টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন
আওয়ামী লীগ বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দেড় ডজন প্রার্থী মাঠে
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
আওয়ামী লীগ বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দেড় ডজন প্রার্থী মাঠে

মোঃ মন্টু মিয়া, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের মত টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আওয়ামী লীগ বিএনপি জাতীয় পার্টির দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটাররা তাদের পছন্দ মতো প্রার্থী পেতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে প্রতিযোগিতা। এ কারণে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

জাতীয় সংসদের আসন ১৩৫, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত থাকলেও বর্তমানে মাঠ দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এ আসনে হেভিওয়েট সব প্রার্থী থাকায় জমে উঠেছে প্রচারণা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ ও ২০১৪ সাল ছাড়া আওয়ামী লীগ এ আসন থেকে জয়ী হতে পারেনি। এর বাইরে বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার ও একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আসন থেকে বিজয়ী হয়। এ আসনের বর্তমান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান- সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বর্তমান সাংসদ তাদের সম্পৃক্ত করেননি। আর এসব কারণে তৃণমূল আওয়ামী লীগের কাছে তিনি বেশ চাপে আছেন। তারপরও আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আহসানুল ইসলাম টিটু এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকদের নিয়ে মা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া এলাকার গরীব নিরীহ লোকদের সহযোগিতা, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখপড়ার খরচ, চিকিত্সা, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসায় অনুদান, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করে আসছেন।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, আমার লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতকে শক্তিশালী করা। আর এজন্য এই আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্র সুরক্ষা কমিটি গঠন করেছি। তাদের নেতৃত্বেই আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা মার্কার বিজয় রচিত হবে। এ আসন থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেওয়ায় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই জমে উঠেছে। সত্, নিষ্ঠাবান, স্পষ্টভাষীর মত ক্লিন ইমেজ রয়েছে তার। তিনি ছাড়াও এ আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও ধলেশ্বরী সেতু রাস্তা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তারেক শামস্ খান হিমু। তিনি এই আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে মনোনয়ন দেন তবে তিনি এ আসনটি তাকে উপহার দিবেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম এ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সভা-সমাবেশ করে জনগণের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ ইনসাফ আলী ওসমানীও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে এ আসনটিতে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন। এছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মোঃ খুরশিদ আলম বাবুল, টাঙ্গাইল জেলা মুজিব বাহিনীর গোয়েন্দা মোঃ ফজলুল হক মল্লিক। আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলামও এই আসন থেকে মনোনয়ন পাবার জন্য নাগরপুর ও দেলদুয়ারে গণসংযোগ করছেন।

অপরদিকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি হামলা মামলা উপেক্ষা করে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু তাহেরের মনোনয়নপত্র ঋণ খেলাপির দায়ে বাতিল হওয়ায় গৌতম চক্রবর্তী বিএনপিতে যোগদান করে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী খন্দকার আবদুল বাতেনকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণেই নির্বাচিত হতে পারেননি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সরব থেকেছি। আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইব। দল থেকে মনোনয়ন দিলে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা নুর মোহাম্মদ খান এ আসন থেকে দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নুর মোহাম্মদ খান এ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। এছাড়াও জেলা বিএনপির সাবেক নির্বাহী সদস্য মোঃ শরিফুল ইসলাম স্বপন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আরফান আলী মোল্লা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন খান এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা যায়।

এছাড়া বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের জেলা কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন আনু বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন থেকে মনোনয়ন চাইবেন। সাবেক এমপি আবুল কাশেম এই আসন থেকে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন