প্রফেসর মাওলানা আব্দুল মান্নান
প্রফেসর এম এ হালিম২৯ মে, ২০১৫ ইং
প্রফেসর মাওলানা আব্দুল মান্নান
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাওলানা আব্দুল মান্নান গত ৭ মে ২০১৫ ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মরহুম আব্দুল মান্নান মাদ্রাসা ও ইংরেজি উভয় শিক্ষায় শিক্ষিত এক অনন্য প্রতিভা। আরবি উর্দু, ফার্সি ও নিজ বিষয় রাষ্ট্র বিজ্ঞানে ছিল তার অগাধ পাণ্ডিত্য। তার জন্ম ১৯৩৭ সালে সিলেটের মোগলাবাজারে। তিনি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন।  ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক রচিত ‘ইসলামি বিশ্বকোষ’ সম্পাদনা পরিষদের তিনি একজন অন্যতম সদস্য ছিলেন। ইসলামি পরিমণ্ডলে তাঁর নাম ও প্রতিপত্তি আজও সমাদৃত। চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন স্থান ঘুরে ফিরে আবার ফিরে আসেন তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান এমসি কলেজে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে (১৯৮৭-৮৮) তিনি দায়িত্ব পালন করেন। সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা (১৯৮৬-৮৭) ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসারও (১৯৮৩-১৯৮৪) এককালের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি অবসরে যান ১৯৯৩ সালে। তিনি ১৯৮৪ সালে এবং ১৯৮৯-৯৩ মেয়াদে দু’দফায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। শ্মশ্রুমণ্ডিত সুঠাম দেহের অধিকারী মাওলানা মান্নান চিন্তা-চেতনায়, ধ্যান-ধারণায়, ভাব-আদর্শে ইসলামি ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের ধারক ও বাহক ছিলেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই গ্রহণ করেন মনে-প্রাণে, অন্তরে-বাইরে। বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকে তিনি একজন খাঁটি মুসলমান ও একনিষ্ঠ ধর্মপরায়ণ ছিলেন। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল, দৃঢ়চেতা ও আপোসহীন—সত্যিকার ইমানি তেজে উদ্দীপ্ত।

অধ্যাপনায় নিজ কর্তব্যের বাইরে জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি ব্যয় করেন ইসলাম প্রচার ও প্রসারে। ‘ওয়াজ’ বা ধর্মীয় ভাষণ ও ‘নসিহত’ তথা ধর্মোপদেশের ব্রত নিয়েই যেন তার জন্ম। দরাজ গলায় ও দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি ধর্ম-বাণী প্রচার করতেন— উদ্বুদ্ধ করতেন মানুষকে ইসলামের সঠিক পথ অনুসরণের জন্য। ধর্মের প্রকৃত ব্যাখ্যায় তাঁর যুক্তি ও সাবলীল ভাষণ এবং নিজ আদর্শ ও ন্যায়-নীতির প্রভাবে বহু লোক তাঁর একান্ত অনুগত হয়ে ওঠে। একটি আশ্চর্য বিষয় লক্ষ করেছি, কর্মস্থল কলেজে এসে তিনি এসব বিন্দু-বিসর্গ আলোচনা করতেন না। এ পর্যায়ে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত শিক্ষক। সকলের সঙ্গে মিলে-মিশে থাকতেন— তবে নিজ বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। শিক্ষার্থীরা তাঁকে যথেষ্ট ভক্তি ও শ্রদ্ধা করতো।

আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় সিলেট এমসি কলেজের সহকর্মী হিসেবে। আমরা সতীর্থ, তবে বয়স ও জ্যেষ্ঠতার কারণে আমি তাঁকে যথেষ্ট সমীহ করতাম। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বন্ধুসুলভ। তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল একাডেমিক আলোচনা ও প্রশাসনিক বিষয়ে। তিনি ছিলেন খুবই বন্ধুত্ব সম্পন্ন রুচিশীল, মার্জিত মুসলিম আদর্শে গড়া একজন পরিপূর্ণ মানুষ। ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে এ আধুনিকতার যুগেও কীভাবে তিনি ইসলামি মূল্যবোধের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে চলেছিলেন। আমার টুকটাক লেখালেখিতে তাঁর অনুপ্রেরণা প্রদান ও সাহায্য-সহযোগিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। এক কথায় আমি তাঁর কাছে ঋণী। ইসলামি বিষয়ে আমার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বিদূরণে তাঁর বর্তমান অনুপস্থিতি আজ গভীরভাবে অনুভব করছি। সিলেট শাহজালাল দরগাহ মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে মানিক পীরের টিলায় মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। প্রিয় সহকর্মীর মৃত্যুতে আমি মর্মাহত, শোকাহত। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসীব করুন।

lলেখক : দর্শন শাস্ত্রবিদ ও সাবেক অধ্যক্ষ, এমসি কলেজ, সিলেট

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন