সিয়েরা লিওন
ইবোলা থমকে দিয়েছে অর্থনীতিকে
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ইবোলা থমকে দিয়েছে অর্থনীতিকে
n শফিকুর রহমান রয়েল

 

সিয়েরা লিওনে এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে হলে সরকারের ইস্যু করা পাস নিতে হয়। তাও যোগাড় করতে হয় খুবই কষ্টে। এছাড়া হাইওয়েতে রয়েছে প্রচুর চেকপয়েন্ট। সেগুলোয় সৈন্যরা গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করে, কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে। জেরার ভয়ে অনেকে এখন দূরের কোথাও যেতেই চায় না। ফ্রাইডে মার্কেটটিতে এখনও যে ক’জন ব্যবসায়ী টিকে রয়েছেন, তাদের মধ্যে মোহাম্মদ বাঙ্গুরা একজন। এ কাপড়ের ব্যবসায়ী আগে তার দোকানের মাল কেনার জন্য যেতেন রাজধানী ফ্রিটাউনে। এখন আর সে কথা চিন্তাতেও আনতে পারেন না; যেতে হয় কেনেমা শহরে, যেখানে জিনিসপত্রের দাম খুবই বেশি। বাঙ্গুরা তার ব্যবসাটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বড় অংকের ঋণ গ্রহণ করেছেন; কিন্তু তিনি জানেন না, সেই ঋণ আদৌ ফেরত দিতে পারবেন কি-না। ব্যবসার করুণ হাল দেখে রাতে ভালো ঘুম হয় না তার।

ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে পশ্চিম আফ্রিকায় এ পর্যন্ত মারা গেছে তিন হাজারেরও বেশি লোক। সবচে’ বেশি আক্রান্ত সিয়েরা লিওন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে, সামনের দিনগুলোতে রোগটির বিস্তার আরো তীব্র হবে। ফ্রাইডে মার্কেটটিতে এক মা শুক্রবার মরিচের ক্ষুদ্র স্তূপ নিয়ে বসে থাকেন, কিন্তু সারাদিনে ক্রেতার দেখা পান মাত্র কয়েকজন। সপ্তার এই বিশেষ দিনটিতে আগে কামাই করতে পারতেন কমপক্ষে ৫০ হাজার এসএলএল (সিয়েরা লিওনের মুদ্রা, আনুমানিক ১১ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ)। আর এখন ১০ হাজার এসএলএল আয় করতে পারলেই নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন, যা কিনা তার সাত সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট নয়। নগোবেহ জানিয়েছেন, ফ্রাইডে মার্কেটটির ৭০ জন ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কাইলাহুনের ৮০ শতাংশ লোকই কৃষক, যারা কৃষির উপর নির্ভরশীল। সিয়েরা লিওনের রেডক্রস সোসাইটির যোগাযোগ কর্মকর্তা প্যাট্রিক মাসাকুওইয়ের মতে, এ বছর দেশটিতে কৃষি উত্পাদনও ব্যাপক কমে যাবে। এর প্রধান কারণ কৃষিশ্রমিকের অভাব। ইবোলার ভয় এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে কৃষিশ্রমিকের সংকট এখন তীব্র। অনেক জায়গাতেই কৃষকরা নিজেরা যা ফলাতে পারছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। তাদের সামনে খরার চেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইবোলা। 

অবস্থা বুঝে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লুএফপি) খাদ্য সাহায্য পাঠাচ্ছে কাইলাহুন ও কেনেমা অঞ্চলে। ডব্লুএফপি সিয়েরা লিওনের কান্ট্রি ডিরেক্টর গন মায়ার্স জানিয়েছেন, এই দুটি অঞ্চলে খাদ্য সাহায্য পাওয়ার জন্য এরইমধ্যে ২৩ হাজারেরও বেশি লোক নিবন্ধিত হয়েছে, কিন্তু অপর্যাপ্ততার কারণে সবাইকে খাদ্য সাহায্য দেওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্প ব্যবস্থাপক অগাস্টিন আমারার অভিমত, জরুরি ভিত্তিতে কাইলাহুন ও কেনেমা অঞ্চল দুটিতে খাদ্য সাহায্য বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ লোকজন বাজারে যেতে পারছে না; করতে পারছে না আগে যে কাজটি করত। মোদ্দাকথা ইবোলার জন্য জীবিকা পুরোপুরি বিঘ্নিত। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

ইবোলার ভয়ে অনেক এনজিও সিয়েরা লিওন থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিয়েছে। শত অনুরোধ সত্ত্বেও তাদেরকে রাখা যায়নি। তাদের যুক্তি. জানের ভয় সবারই রয়েছে; ইবোলায় আক্রান্ত হলে নির্ঘাত মৃত্যু। তার মানে আগে যে সাহায্য পাওয়া যেত, এখন তা অনেক কমে গেছে। এমনিতেই দেশটি দারিদ্র্যপীড়িত, তার ওপর ইবোলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। কীভাবে যে চলমান অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব, তারও সঠিক দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না।

ইসমাইল ফদে অবস্থাসম্পন্ন কৃষক ছিলেন। প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে থাকেন তিনি। পরে লাগিয়েছিলেন বলে ধান পাকতে এখনো অনেক দিন বাকি। কিন্তু তিনি অস্থির হয়ে উঠেছেন। এটিই যে স্বাভাবিক। খোরাকি শেষ হয়ে যাওয়ায় ডব্লুএফপি’র খাদ্য সাহায্য গ্রহণ করতে হচ্ছে তাকে। সেজন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়। যাতে তিনি রীতিমতো লজ্জা পান। ফদে বলছিলেন, ‘ইবোলা আমাদের জন্য অভিশাপ। এ থেকে আমাদের সহসাই মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। যত তাড়াতাড়ি পাব ততই দেশের জন্য মঙ্গল।’

—আল জাজিরা ওয়েবসাইট অনুসরণে

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন