মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের অবদান
৩০ মার্চ, ২০১৮ ইং

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

 

১৯৭১ সালে কোনো কোনো ওলামায়ে কেরাম বয়ান-বক্তৃতার মাধ্যমে জনসাধারণকে মহান মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আবার কেউ কেউ নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই করেছেন। আলেম সমাজের মাঝে যিনি সর্বপ্রথম পশ্চিম পাকিস্তানের জালেম শাসকদের জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে মুক্তি সংগ্রামের হুংকার দিয়েছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বদলীয় মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনি আলেম সমাজেরই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (রহ)। মহান মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আলেম সমাজেরই আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ (রহ)। তার পরামর্শে অসংখ্য মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় আলেমকুল শিরোমনি হযরত মাওলানা হাফেজ্জি হুজুর (রহ) দ্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, পাকিস্তানীরা বাঙালিদের উপর জুলুম করেছে, সুতরাং তারা জালেম। জুলুম আর ইসলাম এক হতে পারে না। তুমি যদি মুসলমান হও, তবে পাকিস্তানিদের পক্ষে যাও কিভাবে? এটা তো জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের প্রতিরোধ।  

২৬ শে মার্চ পাক হানাদারদের গুলিতে নির্মমভাবে শহীদ হন হাতিরপুল জামে মসজিদের ইমাম। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম হযরত মাওলানা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ (রহ) এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় আমার দায়িত্ব ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও যুব সমাজকে যুদ্ধে অংশগ্রহণে উত্সাহিত করা’। এ ছাড়াও আল্লামা দানেশ, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ বিন সাইদ জালালাবাদী, মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী, মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদসহ আরো অনেক দেশপ্রেমিক ওলামায়ে কেরাম বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সার্টিফিকেট প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।

lলেখক : মুফাসিসরে কুরআন,  ইসলামী গবেষক ও খতিব

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৭
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৭
এশা৭:৩০
সূর্যোদয় - ৫:৫৩সূর্যাস্ত - ০৬:১২
পড়ুন