নারী ও শিশুর প্রতি এ কী আচরণ
মোহাম্মদ হাসান জাফরী০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
নারী ও শিশুর প্রতি এ কী আচরণ

ছয় বছরের শিশুটি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে । হয়তো তাকে আর বাঁচানো যাবে না। এক দুটি ঘটনা নয়, এরকম অনেক ঘটনা দিনে-দুপুরে, দিনের পর দিন ঘটে চলেছে। পত্রিকা খুললেই বীভত্স চিত্র, কুরুচিপূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণের ঘটনা। চোখ খুলে দেখতে, পড়তে মাথা ঘুরে আসে। একি শুনছি, একি দেখছি, একি বাস্তব, একি সম্ভব এমন প্রশ্নের পর প্রশ্ন মনকে জর্জরিত করে। অবসাদে মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সুন্দর এ পৃথিবীতে এ কোন্ দৃশ্যের অবতারণা। কারা এই পিশাচ, মানুষ নামের নরপশু। ওদের কি অধিকার আছে এ পৃথিবীকে কলঙ্কিত করার, বেঁচে থাকার, এমন বিষময় জ্বালা মনকে আহত করে চলেছে দিনের পর দিন। আমরা এই বীভত্স চিত্র, কুরুচিপূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণের আর পুনরাবৃত্তি চাই না। চিকিত্সকদের ভাষ্য: এমন নির্মম, রক্তাক্ত, কুরুচিপূর্ণ বীভত্স চিত্র ইতিপূর্বে তারা দেখেননি। এমন ধরনের সব অস্বাভাবিক আচরণের অবসান চাই। প্রয়োজনে আইনের পরিবর্তন হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যাতে এ পথে নতুন করে কাউকে আর দেখা না মেলে। সুন্দর পৃথিবীকে সুন্দর রাখুন, অ-সুন্দরের হাত থেকে বাঁচান, তাহলে দেশ পাবে নতুন এক সুন্দর প্রজন্ম। যা আগামীদিনের মানুষের জন্য বয়ে আনবে শান্তির পরিবেশে নতুন জীবন। শিশু হত্যা, শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ কিছুই থেমে নেই। দিনে দিনে এ সমস্ত ঘটনা যেভাবে মহামারির মত ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে তা সভ্য সমাজের তালিকা থেকে। তাই সময় এখনই এ থেকে পরিত্রাণের দৃঢ় শপথ নেয়া, সত্য সুন্দরের পথে অগ্রসর হওয়া।

রাজন ও রাকিব—এই দুই হত্যা মামলার রায়ে ছয়জনের ফাঁসির আদেশ হওয়ার বিষয়টি দ্রুততম সময়ে বিচারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। এ প্রসঙ্গে অন্য চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। শিশু ও নারী নির্যাতন যেমন কমবে তেমনি সকল প্রকার অনিয়মের প্রবণতা আস্তে আস্তে কমে আসবে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল হবে। গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় দিনে দিনে আমাদের নৈতিক অবক্ষয় যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তাতে অচিরেই আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবময় ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবো। এটা কারো একার ক্ষতি নয়, সমগ্র দেশের মানুষের জন্য  অকল্যাণ বয়ে আনছে। গুটি কয়েক মানুষ নামক পশুর এই কু-কীর্তি সমগ্র দেশবাসীর মান-সম্মান ভূলুণ্ঠিত করবে আর আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো তা কখনো হতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত রায় জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ১৬ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে অপরাধ প্রবণতার বিভিন্ন কারণ থাকার পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা-জনগণের কাছে এই বিরূপ মনোভাবের কিছুটা এবার লাঘব হয়েছে। বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রোধ প্রশমনে দ্রুত বিচারের রায় সরকারের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা অর্জনে বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। জনগণের আস্থার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অন্য সকল শিশু নির্যাতনের বিচার দ্রুততর হবে এমনটাই সকলে আশা করছেন।

শিশু নির্যাতন দমন কোনো জটিল বিষয় নয়। এজন্য সমাজের সচেতন, শিক্ষিত, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকেই গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যত্ আমাদেরই হাতে। যে শিশু একদিন দেশের যোগ্য নেতা হবে, তাকে সুন্দর ও যথাযথভাবে বেড়ে উঠতে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে শিশুদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের ভাবমূর্তি যাতে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কাছে হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামী প্রজন্মের হাতে সুন্দর একটি দেশ উপহার দিতে চাই সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। আমরা নিজেদের ভুল, খারাপ আচরণ, অশুভ চিন্তা, শিশু ও মহিলাদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়সমূহের প্রতি নিজেদের অজ্ঞতা দূরীকরণে ও কর্তব্য পালনে অচিরেই পরিবর্তন চাই। এটা কোনো মুখের কথা নয়, সমাজ পরিবর্তনে, দেশের উন্নয়নে, সভ্য জাতির স্বীকৃতি নিয়ে উন্নত দেশ গড়তে বিকল্প অন্য কোনো পথ নেই। তাই সম্মিলিতভাবে আমাদেরকে এ দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পথ চলতে হবে। আর এ বিষয়ে  ত্বরিতগতির অগ্রগতির জন্য আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন যেমন জরুরি তেমনি এ বিচার হতে হবে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক এবং প্রয়োজনে আইনের সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন। সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় আসুন শিশু ও নারীর প্রতি আমরা সবাই সুস্থ, স্বাভাবিক আচরণ করি ও অন্যদের এ পথে আহ্বান জানাই ।

n লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন