না বলা কষ্টের কথা
লাঞ্ছিতরা সমস্বরে বলি বিচার চাই
লাঞ্ছিতরা সমস্বরে বলি বিচার চাই
২৩  জানুয়ারি ২০০৭। ভয়ঙ্কর কালো রাত। মধ্যরাতে হঠাত্ দরজায় বিরতিহীন কলিংবেলের শব্দ। বাইরে দাঁড়িয়ে শ’খানেক কালো ড্রেস পরা লোক। টিংকু তাড়াতাড়ি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে দরজা খুলে দিলো। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে সবাই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো। পুরো বাড়ির লাইট জ্বালিয়ে দিল। মুহূর্তে গ্রাস করে নিল এক অচেনা আতঙ্ক।

ওরা আমার শাড়ির আলমারি, গহনা, ড্রেসিং টেবিল, বুকসেলফ সবকিছু দেখল। একজন ড্রইং রুম থেকে তলোয়ার এনে বলল, পেয়েছি স্যার। অফিসারটি ধমক দিয়ে বললেন, ‘এটা শোপিস, রেখে আস’। তারা চারতলা শেষ করে তিন তলায় নামলেন। আমি দুই বাচ্চা নিয়ে বেড রুমে বসে আছি। সুযোগ বুঝে একজন উপরে এসে বললেন, আপনার গহনা আর টাকাগুলো দিন, আবার দেখতে হবে।

অফিসারটি তাকে বললেন, ‘অনুমতি ছাড়া এখানে কেন নিচে নামুন’। আমি ভয় পাচ্ছি। একা মহিলা মানুষ। চারদিকে নিকষ অন্ধকার। পুরো বাড়িতে শ’খানেক সশস্ত্র কালো পোশাকধারী। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। একজন খুশিতে চিত্কার করে বলল, পেয়েছি স্যার। মনে হলো নিউটনের মধ্যাকর্ষণ শক্তির মতন কিছু একটা আবিষ্কার করে ফেলেছে। ওদের স্যার নামক লোকটি বললেন, ‘কি পেয়েছেন’? শর্টগান। বললাম, ‘লাইসেন্স আছে’। তারা বললেন, একতলা-দুতলার চাবি দিন। ওটা জি-হাঞ্জের অফিস, চাবি আমার কাছে নেই। ওরা সব ফার্নিচার ভেঙে ফেলল। টিংকুর সাথে ড্রাইভার, কাজের লোক, বাসার ম্যানেজার, গ্রামের বাড়ি থেকে আসা কয়েকজন মেহমানকে ধরে নিয়ে গেল। আচ্ছা, এতগুলো গরীব লোককে ওরা ধরে নিয়ে গেল কেন? কী দোষ?

ভোর ৫টায় ফজরের নামাজ আদায় করে এবিএম জাকিরুল হক টিটনকে সঙ্গে নিয়ে র্যাব-৩ এর অফিসে গেলাম। টিংকুর স্নেহসান্যিধ্যে থাকা টিটনই সেই বিপদের সময় মুরগির খাঁচা ভরা ট্রাকে চড়ে উত্তরা থেকে ছুটে এসেছে। বাইরে বসে আছি, র্যাবের অফিসার সুলতান-ই-নূর এলেন। প্রথমে কথা বলতে চাইলেন না। আমি সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললেন, অনেক কাজ আছে। বললাম, আমার বাসা আপনার এলাকায়। আমার স্বামীকে কারা ধরে নিয়ে গেছে। আপনার কাছে এসেছি সে কোথায় জানতে। এবার তিনি ভেতরে ঢুকতে দিলেন।

পরদিন পত্রিকা খুলে একেবারে মিথ্যা সম্পূর্ণ কল্পকাহিনী দেখতে পেলাম। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। ভাবলাম, গণমাধ্যম সত্যের না মিথ্যার? সবার নিষেধ উপেক্ষা করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সুধা সদনে দেখা করতে গেলাম। আপাকে বললাম, ওরা টিংকুকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। সামাজিকভাবে হেয় করতে চাচ্ছে। পত্রিকায় যা-তা লিখিয়ে ওর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে চাচ্ছে। আমি কী করব? আপা বললেন, “তোমাদের বঙ্গবন্ধু বছরের পর বছর জেল খেটেছেন, তুমি এত অল্পে ভেঙে পড়লে কী করে হবে! তিন দিনের দিন এক আত্মীয়র মোবাইল ফোনে একটা কল এলো। অন্যপ্রান্ত  আমাদের স্বজন এক সেনা কর্মকর্তা বললেন, “এ রাতটা বড় কঠিন টিংকুর জন্য।  আরও বললেন, “নেত্রীকে জানাও, এদের টার্গেটের শীর্ষে তিনি, এরা ধীরে ধীরে ওনার দিকে অগ্রসর হবে”।

হঠাত্ খবর এলো দু’কোটি টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। এতো টাকা কোথায় পাব? সবাইকে ফোন করতে লাগলাম। এবার চিরকুট এলো, টাকার ব্যাপারটা সবাই জেনে গেছে, টেলিফোনে টাকা চাওয়া উচিত হয়নি। এখন ১ কোটি টাকা দিলে ওকে এমনভাবে টর্চার করবে যাতে তার কিডনি বিকল না হয়, অন্ধ না হয়। দিশা হারিয়ে ফেললাম। ৭ দিন পর মাঝরাতে আমার ড্রাইভার মিশির আলী, ম্যানেজার বেলাল এবং গ্রামের লোকদের ছেড়ে দিল। আমার মুখোমুখি বসে ওরা কাঁদতে লাগল। বলল, মধ্যযুগীয় কায়দায় চোখে কালো কাপড় বেঁধে টর্চার করেছে। ইলেকট্রিক শক দিয়েছে। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মুখের উপর হাজার ভোল্টের বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে। মাথা নিচে পা উপরে দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। ওদের উপর অকথ্য নির্যাতন করেছে। ওদের সারা শরীরে কালো কালো দাগ। জানলাম টিংকু বেঁচে আছে। রাতে আর ঘুম এলো না। পরদিন সবাইকে নিয়ে গেলাম ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে। বুঝলাম গাড়িকে ফলো করা হচ্ছে। ব্যারিস্টার সারা হোসেনের সাথে দেখা করলাম। তাঁকে বললাম, “এদেরকে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, এদের মামলা আপনাকে লড়তে হবে”। সারা হোসেন রাজী হলেন। সন্ধ্যার একটু পরে ফোন এলো, কারা যেন ল-ইয়ারকে অনুরোধ করেছে মামলা না নিতে। ওরা নাকি দেশের ভালোর জন্য কাজ করছে। দু-দিন পর রাতে টিংকুকে বাসায় নিয়ে এলো। তারপর ক্যান্টনমেন্ট থানায়। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বিভিন্ন দিক থেকে তির্যক মন্তব্য আসে “চোরের বউ।” সবই সাজানো। টিংকু বলল, ‘চিন্তা করো না, হাবিয়া দোযখ থেকে এবার বেহেশতে এলাম। আদালত থেকে ওদের ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে নেয়া হলো। জেলে ওর ঠিকানা হল সেল নম্বর ৭ বকুলে।

শুরু হলো চিঠি চালাচালি। টিংকু চিরকুট পাঠিয়ে জানালো, ১টি বড় ফ্রিজ, ৪২ ইঞ্চি টেলিভিশন, ১টা মাইক্রোওভেন, ১ টি বড় টেবিল ফ্যান, ১টা রেডিও ও কফি মেকারসহ কত কী পাঠাতে। জবাবে লিখলাম, “সময় এবং স্রোত দুটোই উল্টো দিকে বইছে, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হচ্ছে, দেশের সুশীলরাও ওদের সঙ্গে আছে, চারদিকে সত্-যোগ্য মানুষদের জয়-জয়কার! এখন একটু সংযত হও। যারা দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে মানুষের জন্য ভূমিকা রাখছে তারা সবাই গণহারে অসত্ হয়ে গেলো!’

দু’দিন পর তার সঙ্গে দেখা। খানিকটা শুকিয়ে গেছে। আমাদের জড়িয়ে কেঁদে বলল, অনেক অত্যাচার করেছে। আমি নির্দোষ। এরা কেন করছে নিজেরাও জানে না। ওদের কোন হোমওয়ার্ক নেই। খুব অল্প সময়ে এদের উপর মানুষের আস্থা সরে যাবে। আধঘণ্টা শেষ।

দ্বিতীয়বার টিংকুকে দেখতে গেছি, ওর খুব মন খারাপ। বলল, তাকে চাপ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আব্দুল জলিল ও ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা দিতে। সে ওদের পরিষ্কার বলে দিয়েছে উনারা তার নেতা। প্রয়োজনে জীবন দেবে, কিন্তু মামলা করবে না। টিংকুর উপর একদিকে মামলা করার চাপ অন্যদিকে তাকে বুঝানোর জন্য ইঞ্জিনিয়ার হাবীব ফোনে অনুরোধ করতে থাকলেন। বুঝতে পারি আমি নজরবন্দি। চোখ রাখছে কেউ। বাসায় কেউ আসে না। বিপদে পড়বে এই আশঙ্কায়। নিজেকে স্বাভাবিক দেখাতে রোজ বিকেলে রমনা পার্কে হাঁটতে যাই।

একদিন অপরিচিত একজন আমার পাশে হাঁটতে হাঁটতে প্রস্তাব দিলেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা দিলে টিংকুকে মুক্ত করা সম্ভব। অবাক হয়ে বললাম, এতোবড় অন্যায় মিথ্যাচার সম্ভব নয়। এর মাত্র অল্প কিছুদিন পর আজম জে চৌধুরী, তাজুল ইসলাম ফারুকসহ কয়েকজন নেত্রীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিলেন।

তৃতীয়বারের মতো টিংকুর সাথে দেখা করতে গেলাম অনেক বই নিয়ে। ৭ নম্বর সেলে নতুন সদস্য যমুনা গ্রুপের নূরুল ইসলাম বাবুল, জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ। তাকে জানালাম, ঢাকা শহরে এখন জোর গুজব দুই নেত্রীকে জেলে ঢোকাবে। দুই নেত্রীর মুখোশ পরে গানের সাথে এনিমেশন করে মোবাইল ফোনে ফোনে তাদেরকে বিদ্রূপ করা হচ্ছে।

পঞ্চমবার গিয়ে দেখি টিংকু খুব হাসিখুশি। ওদের সেলে নতুন অতিথি আব্দুল আওয়াল মিন্টু, আবুল খায়ের লিটু, মীর নাসির উদ্দিনের ছেলে মীর হেলাল, ইকবাল হাসান মাহমুদের ছেলে আবিদ। পুরনোদের মধ্যে আছেন গিরিলাল মোদী, তার ভাই গিরিশলাল মোদী, পঙ্কজ দেবনাথ, আওলাদ হোসেন, মাহমুদ হাসান বাবুল, তৈমুর আলম খন্দকার, কমিশনার কাইয়ুম, সিএম কয়েস সামী, মুন্সী আনোয়ার, মো. রাজ্জাক, হাসেম চেয়ারম্যান আর হাসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটক করা হয়েছে ড. আনোয়ার হোসেন, ড. হারুন আর রশিদ, ড. নীম চন্দ্র ভৌমিককে। টিংকু বলল, ওরা নিজেরাই কনফিউজড, ত্রাস সৃষ্টি করার জন্যই সবাইকে জেলে পুরছে, দেশে ভীতির শাসন কায়েম করতে চাচ্ছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধের মতো যা খুশী তাই করছে। সাজানো মামলাগুলোর একটিও ধোপে টিকবে না। যারা কোনোদিন মদ পান না করলেও মদের মামলায় দেশ ছাড়া করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে তারা আর বেশিদিন নয়। বলেই প্রাণখোলা হাসিতে ফেটে পড়লো। বুঝলাম টিংকু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। 

ওয়ান-ইলেভেনে কেউ কেউ নতুন একটা ইস্যু বের করেছে ইয়াবা সুন্দরী। রাত বিরাতে ওরা সুন্দরী মেয়েদের বাড়িতে হানা দেয়। সুন্দরী মেয়েরা কি শুধু গভীর রাতেই ইয়াবার ব্যবসা করে! নাকি ক্ষমতার উন্মত্ততায় ওরা যা খুশী তাই করছে। আমরা সবাই নিশ্চুপ, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তারা সকল জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। এদের চোখ আছে, কিন্তু দূরদৃষ্টি নেই। কান আছে কিন্তু মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ শোনে না। মুখ আছে কিন্তু চিন্তার গভীরতা না থাকায় সঠিক বাক্যটি বেরিয়ে আসে না। মন আছে কিন্তু মস্তিষ্কের সাথে সমন্বয়হীনতার কারণে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারে না। তাদের মানবিকতা হারিয়েছে ক্ষমতার দম্ভে। সবচেয়ে বেশি যেটা নেই, তা হচ্ছে নিজেদের ক্ষমতা এবং দৌড় সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা। নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ওরা একবারেই অজ্ঞ। দেশের কোথাও দুর্নীতি কমেনি, কিন্তু রেইট বেড়ে গেছে। দেশে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। অর্থনৈতিক মন্দার চাপে মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠে গেছে। র্যাং গস ভবনের নিচে গরিব শ্রমিকদের লাশ পড়ে আছে তবু বোবা সুশীল সমাজ। কদিন আগে তারা ফুলের মালায় বরণ করলেও আজ সেখানে ধিক্কার! এক দল দুই হাতে টাকা কামাচ্ছে, এতে নিজেদের মধ্যে অনেকেই অসন্তুষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। যেদিন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে টেনে হিঁচড়ে আদালতে নিয়েছে সেদিনই তাদের বিরুদ্ধে জনমত এক মোহনায় মিলিত। বাইরে সর্বগ্রাসী হতাশা আর ক্ষোভ তাদের গ্রাস করে রেখেছে।

আগষ্ট মাস, অফিসে কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকিয়ে বাজার পর্যবেক্ষণ করছি, হঠাত্ দেখি প্রচণ্ড নিম্নমুখী প্রবণতা। কোন কারণ নেই। তাহলে কি দেশের অবস্থা খারাপ? অজানা আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানকে ফোন করতেই বললেন, বাসায় চলে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলমাল হয়েছে। শুনতে পেলাম খেলার মাঠে ছাত্রদের সাথে সেনা সদস্যদের অসদাচরণ নিয়ে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি হতে পারে। পথ-ঘাট সব ফাঁকা। যে যেদিক পারছে ছুটে পালাচ্ছে। আজ গাড়িতে উঠতে ইচ্ছে হল না। রিকশায় বাড়ি ফিরবো। ‘আহ!’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিজের ভিতর কেমন একটা প্রশান্তি অনুভব করলাম। ভাষা থেকে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের সূতিকাগার। সময়ের সাহসী সন্তানেরা দেশের প্রয়াজনে ঠিকই প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে। মানুষও সমর্থন দিয়েছে।

১০ জানুয়ারি, ২০০৮-এ টিংকুকে ছাড়ার পর পুনরায় নাটকীয়ভাবে এরেস্ট করে জেলে ঢুকালো। এবার টাকার চাপ আরও দ্বিগুণ। কিন্তু আমার পক্ষে টাকা দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮-এ ও ছাড়া পেল। নতুন করে শুরু হলো মেজর জাকিরের অত্যাচার। দিন নেই রাত নেই আমার মোবাইলে ফোন করে টিংকুকে দেখা করতে বলে। টিংকু দেখা করে এলো।

ওর প্রচণ্ড মাথা ব্যথা। বলল, ‘আর পারছি না’। ভিসা করা ছিল। একদিন সব রেডি করে আমেরিকা পাঠিয়ে দেই। ফিরে জানালো, পুরো শরীর চেকআপ করিয়েছে শুধু মাথা ছাড়া। ২০০৮ এর ডিসেম্বরে ব্যালট বিপ্লবে শেখ হাসিনাকে অভিষিক্ত করে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলো। দেশের সামনে ‘ভিশন ২০২১’। ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে। কিন্তু ভালো যাছে না টিংকুর শরীরটা। ওর মন মেজাজ চিন্তা কোন কিছুই আগের মত নেই। কেমন এলোমেলো। মাঝে মাঝে ভয় হয়, আবার ভাবি অত বড় ধকল গেছে পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরিবর্তনটা যে এতো বেশি ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি। টর্চার সেলে ওকে যে নির্মম নির্যাতন হয়েছে, ইলেকট্রিক শক দেয়া হয়েছে তাতে ওর ব্রেইনের কোষ মিউটেশন হয়ে টিউমার, টিউমার থেকে ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। পরিণাম ওর এই অকাল মৃত্যু। আমি এখন কার শাস্তি চাইব? কার কাছে চাইব? কি অপরাধ ছিল টিংকুর? কেন ওকে বাঁচতে দেয়া হলো না?

১/১১ তে আমরা যারা বিনা কারণে অত্যাচারিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়েছি, নির্যাতিত হয়েছি তাঁরা সমস্বরে বলতে চাই ‘বিচার হোক’। ৯ বছর পর নেত্রী যখন মুখ খুলেছেন, আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। যে কোন অন্যায়েরই বিচার হওয়া উচিত। সে সময়ে একমাত্র শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁর অটল অবস্থান ওদের সমস্ত ষড়যন্ত্রের পথ নস্যাত্ করে দিয়েছে। সময় প্রমাণ করেছে দুঃসময়ে তাঁর নেয়া প্রতিটি পদক্ষেপ সঠিক ছিল। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেই সবিনয় নিবেদন, ১/১১ র ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ শক্তিগুলোর মুখোশ উন্মোচন করুন। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে, চরিত্র হরণ করেছে, জুলুম নির্যাতন করেছে তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করুন। আমাদের না বলা কষ্ট ও বেদনার কথা দেশের মানুষ জানুক।

n লেখক: সাবেক পরিচালক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, উপদেষ্টা, পূর্বপশ্চিমবিডি ডটকম

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন