অটিস্টিক শিশুকে সম্মান করো হে সমাজ
অজয় দাশগুপ্ত১৩ জুন, ২০১৬ ইং
অটিস্টিক শিশুকে সম্মান করো হে সমাজ
একটি শিশু অটিস্টিক হবার কারণে স্কুলের অনুষ্ঠানে যেতে পারেনি। কি নিদারুণ খবর।

শুধু খুন মারামারি আর ভয়ের দেশে এ ঘটনা ঘটনা নয়? রাজনীতি আমাদের সুকুমার দিকগুলো ঢেকে দিয়েছে। খুন জখম হত্যার দেশে আর কিছুই চোখে পড়ে না। খুব মন খারাপের খবরও মনে কোনো প্রভাব ফেলে না। আগে নিজের কথা বলি। দীপা সবসময় মনে করে আমার নাকি প্রতিবন্ধীদের মত কিছু সমস্যা আছে। যেমন ও কোনো জিনিস রাখলেই আমি সরিয়ে ফেলি। এমন কোথাও রাখি যা ও সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি নিজেও জানি কোনো জিনিস সাজিয়ে না রাখলে আমার মন ভালো লাগে না। সিডনিতে আমার প্রথম চাকরির ঘনিষ্ঠা এক ক্রোয়েশিয়ান বন্ধু সু জোসিফোভোস্কা। এমন দারুণ মহিলা সহজে মেলে না। সে সবসময় বলতো আমি নাকি যেকোনো জিনিস মিলিটারিদের মত সারি সারি করে সাজিয়ে রাখি। এটা যখন স্বাভাবিকতার মাত্রা ছাড়িয়েছে তখন তা অটিজম হতেও পারে। এমন কত হাজার হাজার মানুষ আছে চারপাশে। পরিচিত একজনকে জানি, যিনি বাথরুমে গেলে আর বেরুতে পারেন না। এটাও একটা রোগ।

দুনিয়ার সব মানুষই কোনো না কোনোভাবে অটিস্টিক। যেদেশে আছি এখানে অটিস্টিকদের সম্মান সাধারণের চেয়ে অধিক। চাকরি শিক্ষা জীবনে তারা পায় অগ্রাধিকার।  বাসে ট্রামে যেকোনো যানবাহনে অনুষ্ঠানে এদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। আর আমাদের দেশে এদের মত অবহেলিত কেউ নাই। তারপর খবরে দেখলাম, একটি বাচ্চাকে অটিজমের কারণে স্কুল থেকে শিক্ষা সফরে নেয়া হয়নি। এতবড় একটি অমানবিক ঘটনাও এখন আমাদের আর নাড়া দেয় না। আমরা ভাবি সবাই বেঁচে আছে সেটাই বড় কথা। অটিস্টিক শিশুদের আবার জীবন কি? বাংলাদেশে ডিজিটালের নামে এত হাঁকডাক এত কথা অথচ একটা শিশুর জীবনই অনিশ্চিত। তার কি ধরনের অটিজম ছিল বা আছে জানি না; তবে যেটাই হোক, একটি বাচ্চাকে এভাবে অপমান করার কোনো অধিকার নাই। জীবনের শুরুতে তাকে এভাবে একা করার ভেতর দিয়ে তার মা বাবাকে ভাই বোন বা আত্মীয় স্বজনদের কি ম্যাসেজ দেয়া হল? এমন অমানবিক বিষয়ও কারো মাথায় নাড়া দিল না। জাতির বিবেক জাগাতে পারল না। এমন সমাজে  উন্নয়ন হলে কি আর না হলেই বা কি।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে একটা ঘটনা বলি। এক অনুষ্ঠানে ক্রিকেট তারকা স্টিভ ওয়াহ ছিলেন অতিথি। সে আয়োজনে প্যারা অলিম্পিকে হুইল চেয়ার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন লুই সেভেজও এসেছিলেন। আগত সুধী মানুষরা লুইকে যত সম্মান ও তার প্রতি যে মনযোগ দিয়েছিল স্টিভ তা পাননি। তিনি অবশ্য চানওনি। তিনি নিজেই লুইসকে সময় দিচ্ছিলেন। এর নাম সৌজন্য। এর নাম সম্মান ও সামাজিক অধিকার। যে শিশুকে স্কুল এমন অপমান করেছে তাদের কিছু হবে না। কেউ তাদের প্রশ্নও করবে না। যে দেশে শিক্ষককে কান ধরিয়ে উঠ বস করানো হয় সেখানে প্রতিবন্ধী শিশুতো কিছুই না। হায়রে সমাজ এত বড় বড় কথা এত মিডিয়া এত গুণী আর একটি নিরীহ অটিস্টিক শিশুর জীবন নিয়ে মাথাব্যথা নাই কারো। এ বিষয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল। পুতুল নিজে এদের সেবা করেন। এনিয়ে কাজ করেন। আর তাঁর মায়ের দেশে একটি শিশুকে স্কুল অটিজমের জন্য করল চূড়ান্ত অপমান। যা আসলেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

যে দেশে সরকার রাজনীতি এমনকি বুদ্ধিবৃত্তিও অটিস্টিক সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধীর বিরুদ্ধে এমন অন্যায় কিভাবে জায়েজ? অটিস্টিক জাতির মাথারা তাও বোঝে না। একবার ভাবুন, এশিশু আমাদেরও সন্তান হতে পারত। তাদের এই অবস্থার জন্য  তারা দায়ী নয়। হয় প্রকৃতি নয় ঈশ্বরের লীলার সন্তান এরা। এরা ডিসএ্যাবল নয়। এরা স্পেশাল। আমাদের সবার ভেতর যে অটিজম তার কথা বিবেচনা করুন। এদেশের একজন অটিস্টিকও যেন কোনোদিন এমন অপমানের শিকার না হয়। এটা নিশ্চিত না হলে আমরা তাদের অভিশাপে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব না। এটাই সত্য।

n লেখক :সিডনি থেকে

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন