অপ্রাপ্তির মাতম ছেড়ে সহযোগিতার কৌশল বিনির্মাণ করতে হবে
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
অপ্রাপ্তির মাতম ছেড়ে সহযোগিতার কৌশল বিনির্মাণ করতে হবে
সম্পর্ক

মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশীদ (অব)

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির ঢাকা সফর নিয়ে দেশে ও বিদেশে খুব উত্সাহ থাকলেও বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতির অপ্রত্যাশিত বাঁক নিয়ে চাঞ্চল্যের কমতি ছিল না। ৪১ বছর ধরে পড়ে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তি ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষে রাজ্য ও রাজনীতি ভেদে সর্বসম্মতির হাওয়া তিস্তা নদীতে পানির তোড় তুলতে না পারলেও  ভারত বিদ্বেষী রাজনীতিতে বড় ধরনের ঘূর্ণিবায়ুর সৃষ্টি করেছে। মোদিকে গণতন্ত্রের ত্রাণকর্তা মেনে একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব খাটানোর আর্জি পেশ রাস্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার বিকাশ না বিনাস সেই পার্থক্য বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। মোদির অনুকম্পা নিয়ে খেলার ফানুসটি ফেটে গেছে বিদায়ের আগ মুহূর্তের তার ঘন্টাব্যাপী মনমুগ্ধকর ও খোলামেলা নাগরিক ভাষণের মধ্য দিয়ে। দুই দেশের মধ্যেকার সম্প্রীতির দ্বি-পাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্ব, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের অতীত ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির বন্ধন, সহযোগিতার মনখোলা অঙ্গিকার অনন্য ভাষা শৈলীতে সমৃদ্ধ কথাগুলো সবাইকে চমত্কৃত করেছিল। দুই দেশের মানুষ পাশাপাশি থেকে উন্নতির লক্ষ্যে একসাথে চলার অপরিহার্যতা বুঝতে পেরেছে সহজেই। সুসম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থরক্ষা ও অমীমাংসিত বিষয়ের সহজ সুরাহার প্রতি আন্তরিকতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে দুই দেশের সরকারের উদ্যোগের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির বেড়া অতিক্রম করে বিশ্ব বলয়ে প্রভাব ফেলেছে। মোদীর সফর নিয়ে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি ভারতের “প্রতিবেশী আগে” নীতি ক্রমেই পাকিস্তানকে একঘরে করে ফেলছে। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক বঙ্গোপসাগর পাড়ের সব দেশগুলোকে নতুন বলয় তৈরিতে অনুঘটক হয়ে কাজ করবে। গড়ে ওঠা নতুন মোরচা একদিকে উত্তর ভারত মহাসাগরে প্রভাব ছড়াবে অপরদিকে পাকিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়ায় একঘরে করে দেবে। জঙ্গিবাদের স্নায়ুকেন্দ্র পাকিস্তান এমনিতেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে সবার নিরাপত্তা হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোদির ঢাকা সফর নিঃসন্দেহে দুই দেশের কূটনীতির বিরাট সাফল্য।  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বি-পাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার কৌশল প্রণয়নে অনন্য ভূমিকা অনস্বীকার্য। দুই দেশের মানুষকে অনেক কাছে নিয়ে এসেছে একে অপরের। তার প্রতিধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে স্থল সীমানা চুক্তির বাস্তবায়ন পেয়ে বাংলাদেশ যেমন খুশি,  ভারতের পত্র- পত্রিকাও অনেক সাফল্যের কথা ফলাও করে ছাপছে। দুই দেশের জয় জয় ভাব সম্পর্কের প্রাচীন ধারণাকে গুড়িয়ে দিয়ে নতুন উষ্ণতা সৃষ্টি করেছে। মোদীকে দৃশ্যত স্বাগত জানাতে পেরেছে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল। এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সম্পর্ককে টেকসই রূপ দিয়ে সহযোগিতার সোপান তৈরি করে উন্নয়নের পথে যাত্রাকে সঠিক দিকে এগিয়ে নেয়া। ভবিষ্যতের দক্ষিণ এশিয়ার রুপকল্প তৈরিতে এই সফর বড় ধরনের সফলতা পেয়েছে। সমালোচকরা যাই বলুক সম্পর্কের সূচকগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত বিষয়ের দ্রুত সুরাহার ইঙ্গিত বহন করছে। নিরাপত্তার স্পর্শকাতর দিকগুলোর প্রতি উভয় দেশের সংবেদনশীলতা থেকে অনাস্থা ও অবিশ্বাসের  দেয়াল ধসে গিয়ে  সম্প্রীতির নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দিয়েছে। ভৌত সংযোগের সাথে মানুষের মনের সংযোগ বন্ধুত্বকে শক্ত ভিত্তি দিতে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নতুন সংহতি বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে।  

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার অমীমাংসিত বিষয়ের চূড়ায় আছে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধ। তারপরেই রয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। অপরদিকে আঞ্চলিক সংহতির জন্য জরুরি যাত্রী ও পণ্যের অবাধ চলাচলের জন্য রেল, নদী ও সড়ক যোগাযোগ। জ্বালানি সহযোগিতা। তিস্তা পানি চুক্তি সম্পন্ন না হওয়াকে বাংলাদেশের বড় অপ্রাপ্তি বলে প্রচার চালাচ্ছেন অনেকে এমনকি  কূটনীতির ব্যর্থতা বলে গলা ফাটাচ্ছেন। তিস্তার পানি নিয়ে মমতার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মোদীর সফরে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি  কার্যসূচিতে ঢোকানো হয়নি এটা অনেকই বেমালুম চেপে যাচ্ছেন।  প্রত্যাশার বাত্যয়কে বড় ধরনের অপ্রাপ্তি হিসাবে চিহ্নিত করে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা লক্ষ্যণীয়। উভয় দেশের কূটনীতির গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে খুব পরিষ্কার যে তিস্তা পানি চুক্তি সার্থকতার মুখ দেখবে অতিসত্ত্বর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি পানি নিয়ে রাজনীতি করবেন না কারণ এটা মানবিক বিষয়। তবে মোদী ও মমতার মতের পার্থক্য অচিরেই মিটবে সেটা মমতার সফরসঙ্গি হওয়া থেকে বোঝা গেছে। মমতাকে পাশে না রেখে চুক্তি হলে ভারতের রাজনীতির উত্তাপের কাছে বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হবে তা এড়াতেই এতো আয়োজন। পশ্চিমবঙ্গের আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণে তিস্তা একটি বড় উপাদান। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টিকফা চুক্তি কতবার টেবিলে এসেছে আর ফেরত গিয়েছে তার হিসাব জানা থাকলে তিস্তা চুক্তি না হওয়াকে মুখ্য অপ্রাপ্তি বানিয়ে বাংলাদেশ কিছুই পাইনি বলে মাতম কূটনীতির বড় বিভ্রান্তি।     উন্নয়ন ও বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দরকার সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনার সুফল আনতে ৫ থেকে ১০ বছর পার হয়ে যাবে। আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো সীমিত যোগাযোগের দুরাবস্থা থেকে যেমন মুক্তি পাবে বাংলাদেশও হবে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। এশিয়া ও আঞ্চলিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক যেন বাংলাদেশকে এড়িয়ে যেতে না পারে সেটাই হবে বাংলাদেশের সাফল্য। যোগাযোগের নির্ভরতা বাড়াবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব। শুধু চলাচলের মাশুল নয় যোগাযোগ সহায়ক সেবাখাতের প্রসার ঘটবে দেশে। পণ্য চলাচলের চাপ ও আবশ্যিকতা যতই বাড়বে যোগাযোগ অবকাঠামোর আন্তর্জাতিক মান অর্জন ততই দ্রুত হবে। উপকূলীয় নৌ-যোগাযোগ ও বন্দর ব্যবহারের সুযোগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা ও পরিবর্তন আনবে সেই সাথে আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসার বাণিজ্য বহুমুখীকরণে ভূমিকা রাখবে। বন্দরবিহীন দেশ ও অঞ্চলগুলো দেখবে নতুন সম্ভাবনার আলো। আঞ্চলিক যোগাযোগের সাফল্য থেকে আন্তঃ আঞ্চলিক যোগাযোগের ভিত্তি গড়ে উঠবে।

দেশের মধ্যে সহযোগিতার মূল স্তম্ভ হচ্ছে পারস্পরিক স্বার্থ। এটা জিরো সাম গেম হলে সহযোগিতা টেকসই হতে পারে না। একজনের লাভ অন্যের লোকসান হলে সহযোগিতা মুখ থুবড়ে পড়বে। আঞ্চলিক যোগাযোগ শুধু উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোকে সুবিধা দেবে এই ধারণা অমূলক কারণ এশিয়া, আঞ্চলিক ও আন্তঃ আঞ্চলিক যোগাযোগের অনেক উদ্যোগ দেখা গেছে। এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক, বিসিআইএম উদ্যোগ চলমান রয়েছে এবং অধুনা চীন প্রাচীন সিল্ক রুটকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্য রেখে কাজ করে চলেছে। বাণিজ্য প্রসারে আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে উঠলেও পাকিস্তানের আপত্তির কারণে ভেস্তে যায়। পাকিস্তানি বিরোধিতার কারণ আঞ্চলিক স্বার্থের পক্ষে ছিল না বলে তত্ক্ষণাত্ উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগ “বিবিআইএন” নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পাকিস্তান নিজ ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়েছে চীনকে বিকল্প পথ নির্মাণ করতে। চীন পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের সাথে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগের পরিকল্পনা নিয়েছে।  

রাজনীতির সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে দেশের স্বার্থরক্ষা বা এগিয়ে নেয়া কোনটাই সম্ভব না। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বিশ্ব সমীকরণের বাইরে থেকে বিচ্ছিন্নতার নীতি অনুসরণ করলে চলবে না। ভারত-বাংলাদেশের সাথে সম্পাদিত ২২টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে নয় বলে যারা গলা ফাটাচ্ছেন তারা বাংলাদেশের স্বার্থকে চিহ্নিত করেছেন বলে মনে হয় না বরং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার সাথে গলা মেলাতেই বেশি পছন্দ করেছেন। বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে। মুক্ত বাণিজ্যে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সুবিধার সাথে উপযোগী পণ্য উত্পাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি করতে পারলে বাণিজ্যে গতি আরো বাড়তো অপরদিকে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকে উত্সাহিত করতো।

বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখার ধারণা নিয়ে অতি দেশপ্রেমী সাজা সাময়িকভাবে সহজ হলেও বেশি দূর যাওয়ার আগেই হুমড়ি খেতে হবে। উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে রাজনৈতিক সমঝোতার উপাদান হিসাবে নিতে না পারলে রাজনীতি ভিমরি খাবে এবং দেশের স্বার্থেরও জলাঞ্জলি ঘটবে। তিনদিক দিয়ে ঘেরা প্রতিবেশী হিসাবে ভারতের গুরুত্ব আমাদের কাছে যেমন ভারতের মাঝখানে থাকা বাংলাদেশও ভারতের কাছে তেমনই গুরুত্বের অধিকারী। ভৌগলিকভাবে জড়িয়ে থাকা দুই দেশের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে দরকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতা। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্তম্ভ হতে চলেছে দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্ট নতুন আস্থা ও বিশ্বাস। একে অপরকে বাদ দিয়ে চলার নীতি কোন দেশের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না। আঞ্চলিক সংহতির অর্থ অঞ্চলের বাইরের শক্তির সাথে বৈরিতা নয়। উন্নয়ন ও বাণিজ্যের অংশীদার হিসাবে ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশ নীতি পরাশক্তির সঙ্গত আচরণ ও সহযোগিতা পেতে সাহায্য করবে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সহযোগিতার সাথে পীড়নমূলক আচরণ থেকে রেহাই পেতে দেশীয় ও আঞ্চলিক সক্ষমতা অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রভাব অনেক সুদূর প্রসারী ও গুরুত্ব বহন করে। বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় দেশগুলোর সমুদ্র সম্পদ আহরণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অপ্রতুলতার কারণে সাগর নিয়ে “নীল অর্থনীতি” গড়তে দরকার সহযোগিতা ও প্রযুক্তির বিনিময়। প্রতিবেশী ও উপকূলীয় দেশগুলোকে নিয়ে নতুন ভাবনা ভাবতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে কাজ করবে অন্য দেশগুলোর জন্য। প্রতিবেশী বৈরিতার বিষ না ছড়িয়ে অপ্রাপ্তির জন্য বুক না ফাটিয়ে প্রাপ্তিযোগ ঘটাতে চায় আন্তরিক উদ্যোগ, কূটনীতির সুনিপুণতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সমঝোতার গঠনমূলক রাজনীতি।  

n লেখক :স্ট্রাটেজি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল’ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আই ক্লডস) এর নির্বাহী পরিচালক

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন