এত সাহস কোথায় পায় দুর্বৃত্তরা
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
এত সাহস কোথায় পায় দুর্বৃত্তরা

সাইফুল ইসলাম সাইফ

একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর যারা বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে তারাই এখন একের পর এক বুদ্ধিজীবী হত্যা করছে এবং হত্যা চেষ্টা চালাচ্ছে। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যা। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করাই এই হত্যাকাণ্ডের মুখ্য উদ্দেশ্য। একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে দেশের, যা আজও পূরণ হয়নি। এরপর যা কিছু দুই-চারজন আমাদের দেশের মেধা, মস্তিষ্ক, মাথা তাদেরকে যদি হত্যা করা হয় তবে তো পাকিস্তানের জয়জয়কার হয়ে গেল।

একের পর এক মুক্তচিন্তার লেখক, ব্লগার, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী হত্যা হবে আর প্রগতিশীল চেতনার প্রজন্ম চেঁচামেচি করবে, প্রবীণ বোদ্ধারা টক-শো এবং কেউবা প্রাণের ভয়ে চুপ করে থাকবে। এ কী করে হয় দাম দিয়ে কেনা বাংলাদেশে? হুমায়ুন আজাদ, অভিজিত্, রাজিব, নীলয় নীলসহ অসংখ্য সূর্য আমরা হারিয়েছি, বিচার পাইনি। এ দোষ কার ঘাড়ে পড়বে? বিচার বিভাগের নাকি সরকারের উপর।

প্রবল পরাক্রমশালী কালো শক্তির শীর্ষ নেতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি বাংলার মাটিতে হয় তবে স্বাধীন দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার কেন হচ্ছে না? আমরা চাই দ্রুত এদেরও বিচার হোক। রাশিয়া, আমেরিকা, ইরাক-ইরান, সৌদি, জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে সরকারকে বলা হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় পরিবর্তন করতে কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকার সেসবকে তোয়াক্কা করেননি। স্বাধীন দেশে বলতে গেলে শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এই কালো শক্তির বিচার করতে যদি সরকার ভয় না করে তবে স্বাধীন দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সে চেষ্টা সরকারকেই করতে হবে।

স্বাধীনতার ৪৫/৪৬ বছর পর আমরা একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার পেয়েছি কিন্তু প্রশ্ন রইল হুমায়ুন আজাদ, রাজিব, অভিজিত্, নীলয় নীলসহ সকল বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচারও কি আমরা ৪৫/৪৬ বছর পর পাবো? নাকি আদৌ পাবো না? বাংলাদেশের গড় আয়ু হিসেব করলে ৪৫/৪৬ বছর পর এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখার সময় আমার হবে না। তার আগেই চলে যেতে হবে।

শাবিপ্রবিতে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল স্যারকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। একটুর জন্যে জাফর ইকবাল স্যার বেঁচে গেলেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁকে সর্বদা নিরাপত্তার ভেতর রাখা হয়। নিরাপত্তা পাওয়া সত্ত্বেও যদি জাফর ইকবালকে হামলার শিকার হতে হয় তবে তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞান মনস্ক লেখক, কবি, সাহিত্যিক কিংবা যারা প্রগতিশীল কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পান না তাদের অবস্থা কী হবে? বাংলাদেশের মেধাবীদের ভবিষ্যত্ কী? জাফর ইকবাল হত্যা চেষ্টার বিচার কি আদৌ হবে? হুমায়ুন আজাদ, রাজিব, অভিজিত্, নীলয় নীল হত্যার বিচার না হওয়াতে জাফর ইকবালকে হত্যার সম্মুখীন হতে হলো। এসব হত্যার বিচার হয়নি বলেই জাফর ইকবালকে হত্যার সাহস পেয়েছে জঙ্গিরা। সরকারের উচিত অতিদ্রুত স্বাধীন দেশে সংগঠিত সকল বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার করা। নচেত্ যুদ্ধবিধ্বস্ত, রোগ-শোক অভাব-অনটনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে পরামর্শ দেওয়ার মতও বিজ্ঞজন পিতা আমরা পাইনি। তাই তাকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা হতে হয়েছিল পাক-দালাল জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে। পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে অনুরোধ করব খুব দ্রুত প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তক, কবি, সাহিত্যিক, ব্লগার, বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার করার সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে এসব জঙ্গি মূলসহ উপড়ে ফেলুন নয়ত দেখা যাবে একে একে স্বাধীনতার পক্ষের সকল বুদ্ধিজীবী আপনার ডান বাম থেকে না ফেরার দেশে হারিয়ে গেছে। তখন আপনি আপনার পিতার মত দিশেহারা হবেন। আমরা চাই না দাম দিয়ে কেনা সোনার দেশে আর একজনও বুদ্ধিজীবী হত্যা হউক। আমরা চাই না পিতার আদর্শজাত কোনো বুদ্ধিজীবী হত্যা হউক। আমরা চাই না পিতার ঔরসজাত কোনো রক্তকণিকা ধূলোয় মিশুক।

n লেখক :শিক্ষার্থী, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ,

শরীয়তপুর

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন