দেখে আসুন বিমানবাহিনী জাদুঘর
২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
দেখে আসুন বিমানবাহিনী জাদুঘর
সংগ্রহশালা

সৈয়দ রশিদ আলম

প্রথম মহাযুদ্ধ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, ইরাক-ইরান যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে এর মধ্যে সাফল্য তারাই পেয়েছে যারা আকাশ জুড়ে সাফল্য দেখাতে পেরেছে। ন্যাটোজোটের সাফল্যের পিছনে কাজ করে তার শক্তিশালী বিমান বহর ও বিমান হামলা। আমাদের দেশে বিমানবাহিনীও আস্তে আস্তে শক্তিশালী বিমানবাহিনীতে পরিণত হচ্ছে। যারা আগামীদিনের বিমানযোদ্ধা হতে চায়, আকাশ জয় করতে চায়, তাদের নিশ্চই ছোটকাল থেকে বিমানসেনা হবার স্বপ্ন দেখতে হবে। তাদের সেই স্বপ্নকে পূর্ণতা দেয়া হয়েছে নবগঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরে। যারা এই জাদুঘর পরিদর্শন করবেন তারা স্বপ্ন দেখবেন একদিন তারাও দেশ ও জাতির প্রয়োজনে বাংলার আকাশকে নিরাপদ রাখবেন। আর এই স্বপ্ন পূরণের জন্য একবারের জন্য হলেও আপনাকে যেতে হবে ঢাকার আগারগাঁও-এ অবস্থিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরে। হলিউডের সুপারহিট মুভি টমক্রুজ অভিনীত টপগান ছবিটি যারা দেখেছেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যেই আকাশযোদ্ধা হয়েছেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে এই বিমানবাহিনী জাদুঘর সবার কাছে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। ২০ টাকা টিকেটের বিনিময় আপনি যখন বিমানবাহিনী জাদুঘরে প্রবেশ করবেন তখন আপনার মনে হবে আপনি কোন বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করেছেন। প্রবেশ করার সাথেই হিমাদ্রি নামে একটি সেলস সেন্টার দেখতে পাবেন। সেখানে বিমানবাহিনীর বিভিন্ন রেপ্লিকা বিমান, হেলিকাপ্টারসহ একাধিক সংগ্রহযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম থেকেই এ পর্যন্ত আমাদের গর্বের বিমানবাহিনীতে যে সকল বিমান ও অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, তা বিমানবাহিনী জাদুঘর পরিদর্শন করে তা দেখতে পাবেন। এখানে মোট বাইশটি বিভিন্ন শ্রেণির বিমান ও হেলিকপ্টার প্রদর্শিত হচ্ছে। যেমন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান ডাকোটা, দুটি হেলিকপ্টার, দুটি রাডার, রাশিয়ার তৈরি বিশাল আকৃতির দুটি এমআই-৮ পরিবহন বিমান, জি ন্যাট প্রশিক্ষণ বিমান, হান্টার জঙ্গি বিমান, এ-৫ প্রশিক্ষণ বিমান, মিগ-২১ জঙ্গী বিমান, কানাডার তৈরি ডি.এইচই৩/১০০০ অটার প্রশিক্ষণ বিমান, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টি-৩৭ প্রশিক্ষণ বিমান, ফ্রান্সের তৈরি ফুগাসি এম-১৭০ প্রশিক্ষণ বিমান, চীনের তৈরি পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান, জার্মানির তৈরি গাইডার প্রশিক্ষণ বিমান, নিউজিল্যান্ডের তৈরি এয়ার টুওয়ার প্রশিক্ষণ বিমান, ইতালির তৈরি এ্যালিউট হেলিকপ্টার। স্কুলের ছেলে-মেয়েরা মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানে তারা প্রবেশ করতে পারবেন। সেই সাথে ছবি তুলতে পারবেন। আগামীতে এই বিমানবাহিনী জাদুঘরে আরও নতুন যুদ্ধবিমান প্রদর্শিত হবে। যারা এখন থেকে স্বপ্ন দেখছেন বিমানযোদ্ধা হবার, তাদের উচিত অন্তত একবার বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘর পরিদর্শন করা। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিমানবাহিনী জাদুঘর খোলা থাকে। শুক্র ও শনিবার সকাল ১০.০০টা থেকে রাত ৮.০০টা পর্যন্ত এই জাদুঘর খোলা থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। শিশু-কিশোরদের নিয়ে বাবা-মারা যখন বিমানবাহিনী জাদুঘর ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, তখন তাদের জন্য একটি ছোট ফাস্ট ফুডের দোকান খোলা হয়েছে, এটির নামকরণ হয়েছে স্কাই মেন্যু। এই দোকানে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের খাবার ও কোমল পানীয় আপনারা পাবেন। শিশুদের ঘোরাফেরার জন্য চাইল্ড কর্ণার নামে একটি ক্ষুদ্র পরিসরে পার্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪/৫ শত দর্শনার্থী বিমানবাহিনী জাদুঘর পরিদর্শন করছেন। যারা একবার বিমানবাহিনী জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন, তারা বার বার ছুটে যাচ্ছেন। কারণ সেখানে গিয়ে তারা স্বস্তিবোধ করছেন, আনন্দ পাচ্ছেন, শিক্ষা অর্জন করছেন। সেটা অনেক জাদুঘরে গিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যেসকল বিমান আমাদের স্বাধীনতার জন্য আকাশে হানাদার পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আকাশ জয় করেছে, স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই করেছে সেসব স্মৃতি বিজড়িত বিমানও এই জাদুঘর পরিদর্শন করার পর দেখতে পাবেন। এই জাদুঘর পরিদর্শন করার পর আপনার ভিতর প্রত্যাশা তৈরি হয়ে যাবে আমিও যদি একজন বিমান যোদ্ধা হতে পারতাম?

n লেখক :পর্যটক, গবেষক

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন