মেধাসম্পদের সুরক্ষা দিতে হইবে
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
সভ্যতার অগ্রযাত্রায় মানুষের মেধাসম্পদের অবদান সর্বাধিক। অত্যন্ত মেধাবী কিংবা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী, সকলেই এই অগ্রযাত্রায় অবদান রাখিয়া চলিয়াছেন। একটি বৃহত্ পরীক্ষাগারের কোনো আবিষ্কার কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের এক কৃষকের নূতন কৃষিকৌশল কিংবা ব্যবহারবিধি, সবই মেধাসম্পদের আওতায় পড়িবে। কিংবা মানুষের মনের খাদ্য যোগাইবার জন্য একটি সংগীত কিংবা একটি কবিতাও মেধাসম্পদেরই অংশ। সেই সম্পদের অধিকারী মানুষটির প্রাপ্য সম্মান ও মূল্য পাইবার অধিকার রহিয়াছে। কিন্তু আজকাল অনেকক্ষেত্রে সেই মূল্য হইতে তাহারা বঞ্চিত। সহজেই তাহাদের সৃষ্টিকর্ম চুরি হইয়া যাইতেছে, কিংবা অন্যরা ব্যবহার করিতেছে কোনো মূল্য না দিয়াই। তাই মেধাসম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াইয়া তুলিতে ১৯৭০ সাল হইতে প্রতি বত্সর ২৬ এপ্রিল পালিত হইয়া আসিতেছে বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস। ধারণাটিকে ছড়াইয়া দিতে জাতিসংঘ বিশেষ ভূমিকা পালন করিয়া থাকে। ইহার সঙ্গে যোগ দিয়াছে নানা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলি। অন্যসব দেশের মতো এবত্সরও রবিবার বাংলাদেশে পালিত হইয়াছে মেধাসম্পদ দিবস।

সৃজনশীল কাজ করিবার পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মেধাসম্পদ সংশ্লিষ্ট অধিকার বিষয়ে মানুষের কর্তৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করা বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবসের আওতাভুক্ত। ইহার সঙ্গে ‘কপিরাইট’ ও ‘পেটেন্ট’-এর বিষয়টি খুব ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বই, গান, শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, সফটওয়ার এইসবের অধিকার সংরক্ষণ কপিরাইটের আওতার মধ্যে পড়ে। ডিজাইন, ট্রেডমার্ক, ট্রেড সিক্রেট ইত্যাদি বিষয় ব্যবসায়ীদের কাজের সহিত সংশ্লিষ্ট। উদ্ভাবন বিষয়ক মেধাসম্পদের ক্ষেত্রে পেটেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে মেধাসম্পদের পরিধি অধিক বিস্তৃত হইবে বলিয়া অনুমান করা যায়। সবক্ষেত্রেই মেধাসম্পদের অধিকার ও কর্তৃত্ব বজায় রাখা খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। রাষ্ট্রের উচিত মেধাসম্পদের সামগ্রিক বিষয়গুলিকে গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করা এবং পদক্ষেপ লওয়া। সাহিত্য, সংগীত, বিজ্ঞান কিংবা শিল্পের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ না করায় অনেক প্রতিভাবান মানুষের অর্জন হারাইয়া যাইতেছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প পাইরেসির কারণে ধ্বংসের মুখে। সংগীত অঙ্গনও নানা ভোগান্তির শিকার হইয়াছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি অত্যন্ত নমনীয় এবং কোনো খরচ ছাড়াই একটি চলচ্চিত্র, সংগীত কিংবা সফটওয়্যার প্রায় হুবহু প্রতিলিপি করা যায়। এই নূতন বাস্তবতায় মেধাসম্পদের মূল্য নূতন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ইহা হইতে মেধাসম্পদ রক্ষা করিতে হইলে প্রয়োজন শক্ত আইন ও তাহার প্রয়োগ। আমাদের কপিরাইট আইন হালনাগাদ করা দরকার, পেটেন্ট আইন প্রবর্তন করা প্রয়োজন। জামদানি, নকশিকাঁথা, পাটজাত পণ্য ইত্যাদি যে আমাদের, তাহা শুধু দাবি করিলেই হইবে না, ইহা যে আমাদের তৈরী পণ্য তাহা বিশ্বের দরবারে জানাইতেও হইবে। বৈশ্বিক সংস্থায় দ্রব্যগুলির পেটেন্ট করিয়া লইতে হইবে। তবেই যখন তাহারা দ্রব্যগুলি ব্যবহার করিবে তখন আমদের দেশের পক্ষে রয়্যালিটি (বিক্রীত দ্রব্য, গ্রন্থ বা পণ্যের জন্য মালিককে নির্দিষ্টহারে প্রদেয় অর্থ) অর্জন করা সহজতর হইবে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ব্যবহারকারীদের বুঝিতে হইবে যে, যাহা তাহারা ব্যবহার করিতেছেন, তাহার একটা মূল্য তাহাদের দেওয়া উচিত। মূল মেধাসম্পদ আর চৌর্যবৃত্তির মাধ্যমে ব্যবহূত মেধাসম্পদের মধ্যে যে গুণগত পার্থক্য রহিয়াছে, ইহা প্রতিষ্ঠিত সত্য। আমাদের দেশে এখন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার মানুষ কিনিয়া ব্যবহার করিতেছে। বিদেশে ক্রয় করে মেধাসম্পদ ব্যবহার হয়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনধিকার চর্চা ও চৌর্যবৃত্তিও রহিয়াছে। ইহাই নূতন যুগের বাস্তবতা। কিন্তু আমাদের দেশে কিনিবার অভ্যাস প্রায় অনুপস্থিত। এই জায়গায় পরিবর্তন আনিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২০ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন