রাঙ্গাবালীতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ইউরিয়া
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

রাঙ্গাবালী উপজেলায় আমন মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় কৃষকদের কাছে ইউরিয়া সারের চাহিদা বাড়ার কারণে স্থানীয় সার বিক্রেতারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সঠিক দামে সার কিনতে না পারায় হতাশ কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে উফশী ও স্থানীয় জাতের ৩৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ করা হয়েছে। এ জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩৫০ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাহিদা থাকায় তখন উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২২০ টন। এ ছাড়া চলতি অক্টোবর মাসে ১৯৬ টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের দাবি, চলতি আমন মৌসুমে বৃষ্টি-বর্ষা তেমন হয়নি। সম্প্রতি টানা প্রখর রোদ থাকার কারণে কৃষকদের কাছে সারের চাহিদা অনেক বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকার কর্তৃক ইউরিয়া সারের ৫০ কেজির এক বস্তার দাম ৮০০ টাকা। অথচ সারের চাহিদা বেশি থাকায় উপজেলার বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার ও বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতারা ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকেরা চড়া দামেই সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে। যারফলে সার ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় হতাশ কৃষকরা।

সংশ্লিষ্ট অফিসের তথ্যমতে, এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সার বিক্রির জন্য চারজন বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে নয়জন করে খুচরা বিক্রেতা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের টুঙ্গীবাড়ীয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, ডিলার কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার কিনতে গেলে বলে—‘নাই’। কিন্তু বস্তাপ্রতি বাড়তি ১০০-১৫০ টাকা দিলেই তাদের কাছে সার পাওয়া যায়। সঠিকভাবে সংশ্লিষ্টদের তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমত দামে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছে।

বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত সার বিক্রেতা শাইমুন তালুকদার বলেন, “সরকার কর্তৃক ৫০ কেজির সারের বস্তা ৮০০ টাকা নির্ধারণ থাকলেও আমাদের কেরিং কষ্ট (পরিবহন) বেশি থাকায় ৮৫০ টাকা বিক্রি করতে হয়। তবে স্থানীয় সব কৃষকেরা বাড়তি মূল্যের কথা বলে না, আমার হয়তো এন্ট্রি (প্রতিপক্ষ) লোকজন এসব বলে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ধীমেন মজুমদার বলেন, ‘বেশি দামে যাতে সার বিক্রি করতে না পারে, এজন্য মনিটরিং করা হচ্ছে। বেশি দামে সার বিক্রি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ মৌসুমে বৃষ্টি-বর্ষা কম। কিছুদিন ধরে টানা রোদ থাকায় কৃষকদের কাছে সারের চাহিদা বেশি। চলতি মাসের বরাদ্দের সার কয়েকদিনের মধ্যে এলেই কৃষকদের চাহিদা মিটবে বলে আশা করি।’

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন