সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকল্প নেই
এস আর শানু খান১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকল্প নেই
মা নুষ সামাজিক জীব। তাইতো সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে মানুষ ভালোবাসে। আর এই সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়। আলাদা আলাদা ধর্মীয় অনুশাসনে আবর্তিত হয়। অন্যদিকে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবেও মানুষকে হতে হয় বিবেকবান ও মানবতাবাদী। মানবতা রক্ষার মূলমন্ত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার মধ্যে নিহিত। জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষে মানুষে প্রীতি ও মৈত্রীর শান্তিময় বন্ধনই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। মানবতার আসল মূল্যায়ন করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবদানের বিকল্প নেই। সাম্প্রদায়িকতা মানবতার বিপক্ষে উপ্ত এক বিষবৃক্ষ। যদিও মানুষ সামাজিক জীব তবুও মানুষ বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত। ধর্মীয় ও মতবাদগত চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতা, যা অন্য ধর্মের বা মতাবলম্বী মানুষের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষের, ঘৃণার ও অমানবিক আচরণ করার জন্য উত্সাহিত করে সেটাকে সাম্প্রদায়িকতা বলে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

বর্তমান বিশ্বের কালো থাবায় সারাবিশ্বে ঘটেই চলেছে অসংখ্য অমানবিক নির্যাতন। সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের উপর নানাভাবে তাদের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে নানাবিধ পদ্ধতি অবলম্বন করে। নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য সংখ্যালঘুদের উপর চাপিয়ে দেয় অযৌক্তিক দাবি। চালাতে থাকে অত্যাচারের অমোঘ স্টিমরোলার। সাম্প্রদায়িকতার চেতনায়ই বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ধারণাকে নস্যাত্ করে দিচ্ছে। সব ধর্ম  ঘেটে দেখুন, সকল ধর্মেই মানুষকে শ্রেষ্ঠের সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতার ফলেই হিটলার তার গ্যাস চেম্বারে লাখ লাখ ইহুদীকে হত্যা করেছেন। নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছেন অন্য ধর্মের মানুষদের। বিশ্ব মানচিত্রে একবার চোখ মেলে দেখুন ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান ও ইরাকের মুসলিমরা প্রতিনিয়ত নিদারুণ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। একই পরিস্থিতি মিয়ানমার ও চেচনিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিরাজমান।

বিশ্ব শান্তির জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটা অপরিহার্য বিষয়। জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকল্প নাই। জাতীয় অর্থনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য কোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাই ফল দিবে না যদি না জাতীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা না যায়। বিশ্ব সমাজ ও বিশ্ব শান্তির জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একান্ত কাম্য। হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, কাটাকাটি, যুদ্ধবিগ্রহ, খুন, রাহাজানি প্রভৃতি বিশ্বসমাজ গঠনের অন্তরায়। ইতিহাস ঘাটলে চোখে পড়বে এগুলোর মূল কারণ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিরোধ।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দিক বিবেচনায় আমাদের দেশের অবস্থান সম্মানজনক। সেই প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্ম, গোত্রের ও নানা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। মিলেমিশে পরস্পর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যুগের পর যুগ বসবাস করেই আসছে। কোনো সাম্প্রদায়িক পার্থক্যই এদেশের মানুষের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারেনি। এটা আমাদের গৌরব। আমাদের দেশের মুসলমানদের ঈদে, হিন্দুদের পূজায়, খ্রিস্টানদের বড়দিনে, এবং বৌদ্ধদের বৌদ্ধ পূর্ণিমায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। কোনো ধর্মের মানুষেরই ধর্ম পালনে সমস্যা হয় না। কারো কোনো উত্সবে কারো কোনো বিদ্বেষ নেই। বরং সাহচর্য, সহমর্মিতা, পারস্পরিক ভালোবাসা ও একে-অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের চিত্র ফুটে ওঠে।

কৃষকেরা ক্ষেতে খামারে, কর্মীরা কল-কারখানায়, কর্মকর্তারা অফিস-আদালতে ধর্ম-বর্ণ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে দেশ তথা দশের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে। যুগের পর যুগ এই সম্প্রীতির ফলেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বাংলাভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার সম্মানে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছে। পেরেছে শোষকদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে। ব্রিটিশ থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কোনোদিনই সম্ভবপর ছিল না যদি কিনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকতো।

সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে দেশকে তথা বিশ্বকে রক্ষা করতে হবেই হবে। দেশ বা জাতির গণ্ডিবদ্ধতায় নয় বরং সর্বজনীন চেতনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বিবিএ অনার্স, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, এম এম কলেজ, যশোর

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন