শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য

মো. নিজামউদ্দিন

বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে চলছে ব্যাপক বাণিজ্য। এখানে কোচিং সেন্টার খুলে শুরু হয় ব্যবসা। শিক্ষকরা ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত না হলেও কোচিং সেন্টারে ঠিকই উপস্থিত হন। এই শ্রেণির শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার থেকে বড় অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। এই টাকার যোগান দিতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষদের। অনেক কষ্টে উপার্জন করা টাকা সন্তানদের ভালো পড়ালেখার জন্য কোচিং সেন্টারে দিয়ে দেন অভিভাবকরা। এই শিক্ষকরা যদি কোচিং সেন্টারের মতো ক্লাসে পড়াতেন তাহলে শিক্ষার্থীদের কোচিং ক্লাস করতে হতো না। ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা সহজেই তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে তুলতে সক্ষম হতো। আর যখন শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষাটা পেয়ে যাবে তখন তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও সেই প্রশ্নপত্রকে বর্জন করবে।

গাইড সিরিজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনকে সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে নিয়ে আসছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র গাইড বই নিয়েই ব্যস্ত থাকে। নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগানোর সুযোগ পায় না শিক্ষার্থীরা। তাদের মেধা শুধুমাত্র ঐ গাইডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আজকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই গাইড বইগুলোর বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। সেই গাইড বইটার মান কতটা ভালো তা না দেখেই প্রতিষ্ঠান থেকে বইটি কেনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। বইয়ের অধ্যায়গুলো বিস্তারিত জানতে কিছু বাইরের বই পড়তে হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে নিজেদের গ্রন্থাগারে ঐসব বই সংগ্রহ করে সেগুলো শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তাই বলে এমন বইয়ের কথা বলা উচিত নয় যা শিক্ষার্থীরা না চাইলেও বাধ্য হয়ে পড়বে।

অবাক হলেও সত্য আজকাল দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য গাইড তৈরি হয়। যেসব প্রশ্নের এক লাইনের উত্তর পাঠ্যবইয়ে যোগ করে দেওয়া যেতো। শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়নি। এই সামান্য কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েও গাইড সিরিজ তৈরি হয়। যার ফলে ছোট শিশুরা তাদের জ্ঞান বিকাশের সুযোগ হারায়। কারণ তারা মনে করে গাইড বইটা নিলেই সবকিছুর সমাধান পাওয়া যাবে। একদল শিক্ষক আজকাল জড়িয়ে পড়ছেন শিক্ষা বাণিজ্যে। যখন শিক্ষকের মত জাতি গড়ার কারিগর  টাকার কাছে নিজের নীতিকে বিক্রি করে দেয় তখন আর কিছুই বলার থাকে না। তাই বলে সকল শিক্ষককে এক পাল্লায় মাপা যাবে না। এদের মধ্যেও কিছু শিক্ষক আছেন যারা সঠিক শিক্ষা বিলিয়ে দিতে সর্বদা মরিয়া। একদল শিক্ষক সঠিক শিক্ষা দিয়ে আসছেন বলে আজও টিকে আছে জাতি।

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রচারিত হওয়া খবরগুলোর মধ্যে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কিছু শিক্ষক এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এদের মত শিক্ষকরা যদি শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকারকে বাণিজ্যে পরিণত করতে পারে তাহলে বাকিরা কি করবে?

মন্ত্রণালয় যথেষ্ট চেষ্টা করেও থামাতে পারছে না শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করা এই লোকগুলোকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার কয়েকদিন আগে কোচিং বন্ধ, পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে হলে আসা, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষকদের মোবাইল নিষিদ্ধ, ইন্টারনেট বন্ধ করার মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অপরাধী চক্রকে থামাতে পারছে না। তবে সফলতা হলো কিছু সংখ্যক অপরাধী ধরা পড়েছে এবং প্রশাসন কিছু তথ্য পেয়েছে তাদের কাছে। এই তথ্যগুলো আগামীতে ভালো পদক্ষেপ নিতে উপকারে আসবে। প্রশাসনের পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিতে দামি কোচিং সেন্টার কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত না করে নিজেই খেয়াল রাখুন। কেননা জনসচেতনতাই রুখতে পারে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করা চক্রকে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন