ঢাকার ব্যবসায়ী মো. সোহেল। তিনি অসুস্থ থাকায় তার পরিবর্তে জাহাজটি উদ্ধারের তদারকি চালাচ্ছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. বাহারুল ইসলাম বাহার।

কয়লা ও কার্গো উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নৌযান শ্রমিক নেতা মো. বাহারুল ইসলাম বাহার বলেন, সুন্দরবনে কয়লার জাহাজ ডুবির পর শনিবার পর্যন্ত ১৫ দিন পার হয়েছে। তবে এখন কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছে। এরপর জাহাজ উত্তোলনে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, এখনও অন্তত ২০ দিন সময় লাগবে পুরো কাজ শেষ হতে। তবে এর আগেই বন্দরের বেঁধে দেওয়া ১৫ দিন সময় শেষ হচ্ছে। তাই আরো ২০ দিন সময় চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ডুবন্ত জাহাজটির কর্তৃপক্ষকে উদ্ধারের জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল। সে সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখন সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে।

এদিকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলেও এর ক্ষতিকারক পদার্থ পানি ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ডুবন্ত কার্গোটিতে নিম্নমানের পিট কয়লা রয়েছে। যশোরসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন ইটভাটা ও বিভিন্ন লোহার কারখানায় ব্যবহারের জন্য এগুলো আনা হয়েছিল। এই কয়লায় রয়েছে সালফার, সিসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, পারদ, নিকেল, সেলেনিয়াম, বেরিলিয়াম, রেডিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও আর্সেনিকের মতো প্রাণী ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সব পদার্থ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি এসব কয়লা পানিতে ভিজে থাকার কারণে এসব ক্ষতিকারক পদার্থ পানিতে ইতোমধ্যে মিশে গেছে। এসব পদার্থ মাটিতে মিশে মাটির গুণাগুণ নষ্ট করবে। এতে অঙ্কুরোদগম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরো বলেন, কয়লা জাহাজটি যে স্থানে ডুবেছে সেখানে ইরাবতী ডলফিনের বিচরণ ক্ষেত্র। কুমিরের প্রজননেরও সময় এটা। ফলে ডলফিন ও কুমিরের জীবনচক্র ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী।

সুন্দরবন নিয়ে গবেষণাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ঠেকাতে হবে। এ কার্গোডুবি প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট। তিনি বলেন, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা শর্ত মানছেন না। শর্তগুলো পালন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষেরও মনিটরিং নেই। 

এ দিকে, হাড়বাড়িয়ায় কয়লাসহ কার্গোডুবির ঘটনায় ১৯ এপ্রিল বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রাথমিক একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে সেই প্রতিবেদনে সুন্দরবন ও এর আশপাশের পরিবেশ ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কিছু বলা হয়নি। কার্গো উদ্ধার হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহিন কবির।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বনবিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ হয়নি। তবে কয়লার রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন