পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয় নাই :শেখ হাসিনা
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয় নাই :শেখ হাসিনা
একুশে পদক বিতরণ উপলক্ষে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানী মিলনায়তনে প্রদত্ত  প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রথম পর্ব আজ সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশিত হলো

একুশ আমাদের শিখায় মাথা নত না করতে। একুশ আমাদের শিখায় যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। একুশ আমাদের শিখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে একটা অনন্য দিন। কিন্তু এই একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা শহিদ দিবস হিসেবে পালন করেছি। আজকে শুধু শহিদ দিবস হিসেবে না, সেই সাথে সাথে একুশে ফেব্রুয়ারি কিন্তু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু এই দিবসটি কীভাবে হ’ল?

আমরা বাঙালি। বাংলা আমাদের ভাষা। আর বাংলাদেশ আমাদের দেশ। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে, সংস্কৃতি আছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের এই সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়া, আমাদের নিজেদের ভাষাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এক গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, ঠিক যখন ঐ পাকিস্তান নামে একটি দেশ হ’ল— যার দুটি অংশ। প্রায় হাজার/১২০০ মাইল দূরে একটা পূর্ব, আরেকটা পশ্চিম পাকিস্তান গড়ে তোলা হল। বাঙালিরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু দেখা গেল যে যাঁরা সংখ্যালঘু তাঁরাই আমাদের উপর মনে হল যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি একে একে সব অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালালো।

৪৭ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসের দিকে করাচিতে একটা শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জাতির কথা তাঁরা ভুলেই গেল। কিন্তু বাঙালিরা বসে থাকেনি। যখনই এই ঘোষণা আসলো, সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, যদিও সীমিতভাবে, তাঁরা মিছিল নিয়ে, তখনকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন, তার বাড়ি ঘেরাও করে এবং এর প্রতিবাদ জানায়। এভাবেই কিন্তু আমাদের ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল। এবং সেই সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তখন একটা উদ্যোগ নেয়। তখন আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ছাত্রলীগ নামে একটি সংগঠন তিনি গড়ে তোলেন। এরপর তিনি ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে এবং সেখানে তমুদ্দন মজলিসসহ আরও অন্যান্য সংগঠন তাদের নিয়ে একটা ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন।

১১ই মার্চ ভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এবং সেই থেকে কিন্তু আমাদের আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। জাতির পিতার এই উদ্যোগের ফলে আমরা দেখেছি যে দেশের মানুষের ভিতরে একটা উদ্দীপনা শুরু হয় এবং বাংলা ভাষা দাবি দিবস পালন করতে গিয়ে সেই ১১ই মার্চ যখন ধর্মঘট চলে, সে সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন। আবার ১৫ তারিখে তাঁরা মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর ১৬ই মার্চ আরেকটি জনসভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় হয়, সেই সভার সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং তখন একটি স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এভাবেই আমাদের আন্দোলন কিন্তু চলতে থাকে ।

এই আন্দোলনেরই এক পর্যায়ে ৪৮ সালের ১৯শে মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলাদেশে আসেন। পাকিস্তান হবার পর পূর্ববাংলায় এটা তার প্রথম আগমন। সে কারণে আন্দোলন তখন স্থগিত রেখে তাকে সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হয়। রেসকোর্স ময়দান অর্থাত্ এখন যেটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সেখানে তিনি বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। এবং সেই ভাষণ দেওয়ার সময় ঘোষণা করলেন যে উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা। তখনই কিন্তু সেই সভা থেকেই ছাত্রসমাজ এবং জনগণ তার প্রতিবাদ করে।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন অনুষ্ঠিত হয় কার্জন হলে। সেই কনভোকেশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্ররা যখন তার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্যে প্রস্তুত, তিনি তার ভাষণে ঘোষণা দিলেন যে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করা হবে। তখন উপস্থিত ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করে এবং ’নো নো’ বলে চিত্কার করে। এভাবেই কিন্তু প্রতিবাদ চলতে থাকে।

বঙ্গবন্ধু সবসময় এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যেই সংগ্রাম করেছেন। একদিকে ভাষা আন্দোলন, অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের অধিকার আন্দোলন। সেই সময় বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ চলছিল। লিয়াকত আলী খান পাকিস্তান থেকে তখন পূর্ববাংলায় আসেন। সেই সময়ে তার বিরুদ্ধে ভুখা মিছিল পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি আন্দোলনের সময় কিন্তু তিনি (বঙ্গবন্ধু) বারবার গ্রেফতার হন, বারবার মুক্তি পান, আবার গ্রেফতার হোন আবার মুক্তি পান এবং এই ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য ছাত্রসমাজ তখন সিদ্ধান্ত নেয় যে সমস্ত বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে এর প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। এবং সেই প্রচার প্রচারণা চালাতে গিয়েও কিন্তু তিনি বারবার গ্রেফতার হন ।

এরপর ১৪ অক্টোবর ভুখা মিছিল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আওয়ামী লীগের শামসুল হক সাহেব, মওলানা ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধুসহ অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। অনেকে মুক্তি পান, কিন্তু বঙ্গবন্ধু আর মুক্তি পাননি। ৫২ সাল পর্যন্ত তিনি এই কারাগারে বন্দি ছিলেন। কিন্তু এই বন্দি থাকা অবস্থায়ও তিনি বসে থাকেননি। ... ...

আমরা যদি জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়ি, সেখানে আপনারা দেখবেন যে তিনি লিখেছেন- “পরেরদিন রাতে এক এক করে অনেকেই আসলো। সেখানেই ঠিক হল আগামি ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করা হবে এবং সভা করে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে হবে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কনভেনার করতে হবে।”- (আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-১৯৭) ।

এই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার জন্য সংগ্রামের অনেক তথ্য সেখানে আমরা পেতে পারি এবং তিনি নিজে তখন অনশন ধর্মঘট পালন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন এবং বরিশালের মহিউদ্দিন সাহেবও তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন। ... ...

এরপর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, তখনও আপনারা জানেন যে ইমারজেন্সি ডিক্লেয়ার করে ৯২(ক) ধারা দিয়ে সেই সরকার উত্খাত করা হ’ল। কিন্তু এরপর ৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তখন সোহরাওয়ার্দী সাহেব প্রধানমন্ত্রী হন। এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে পাকিস্তানের যে শাসনতন্ত্র রচনা হয় সেই শাসনতন্ত্রে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই বাংলা ভাষা প্রথম শাসনতন্ত্রে স্বীকৃতি পেল, রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেল। আওয়ামী লীগ সরকারই ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। এবং শুধু শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণাই দেয়নি, শহিদ মিনার তৈরি করবার জন্য যেখানে ছাত্ররা গুলি খেয়েছিল এই জায়গাটায় মেডিকেল কলেজের হোস্টেল তখন ছিল, মানে বেড়ার ঘর টিনের চাল দেওয়া হোস্টেল ছিল। তার পাশেই সামনের রাস্তায় এই গুলিটা হয়। কাজেই ঐ জায়গায় শহীদ মিনার গড়বার প্রকল্প গ্রহণ করে এবং বাজেটে টাকা দেয় এবং শহীদ মিনার নির্মাণ কাজও শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার।

আমাদের দুর্ভাগ্য যে এক একটা কাজ শুরু করলে তারপরেই একটা বাধা আসে। ৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর আইয়ুব খান পাকিস্তানে মার্শাল’ল ঘোষণা করে এবং তিনি নিজেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। সাথে সাথে আমাদের শহীদ মিনার নির্মাণের কাজও বন্ধ হয়ে যায়।...

ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই কিন্তু জাতির পিতা ৬ দফা দেন। যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামের পথ। আর সেই ৬ দফা দেওয়ার পর তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। ছাত্রসমাজ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। ৬ দফাসহ ১১ দফা দিয়ে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটে, তারই ফলে তিনি মুক্তি পান। ৭০-এর নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করি। ৭১-এর ৭ই মার্চ তাঁর যে ঐতিহাসিক ঘোষণা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ঐ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অর্থাত্ তখন ওটা রেসকোর্স মাঠ ছিল সেখানেই তিনি “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”- সেই ঘোষণা দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গেরিলা যুদ্ধের জন্য সকল প্রস্তুতির আহ্বান তিনি জানিয়েছিলেন। এবং তাঁর আহ্বানে তখন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা যেহেতু গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের পতন হয়, ইয়াহিয়া খান সরকার গঠন করে, কাজেই তার বিরুদ্ধে আবার এদেশের মানুষ রুখে দাঁড়ায় এবং অসহযোগ আন্দোলনের তিনি ডাক দেন। এই অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে আমরা এগিয়ে যাই এবং ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা শুরু করে এবং যে মুহূর্তে তাঁরা আক্রমণ চালায়, ঠিক তার পরপরই জাতির পিতা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা বিজয় অর্জন করি।

আজকে একটা জিনিস আমরা লক্ষ করছি পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয় নাই। তাঁরা এই কিছুদিন আগে একটি পুস্তক বের করে। ২৫ মার্চ থেকে তাঁরা যে গণহত্যা শুরু করেছিল সেই গণহত্যার ছবিগুলিতে তারা এই হত্যাকাণ্ড যে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী শুরু করেছিল এবং তাঁদের সাথে পরবর্তীতে যোগ দেয় রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী—এদেশীয় কিছু কুলাঙ্গার। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি তারা নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ঐ গণহত্যার ছবিতে সেগুলি মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেছে বলে সেই ক্যাপশন দিয়ে তাঁরা সেই রিপোর্ট তৈরি করে সব জায়গায় বিলি করার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি যে এখন আমরা স্বাধীন দেশ। অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সেই সময়ে এই ধরনের অপপ্রচার তারা করে যাচ্ছে, এটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য না।

তাই ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আমাদের গ্রহণ করা এবং এ ব্যাপারে আমি মনে করি আন্তর্জাতিকভাবেও এটা স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কারণ সে সময়ে জঘন্য ঘটনা তারা ঘটিয়েছিল, দিনের পর দিন এ দেশের মানুষকে তাঁরা হত্যা করেছে। আমাদের ত্রিশ লক্ষ শহীদ জীবন দিয়েছে, দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত গিয়েছে। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশে কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা, কোনো কোনো দলের নেতা আমি নাম ধরেই বলতে চাই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে বলেছিল যে ত্রিশ লক্ষ শহীদ মৃত্যুবরণ করে নাই, শাহাদাত হয় নাই, এ সংখ্যা নাকি ঠিক না। এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে? এর থেকে জঘন্য কথা হয়ত আর কিছু হতে পারে না। আমার মনে হয় যে পাকিস্তানিদের এই অপপ্রচার আর তার এই বক্তব্যে কোনো সূত্র আছে কিনা, আমি জানি না, কিন্তু মনে হচ্ছে যেন ঐ একই সুরে তিনি কথা বলার চেষ্টা করছেন। এটা শহিদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা এবং শহীদের প্রতি অবমাননা করা ছাড়া আর কিছুই না। (আগামীকাল পড়ুন শেষ পর্ব)

n লেখক :প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 

 

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন