জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন

n রেজাউল করিম খোকন

 

সময়ের সাথে আমাদের জীবনের অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। এখন অনেক গতিশীল    হয়ে উঠছে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুততাকে বেছে নিতে চাইছে মানুষ। আর্থিক লেনদেনেও এখন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সবকিছুকে সহজ, সাবলীল, স্বাচ্ছন্দ্য করে তুলেছে। লেনদেনের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক কম সময় লাগছে।  দ্রুততম সময়ে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে বেশিরভাগ ব্যাংক চালু করেছে অনলাইন সেবা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ভূমিকা ব্যাংকিং খাতে নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে বলা যায়। নগদ লেনদেনে বিদ্যমান নানা ঝুঁকি সবাইকে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে   উদ্বুদ্ধ করছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনলাইনে এখন দৈনিক গড়ে কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে। এর বাইরে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যাংকের এক শাখা থেকে অন্য শাখার  গ্রাহক বা ব্যবসায়িক পরিশোধও হচ্ছে প্রচুর অর্থ। বর্তমানে অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং হাউজ (বিএসি এইচ), ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (ইএফটিএন) ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনপিএস) এর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনলাইনে তাত্ক্ষণিক আর্থিক লেনদন, চেক পরিশোধ কার্যক্রম চলছে। ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে যে কয়েকটি পেমেন্ট সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তার মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, বিইএফটিএন, এনপিএসবি, আরটিজিএস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অন্যতম।

ডিজিটাল মনিটরিং ২০১৭ অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ৯০% সরকারি পেমেন্ট ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বছরে ২৩ লাখ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। জুন ২০১৮ পর্যন্ত দেশে মোট ডেবিট কার্ড ১,২৫,৭৫,৬০৫টি, ক্রেডিট কার্ড ১০,০০,৪৭৪টি এবং পিওএস টার্মিনাল ৪১,১৩০টি। কেনা-কাটা থেকে শুরু করে নানাবিধ বিল পেমেন্টের ক্ষেত্রে পিওএস দিন দিন জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪টি ব্যাংকের (দি সিটি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক) ব্যাংক পিওএস রয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনদের ক্ষেত্রে তারা কমিশন পেয়ে থাকে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০,০০০টির বেশি লেনদেন হচ্ছে। আন্তঃব্যাংক অনলাইন লেনদেনের জন্য যে ধরনের প্রযুক্তি সহায়তা প্রয়োজন, এখন তা বেশিরভাগ ব্যাংক শাখায় রয়েছে। অতীতে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে অর্থ পরিশোধ করতে বেশ কয়েকদিন লেগে যেত। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে আন্তঃব্যাংক পরিশোধ ব্যবস্থায় এ দারুণ এক বিপ্লব ঘটে গেছে। এখন বিএসিএইচ, ইএফটিএন ও এনপিএস এর বদৌলতে দ্রুত চেক পরিশোধ হচ্ছে। আগে সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) ক্লিয়ারেন্স পেতে বেশ কয়েক মাস লেগে যেত। ফলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গিয়ে গ্রাহক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতেন। গ্রাহক যে উদ্দেশ্যে ঋণ নিতেন তা অনেকাংশে পূরণ হতো না। এখন সিআইবি রিপোর্ট পাওয়ার কাজটি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিং এর দ্রুত বিকাশ ই-কমার্সের প্রসারের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখছে।

দেশে একসময় এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের জন্য চেক ক্লিয়ারিং হাউজ ব্যবহার করা হতো। দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণের ফলে সময় লাগতো বেশ অনেকটাই। বর্তমানে যে কোনো ব্যাংক শুধুমাত্র চেকের ইমেজ অনলাইনে পাঠিয়ে অন্য ব্যাংক থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টায় সেই চেকের টাকা আদায় করে এনে সাথে সাথে গ্রাহককে পরিশোধ করতে পারছে।

ওদিকে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক বা ইএফটিএন এর মাধ্যমে এক নিমিষেই বিভিন্ন বেতন ভাতা, ইন্সিওরেন্সের মাসিক-ত্রৈমাসিক প্রিমিয়াম, বোনাস, লভ্যাংশ প্রভৃতির টাকা এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে মানে একাউন্টে চলে যাচ্ছে। এজন্য আলাদা করে একটি প্রতিষ্ঠানের সবাইকে নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সহজভাবে এবং খুব কম সময়ে ঝক্কি-ঝামেলাহীনভাবে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ইএফটিএন ব্যবস্থাটি বেশ চালু হয়ে উঠেছে বলা যায়। যারা এর সুবিধা গ্রহণ করছেন তারা এটাকে বিরাট এক প্রাপ্তি বলে মনে করছেন। প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এর মাধ্যমে যে েকোনো ব্যক্তি একই পদ্ধতিতে টাকা স্থানান্তর করতে পারছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের পেমেন্ট সিস্টেম বা অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এতে লেনদেনে যথেষ্ট সচ্ছতা এসেছে এবং খুব দ্রুত টাকা প্রাপকের হিসাবে পৌঁছে যাচ্ছে। সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানি, সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতনভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিশোধের জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞ করতে হয়। বেতন পরিশোধের জন্য সাত-আট দিন আগে ব্যাংকে গিয়ে ডিডি অথবা পেমেন্ট অর্ডার বানাতে হয়। সেই ডিডি বা পে-অর্ডার সাধারণ ডাকে নয় রেজিস্টার্ড অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রাপকের ঠিকানায় পাঠাতে হয়। এর জন্য একটা বাড়তি খরচ যেমন রয়েছে তেমনি সময়ের ব্যাপারও রয়েছে। এছাড়া পথে হারিয়ে যাবারও ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু ইএফটিএন ব্যবস্থায় এখন মাসের ৩০ তারিখে বা ১ তারিখে বেতন পরিশোধে ব্যাংকে শুধু একটি মেইল করলেই এক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী প্রাপকের হিসাবে টাকা জমা হয়ে যাচ্ছে।

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও মাসিক বেতনভাতা, বোনাস এখন ইএফটিএনের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে বর্তমানে। আগে এসব বেতনভাতা পরিশোধে লাখ লাখ চেকের পাতা ব্যবহূত হতো প্রতি মাসে, আর চেকগুলো লিখতেও প্রচুর শ্রমঘন্টা ব্যয় হতো, এখন তা হচ্ছে না। এতে সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থও। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধ, বিভিন্ন কেনাকাটা, উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থ পরিশোধে ইএফটিএনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে কোটি টাকারও বেশি অর্থ স্থানান্তর হচ্ছে। এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থ বেতন পরিশোধের জন্য স্থানান্তর হয়েছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশপত্র ও রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণের ক্ষেত্রে ইএফটিএন ব্যবস্থা প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ করে তুলেছে। তবে কিছু জটিলতার কারণে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণের ক্ষেত্রে এ সুবিধা এখনও ব্যবহূত হচ্ছে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন