অপচিকিত্সা :প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
জনস্বাস্থ্য g জামাল উদ্দিন জামাল

একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে চলছে গোটা বিশ্ব। সেক্ষেত্রে আমরাও পিছিয়ে নেই। বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় আমাদের সার্বিক অর্জন হয়তো ততটা বেশি নয় তবে স্বাস্থ্যখাতে আমাদের অর্জন অনেক বেশি। আমাদের দেশে এলোপ্যাথিক চিকিত্সার পাশাপাশি গাছ-গাছড়ার ভেষজ চিকিত্সা, হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী এবং আকুপাংচার প্রচলিত আছে। এসব চিকিত্সা সারা বিশ্বেই প্রচলতি আছে। যা বিজ্ঞানসম্মত।

এতোকিছুর পরও আমাদের পিছু ছাড়েনি ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, ফুটপাতের অপচিকিত্সা ও ভুল চিকিত্সা। অজ্ঞতা ও দারিদ্র্যতার কারণে দেশে অপচিকিত্সার ছড়াছড়ি গ্রাম অঞ্চলেতো বটেই এবং কি রাজধানী ঢাকা শহরেও। দেশের প্রচার মাধ্যমেও এই ধরনের বিতর্কিত চিকিত্সা বা চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন হরহামেশাই চোখে পড়ে। এসব বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, যে কোনো রোগাক্রান্ত মানুষকে শতভাগ সুস্থ করায়। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তথাকথিত চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানের কোনো সঠিক তালিকা নেই। আর সে কারণেই এসব হাতুড়ে অপচিকিত্সকদের তালিকা জানাও খুব দুরূহ ব্যাপার। দেশে হতদরিদ্রসহ সাধারণ মানুষ এই কুচিকিত্সার শিকার হলে অসুস্থতার মধ্যে পড়তে হয় বাড়তি ভোগান্তিতে। ক্ষেত্রবিশেষে সুস্থতার বদলে প্রাণ হারায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্মের নাম ব্যবহার করে ওষুধ হিসাবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে যা খুশি তাই। অপচিকিত্সকরা বলে, কোনো একজন স্বপ্নে অলৌকিকভাবে পেয়ে গেছেন কিছু একটা সেই অনুযায়ী তেলে বা পানিতে ফু দিয়ে তা ব্যবহার করলে যে কোনো অসুস্থ মানুষ ভাল হয়ে যাবে। মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা থেকে শুরু করে ডায়াবেটিক, ক্যান্সার, হূদরোগ, ল্যাংড়া-খোঁড়া হেন কোনো রোগ নেই যা তার দ্বারা সুস্থ হয়ে উঠবে না। রাজধানীর সর্বত্রই এখন এই ভুয়া চিকিত্সক দেখা যায়। ফুটপাতের ধারে বৃত্তাকার লোকের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নানা ধরনের অঙ্গভঙ্গিতে যাদু-মন্ত্রের মতো কথা সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করে। এই ক্যানভাসাররা সব রোগের ওষুধ বিক্রি করে এবং ১ ঘণ্টার মধ্যে রোগ সারার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। যৌন শক্তিবর্ধক ক্যাপসুল, মলম, দাঁতের মাজন, বাতজ্বর, জন্ডিস, ডায়াবেটিস, পেটেরপীড়াসহ সব রোগের চিকিত্সা প্রদান ও ওষুধ বিক্রি করে থাকে এরা। ১০ থেকে ১০০ টাকা দিয়ে এসব ওষুধ কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ছুটে যায় এদের কাছে। এসব চিকিত্সা নেয়ার পর কিডনি লিভারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর চিকিত্সার নামে অপচিকিত্সা অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারী নেই এদিকে। এজন্য জনশ্রুতি আছে, ‘সব কিছু সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ’। রীতিমত মাইকিং করে এসব ভুয়া চিকিত্সকরা ভুয়া চিকিত্সা চালিয়ে যাচ্ছে। দেখার কোনো লোক নেই, প্রতিবাদের লোক নেই। যা খুশি করছে। প্রতিদিন রাজধানীর কাওরান বাজার, ফার্মগেইট, মগবাজার, সাতরাস্তা, গুলিস্থান, পল্টন, মহাখালী, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারের সামনে গাছের বাঁকল, জোঁকের তেল, মলমসহ আরো হরেক রকমের ওষুধের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিভিন্ন কবিরাজরা। এরা নিজেদের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিত্সা দিচ্ছেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের উদ্ভাসিত ও বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ বিক্রি করেন। কেউবা সর্বরোগে কার্যকর বিভিন্ন তাবিজ ও আংটিও বিক্রি করে। এদের না আছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না আছে শাস্ত্রজ্ঞান আর না আছে সরকারি স্বীকৃতি। আইনে এদের কঠিন শাস্তির বিধান না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রকদের সামনেই এরা মানুষ ঠকানোর কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। গড়ে উঠেছে ভুয়া চিকিত্সালয় ও ভেজাল ওষধের কারখানা। প্রতারক চিকিত্সক আর ওষুধ কারবারি মিলে চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। বিশিষ্ট চিকিত্সক ডাঃ আশরাফ আলী মোল্লা এক সেমিনারে এসব ফার্মেসিকে “মানুষ মারার কারখানা” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এদের কোনো আইনি অধিকার নেই ফুটপাতে ওষুধ বিক্রির কিন্তু তারা সর্বরোগের ওষুধ বিক্রি করে যাচ্ছে। এসব ভুয়া চিকিত্সকরা মহা অন্যায় করলেও কেউ বাধা দিচ্ছে না। উল্টো মানুষ ঐসব ওষুধ কিনে এবং ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে এসব ওষুধ শরীরে নানা ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি করছে। যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

n লেখক : সাংবাদিক

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন