নটর ডেম, হলিক্রস, সেন্ট যোসেফ কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গ
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
শিক্ষা

বিপ্লব ফারুক

নটর ডেম, হলিক্রস ও সেন্ট যোসেফ কলেজ মূলত সম্পূর্ণই একটি মিশনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের শিক্ষা বাণিজ্যের আগ্রাসী থাবা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তারা সরকারি একটি পয়সাও অনুদান হিসেবে গ্রহণ করে না। সেহেতু সরকারের ভর্তি নীতিমালা অন্তত মিশনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযোজ্য হতে পারে না, কিন্তু শিক্ষা কর্তৃপক্ষের একটি অংশ শুরু থেকেই এই ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই নীতিমালা প্রয়োগ করতে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। প্রথম বছরই নটর ডেম কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের আদর্শ ও লক্ষ্যের পরিপন্থী হওয়ায় ভর্তি নীতিমালা প্রয়োগে অপারগতা প্রকাশ করে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহ্য ও আদর্শকে মর্যাদা ও গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। এ রকম চাপের মুখে বাধ্য হয়ে নটর ডেম কলেজ কর্তৃপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়। মহামান্য আদালত নটর ডেম কলেজের ঐতিহ্য প্রতিশ্রুতি, আদর্শ ও লক্ষ্য অটুট রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই নীতিমালার আওতামুক্ত হিসেবে রায় প্রদান করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরপর ৩বার এবং এবারও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের নীতিমালা নটর ডেম কলেজসহ আরো ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। পারস্পরিক কোনো আলোচনা ছাড়াই এক তরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, যেহেতু আদালত ৩বার রায় প্রদান করেছেন সেহেতু ওই রায় যতদিন বলবত্ থাকবে ততদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণীয় হস্তক্ষেপ পড়বে না। কিন্তু তা হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয় যে, তার ওপর কর্তৃত্ব আরোপ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানুষ গড়ে, সমাজ গড়ে সর্বোপরি রাষ্ট্র বিনির্মাণ করে।

অথচ শিক্ষার মান ও আদর্শকে অর্থাত্ শিক্ষাকে ব্রত হিসেবে নিয়েছে এরকম কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম বললে প্রথমেই উঠে আসে নটর ডেম, হলিক্রস ও সেন্ট যোসেফসহ মিশনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ক্যাথলিক চার্চ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারের আইনের আওতার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব কিছু রীতি নীতি অনুসরণপূর্বক যুগোপযোগী এবং ফলপ্রসূ শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে সমাজ—রাষ্ট্র বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্যাথলিক চার্চ বিগত ৪শ বছর ধরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ লক্ষ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যেন সত্, আত্মবিশ্বাসী, অসামপ্রদায়িক চেতনাসম্পন্ন একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে ভবিষ্যতে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পালনে সক্ষম হয়। এজন্যই দেখা যায়, নটর ডেম, হলিক্রস ও সেন্ট যোসেফসহ দেশের মিশনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা ছাত্র—ছাত্রীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের এই প্রতিষ্ঠা কেবল একজন ক্যারিয়ারিষ্ট হিসেবেই নয়, তাদের অনেকেই সত্—নীতি-আদর্শসম্পন্ন মানুষ হিসেবেও সুপরিচিত। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য মানুষ গড়া ও সমাজ বিনির্মাণ করা সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকল দেশেই সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। আমাদের দেশে সকল কিছুই চলে রাজনৈতিক বিবেচনায়। শিক্ষা ক্ষেত্রেও অসুস্থ সেই রাজনৈতিক চিন্তার বাইরে নয়। এজন্য এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও শিক্ষার মূল লক্ষ্যের পরিপন্থী নীতিমালার প্রয়োগে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হয়। শিক্ষা ও ধর্ম—সমান্তরাল। ধর্মের ক্ষেত্রে যেমন মূল মর্মবাণীর পরিপন্থী কোনো কিছু গ্রহণীয় হতে পারে না। শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নটর ডেম, হলিক্রস ও সেন্ট যোসেফ কলেজ তাদের আদর্শ ও লক্ষ্যের পরিপন্থী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা মেনে না নিয়ে মহামান্য আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে, তাকে সাধুবাদ জানাই। শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কার হতে পারে তবে তা হবে অনেক ভেবে চিন্তে। এর ভালো মন্দ—দুই ফলই হয় দীর্ঘমেয়াদি। এজন্য নটর ডেম, হলিক্রস ও সেন্ট যোসেফ কলেজের নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়া বহাল রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগামীদিনের সিদ্ধান্ত, নীতিমালার দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় যেন থাকে, সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

n লেখক :কবি, কথাশিল্পী ও প্রকাশক

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন