ফেসবুকের ইতিহাস, সংকট ও সংকল্প
আব্দুল আলিম০৬ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফেসবুকের ইতিহাস, সংকট ও সংকল্প
বর্তমান বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। এ ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কে এখন যুক্ত রয়েছে বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ। ফেসবুক এখন বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহূত ওয়েবসাইট। যে গুগল ব্যতীত ইন্টারনেট কল্পনা করা যেত না, বর্তমানে সেই গুগলকে ছাড়িয়ে ফেসবুক এখন শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। যে হারে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে তাতে করে আগামী ২০১৮ সালেই এ সংখ্যা হবে দ্বিগুণ, অর্থাত্ ৩০০ কোটি। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে এশিয়া মহাদেশে। আর দেশ হিসাবে ব্রাজিল হলো সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী দেশ।

মার্ক জুকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় বহুল আলোচিত এই ফেসবুক। তিনি ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর সমস্ত নির্দেশনা এবং কর্মকৌশল তিনিই প্রথম তৈরি করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। এরপর তৈরি করেন ‘ফেসম্যাশ’ নামে আরেকটি সফটওয়্যার। পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি ওয়েবসাইট তৈরির পরিকল্পনা করেন মার্ক জুকারবার্গ। এ পরিকল্পনা থেকেই তার হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইট ‘ফেসবুক’।

নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে মতবিনিময় করে জানা গেছে, তাদের অনেকেই ধর্মীয় ব্যাপারে আনুগত্য ও শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে ফেসবুকের উপকার ও অপকার সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া যায়, তা নিম্নে দেওয়া হলো—

ফেসবুক ব্যবহারের উপকারিতা:

১. ফেসবুকের মাধ্যমে সহজে অল্প খরচে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ২. ফেসবুক আমাদের সারা বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার মত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সহজেই সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে। ৩. পুরনো বন্ধুদের সাথে সহজে সংযুক্ত হওয়া যায়, তাদের সঙ্গে বিভিন্ন মতবিনিময় করা যায়। ৫. এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সামাজিক, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি বিষয়ে একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করা যায়। ৬. প্রবাসী বা দূরে অবস্থানরত যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অতীব স্বল্প খরচে কথোপকথন বা খোঁজ-খবর নেওয়া সম্ভব। ৭. অবসরের বন্ধু হিসেবে কাজ করে অর্থাত্ অবসর কাটানোর অন্যতম একটা মাধ্যম।

ফেসবুক ব্যবহারের অপকারিতা:

১. ফেসবুকে একজন ব্যক্তির একাধিক ভুয়া পরিচয় (Fake Id) রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বখাটে ছেলেরা মেয়ে হিসাবে ভুয়া পরিচয় (Fake Id) ব্যবহার করে থাকে। ২. নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন নেশাগ্রস্ত মানুষের মত আচরণ করে থাকে। যেমন-সে আচরণে উগ্রতা, চঞ্চলতা, কাজের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ে। এটা ব্যবহারের ফলে তত্ক্ষণাত্ প্রশান্তি লাভ করে। ৩. এর মাধ্যমে ছেলে-মেয়েরা পরস্পর পরিচিত হয়ে প্রেম-প্রণয়ে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি বিবাহিতরাও পরকীয়া প্রণয়ের ফাঁদে পড়ে সুখের সংসারে অশান্তি ডেকে আনে এবং পরিশেষে বিবাহ বিচ্ছেদের মত কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। ৪. এটা ব্যবহার করার ফলে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় এবং সময়ের বিরাট অংশ অপচয় হয়। ৫. ফেসবুককে সমাজ বিজ্ঞানীরা প্রতারণার ফাঁদ ও অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যম বলেছেন। যেমন-রামুতে ঘটে যাওয়া ধ্বংসলীলা, বাংলাদেশের সংগীত পরিচালকের প্রতারণা, টাঙ্গাইলে প্রেমের নামে যৌন সম্পর্ক এবং পরিশেষে তরুণীকে হত্যা ও গুম করা ইত্যাদি। ৬. এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তরুণ-যুবসমাজ শিক্ষার চেয়ে ধ্বংসের দিকেই বেশি এগিয়ে যাচ্ছে।

পরিশেষে ফেসবুক যদিও একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথাপি নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটির মত বলতে হয় ‘প্রত্যেকটি ক্রিয়ার বিপরীত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে’। অতএব একে পেশা বা নেশা হিসাবে গ্রহণ করলে এটা নেশা আর ভালো কাজে ব্যবহার করলে এটা কল্যাণকর। শুধুমাত্র মতবিনিময়, যোগাযোগ রক্ষা, তথ্য আদান-প্রদান, তথ্য প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রভূমি হিসাবে ফেসবুককে গ্রহণ করা উচিত। সারা বিশ্ব যখন ফেসবুক ব্যবহার করে কল্যাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা কেন পিছিয়ে থাকব, আমাদেরও তাই করা উচিত। অতএব এখন থেকে আমরা ফেসবুককে ব্যবহার করব, ফেসবুক যেন আমাদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে প্রত্যেককেই খেয়াল রাখতে হবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

 

 

০০

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫০
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪১
মাগরিব৫:২০
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:০৮সূর্যাস্ত - ০৫:১৫
পড়ুন