মদীনার ঐতিহাসিক মসজিদের পরিচয়
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান০২ অক্টোবর, ২০১৫ ইং
মদীনার ঐতিহাসিক মসজিদের পরিচয়
ম দীনায় বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে। তন্মধ্যে কিবলাতাঈন মসজিদ অন্যতম। এ মসজিদে একই নামাজ দুই কিবলামুখী হয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। মদীনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (স) যখন বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করছিলেন, তখন কাবা শরিফকে কিবলা বানানো তাঁর অন্তরে বাসনা ছিল। এসময় কিবলা পরিবর্তন সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘আকাশের দিকে তোমার বার বার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ করি। সুতরাং তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ করো। অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪২)।  নবী করিম (স) নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে ওহি পাওয়ার পর বায়তুল মুকাদ্দাস বা ‘মসজিদ আল-আকসা’ থেকে বায়তুল্লাহ বা কাবাগৃহের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নামাজের মাঝখানে মক্কামুখী হয়ে পরবর্তী অংশ সম্পন্ন করেন। এজন্য এ মসজিদের নাম ‘কিবলাতাঈন’ অর্থাত্ ‘দুই কিবলা মসজিদ’ রাখা হয়। মসজিদের ভেতরে মূল পুরোনো মসজিদের অংশ অক্ষত রেখে চারদিকে দালান করে মসজিদটি সমপ্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন মসজিদগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো এখানে।

মসজিদে কুবা: মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স) মদিনায় আগমন করে প্রথম শহরের প্রবেশদ্বারে কুবায় নামাজ পড়েন। পরে এখানে একটি মসজিদ গড়ে ওঠে, যেটি প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রতি শনিবার হেঁটে অথবা বাহনে করে মসজিদে কুবা যিয়ারত করতেন। মসজিদে কুবায় এসে হাজিরা দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারেন। আর কেউ সেখানে সালাত আদায় করলে তার পরিবর্তে উমরাহর সওয়াব দেয়া হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আপন ঘর থেকে পবিত্রতা অর্জন বা অজু করে মসজিদে কুবায় আসবে, অতঃপর এতে সালাত আদায় করবে, তাকে একটি উমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব দেয়া হবে।’ (ইবনে মাজা)

মসজিদে মিকাত: মদীনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে মসজিদে নববী হতে ১৪ কিলোমিটার দূরে এ মসজিদটি অবস্থিত। ঐতিহাসিক ‘আকীক উপত্যকা’র পশ্চিম পাশে মসজিদটি রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (স) হজ বা উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাওয়ার সময় এখানকার একটি গাছের নিচে অবতরণ করতেন এবং সেখানে সালাত আদায় করে উমরাহ অথবা হজের ইহরাম বাঁধতেন। এ কারণেই মসজিদটিকে ‘শাজারাহ্’ বলা হয়। মদীনাবাসীর মিকাত বলে এ মসজিদটি ‘মসজিদে মিকাত’ নামেও পরিচিত।

মসজিদে জুমু’আ: রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় হিজরতের সময় কুবার অদূরে রানুনা উপত্যকায় ১০০ জন সাহাবাকে নিয়ে মসজিদে জুমু’আর স্থানে প্রথম জুমু’আর নামাজ আদায় করেন।

মসজিদে গামামাহ: এ মসজিদকে মোসাল্লাহও বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় প্রথম ঈদের নামাজ ও শেষ জীবনের ঈদের সালাতগুলো মসজিদে গামামাহর স্থানে আদায় করেন। এ স্থানে নবী করিম (স) বৃষ্টির জন্য ‘ইসতিশ্কার নামাজ’ পড়েছেন বলে একে ‘মসজিদে গামামাহ’ বলা হয়। এটি মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত।

সাহাবা মসজিদ: মদীনায় মসজিদে নববীর উত্তর দিকের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া যাবে সাহাবাদের মসজিদ। পাশাপাশি দু’টি এবং একটি একটু দূরে একই ডিজাইনে করা তিনটি মসজিদ। এগুলোকে ‘সাহাবা মসজিদ’ বলা হয়।

মসজিদে আবু বকর (রা): এটি মসজিদে গামামাহর উত্তরে অবস্থিত। হজরত আবু বকর (রা) খলিফা থাকাকালে এ মসজিদে ঈদের সালাত পড়ান। তাই এটি মসজিদে আবু বকর (রা) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। 

মদীনার দর্শনযোগ্য আরও কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ হলো-মসজিদে ওমর বিন খাত্তাব, মসজিদে আলী বিন আবি তালেব, মসজিদে ফাতিমা, মসজিদে আল-ফাতাহ, মসজিদে যুল হুলাইফা প্রভৃতি। সব মিলিয়ে মদীনার মসজিদগুলোতে মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মদীনার এসব মসজিদের স্মৃতিময় স্থানগুলো স্বচক্ষে দেখে মুসলমানদের ঈমান আরও বলিষ্ঠ ও তেজোদীপ্ত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। 

লেখক: চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ ও দাওয়াহ বিভাগ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমণ্ডি, ঢাকা। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (স)

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ অক্টোবর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৯
আসর৪:০৬
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০১
সূর্যোদয় - ৫:৫০সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন