মশা মারতে কামান লাগে না
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
মশা মারতে কামান লাগে না
গোপাল রায়

শীত যেতে না যেতেই মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি মানেই জনমনে চিকনগুনিয়া রোগের ভয়াবহতা ও আতঙ্ক কাজ করছে। কেননা গত বছর  মশাবাহিত রোগ চিকনগুনিয়া আমাদের দেশে যা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে তা আসলে ভোলার নয়। গত বছর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে রক্ত পরীক্ষায় ১ হাজার ৩ জন আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। শুধু ১ হাজার ৩ জনেই পর্যাপ্ত নয়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১২ মে থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪ হাজার ৮৬৪ জন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকনগুনিয়ার রোগী পাওয়া যায় ২ হাজার ৫৫৮ জন। অন্যান্য সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিত্সকের তথ্য মতে মোট ১৩ হাজার ৮১৪ জন চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

মশাদের আতঙ্কের কাহিনি চিকনগুনিয়া আর ডেঙ্গুতেই থেমে নেই। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রোজ বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে এক মজার ঘটনা। শাহজালাল বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের শিকার হয়। যা কিনা মশার কারণে! হঠাত্ করেই মাঝরাতে ওই ফ্লাইটে অসংখ্য মশা ঢুকে পড়ায় যাত্রীরা চেঁচামেচি ও হট্টগোল শুরু করে দেন। মশার উত্পাতে রাত দেড়টার দিকে চলন্ত ফ্লাইটটিকে রানওয়ের মুখে থামিয়ে দিতে বাধ্য হন পাইলট। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চলে মশা  নিধন। বিমানে মশার আক্রমণ হওয়ার একমাত্র কারণ হলো বিমানবন্দরের দুই পাশের জঙ্গল ও জলাশয়, যা মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র। আমাদের চারদিকে যে সব  জায়গা স্যাঁতসেঁতে, ময়লা, অপরিষ্কার, ঝাড়, জঙ্গল; এসবেতেই মশার উত্পন্ন ও থাকার উপযুক্ত বাসস্থান। মশারা যেন তার উত্পাত বাড়াতে না পারে, চিকনগুনিয়ার আতঙ্ক যেন না ছড়ায় তার জন্য আমাদের জনসচেতনতার প্রয়োজন। কেননা জনসচেতনতাই পারে মশার উত্পাত কমাতে আর চিকনগুনিয়ার মত আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে।

মশার উত্পাত যেন বৃদ্ধি না পায় তার জন্য প্রত্যেককেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতার সঙ্গে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আনাচে কানাচে আঙ্গিনা বা বারান্দার ফুলের টবে পানি জমতে না দেওয়া, ঘরের পাশে কোনো প্রকার বালতি, পলিথিন, টায়ার, ডাবের খোসা, হাঁড়ি, কলস ভাঙায় যেন কোনো প্রকারে পানি না জমে সেদিকে আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে। মোটকথা এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যে, একটা মশাও যেন তার প্রজনন বৃদ্ধি করতে না পারে। আর মশার বিস্তার কমাতে পারলেই চিকনগুনিয়ার মত ভয়াভহ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদেরকে চিকনগুনিয়ার হাত থেকে দূরে থাকতেই হবে কেননা চিকনগুনিয়া এমন একটা ব্যাধি;যার দ্বারা আক্রান্ত হলে রোগীর মধ্যে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর ও গিঁটে ব্যথা দেখা দেয়। এছাড়াও মাথা ব্যথা, মাংস পেশিতে ব্যথা, গিঁট ফুলে যাওয়া অথবা দানা দানা র্যাশ দেখা যায়। যা জীবনকে ব্যথা, যন্ত্রণায় জর্জরিত করবেই। এই চিকনগুনিয়ার মত মশাবাহিত রোগ বিস্তর ছড়াবার আগেই মশা নিধনের মত কাজে নেমে যেতে হবে। শুধু সরকার নয়, সিটি করপোরেশন নয়; সারা বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, শহর, জেলা, থানা, গ্রাম, পাড়া, মহল্লার প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে মশা নিধনের ব্যাপারে। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে চিকনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে। কারণ মশা মারতে কামান লাগে না, লাগে শুধু জনসচেতনতা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ডোমার সরকারি কলেজ, নীলফামারী

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন