ছুটির দিনে উপচেপড়া ভিড়
বগুড়ায় উন্নয়ন মেলায় সবার চোখ ইভিএম মেশিনে
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
বগুড়ায় উন্নয়ন মেলায় সবার চোখ ইভিএম মেশিনে
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ায় চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায় প্রধান আকর্ষণ ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) এর প্রদর্শন ঘিরে। সামনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার কথা। তাই জনমনে এর ব্যবহার নিয়ে কৌতূহলের যেন শেষ নেই।

মেলায় জেলা নির্বাচন কমিশনের স্টলের সামনে দেখা যায় লম্বা লাইন। সেখানেই দাঁড়িয়ে অসীম নামে এক যুবক । এতো রোদের মধ্যে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কেন জানতে চাইলে অসীম বলেন, ‘আমি এবারই নতুন ভোটার হয়েছি। কিন্তু অনেক আগে থেকেই ইভিএম এর নাম শুনে থাকলেও এই ব্যাপারে কৌতূহল রয়েছে। ইভিএমের মাধ্যমে কিভাবে ভোট দিতে হয় তা বাস্তবে শেখার জন্যই এসেছি। জেলা নির্বাচন কমিশনের স্টলের সামনে অসীমের কৌতূহলের সঙ্গে আরও অনেক নতুন ভোটারের মিল খুঁজে পাওয়া গেল। চেলোপাড়া এলাকা থেকে আসা শান্তি নামে এক মহিলা বলেন, পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড বদল করে নতুন কার্ড নিতে আসছি। নতুন ভোটারদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মত। নামাজগড়ের শারমিন বলেন, ‘আমি এবারই নতুন ভোটার হয়েছি। স্মার্ট কার্ড নেওয়ার জন্যই মেলাতে এসেছি।‘ শাহজাহানপুর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন কৌতূহল নিয়ে আসা ভোটারদের হাতে কলমে ইভিএমের ব্যবহার দেখিয়ে দিচ্ছেন । তিনি বলেন, ‘ইভিএম হচ্ছে ভোট প্রদানের একটি সহজতর ব্যবস্থা। মেশিনটিতে একটি পূর্ব-প্রোগ্রামিং করা মাইক্রোচিফ থাকে যা প্রতিটি ভোটের ফলাফল তাত্ক্ষণিকভাবে হিসাব করে প্রদর্শন করে। এতে ব্যালটকাগজে সিল মারার পরিবর্তে ভোটার পছন্দের প্রতীকের পাশের সুইচ টিপে ভোট দিতে পারেন।বগুড়া সদর নির্বাচন কমিশনের অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ‘যারা এবার নতুন ভোটার হয়েছেন তাদের আমরা স্মার্ট কার্ড বিতরণ করছি। এমনকি যারা পুরাতন ভোটার রয়েছেন কিন্তু এখনো স্মার্ট কার্ড পান নি তাদের পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড জমা নিয়ে নতুন ভোটার আইডি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা বগুড়ায় দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আগমনে মেলা চত্বর গতকালও ছিল সরগরম। মেলায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরগুলোতে উল্লেখযোগ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা পরিলক্ষিত হয়।

গতকাল শুক্রবার উন্নয়ন মেলা চত্বরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)এর স্টলেও সেবা প্রদান করা হয়। বিআরটিএ’র পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মেদ জানান, মেলায় প্রথম দিন থেকেই মোটরসাইকেল চালকদের লাইসেন্সের জন্য যারা আবেদন করেছেন তাদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে তাত্ক্ষণিক লার্নার লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে। প্রথম দিন ৪৪ জনকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের স্টলে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৫০ জন সেবা গ্রহীতা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। এ দপ্তরের মাধ্যমে বিদেশগামী কারিগরি প্রশিক্ষণার্থীদের ভর্তি, ও তাত্ক্ষণিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহীদের বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের রেজিস্ট্রেশন, ভর্তি, ফিঙ্গার ইমপ্রেশন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ এবং পেশা নির্দেশনার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধান কার্যালয় থেকে উন্নয়ন মেলায় তদারকি করতে আসা জনশক্তি প্রশিক্ষণ উপ-পরিচালক (প্রশাসন) জহুরা মানসুর জানান, মেলায় প্রথম দিন তাত্ক্ষণিক ৫৪ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও ৮৮ জনকে ভর্তি করে নেয়া হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হলেও সেবা গ্রহীতার সংখ্যা অনেক বেশি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন