গণচীনে সংস্কার প্রসঙ্গে
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
১৯৭০ এর দশকের শেষ দিক হইতে সংস্কার শব্দটি ব্যাপকভাবে জারি আছে গণচীনের শাসক মহলে। সংস্কার ব্যাপারটি আসলে কি এবং সংস্কারের ধরণ-ধারণগুলি কেমন তাহা লইয়া অবশ্য কোন সুস্থিত ঐকমত্য চীন কিংবা চীনের বাহিরে কখনোই হয় নাই। কেহ ইহাকে দেখিয়াছেন মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বিকল্প-স্বরূপ পলিসি পর্যায়ের সংস্কার হিসাবে। আবার কেহ মনে করেন চীনের সংষ্কার হইতেছে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার একধরণের আত্মীকরণ। বিতর্ক যাহাই থাকুক না কেন, দৃশ্যমান সত্য এই যে, গত কয়েক দশক ধরিয়া চীনের অর্থনীতি কল্পনাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম আকার ধারণ করিয়াছে। চীনের সংস্কারপন্থীরা এই বিপুল উত্থানকে তাহাদের সাফল্য হিসাবে দেখিয়া থাকেন। তাহারা অবশ্য পশ্চিমা দেশগুলি যেইভাবে চীনের রাজনৈতিক সংস্কারের আহবান জানাইয়া থাকে সেইদিকে তেমন একটা মনযোগ দেখান না। এক্ষণে নূতন এক কথা উঠিয়াছে। বলা হইতেছে যে, সংস্কার যাহা হইবার তাহা হইয়া গিয়াছে, সামনের দিনগুলিতে চীনে নূতন করিয়া লক্ষ্যযোগ্য কোন সংস্কারের সম্ভাবনা কমিয়া আসিয়াছে।

বিপ্লবের নেতা মাও জে দং এর জমানা সমাপ্ত হইবার পর হইতেই চীনে কথিত সংস্কারের বাতাস লাগিতে থাকে। তবে একেক নেতার আমলে ইহার ধরন একেক রকম হইয়াছে। মাও এর পরেই শুরু হয় দেং জিয়াও পিং এর নেতৃত্ব। তাহার আমলেই সংস্কার শব্দটি আনুষ্ঠানিকতা পায় চীনে। দেং এর আমলে সংস্কার বলিতে কৃষি ব্যবস্থার সংস্কার এবং সামান্য পরিসরে ব্যক্তিগত উদ্যোগের সুযোগ দেওয়া বুঝানো হইয়াছিল। দেং পরবর্তী জিয়াং জেমিনের সময়ে সংস্কারের কথা বলিয়া বাজার অর্থনীতিকে বিকাশের সুযোগ করিয়া দেয় রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাজতান্ত্রিক চীন। হু জিনতাও ও ওয়েন জিয়াবাও এর সময়ে সংস্কারকে সামাজিক নিরাপত্তাজালের সংস্কার হিসাবে দেখা হয়। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করিতেছেন, চীনের শাসকগোষ্ঠী সংস্কার বলিতে যাহা বুঝে তাহা যতটুকু হইবার হইয়া গিয়াছে। তাঁহাদের মতে প্রেসিডেন্ট শিন জিন পিং এর আমলে সংস্কারের তেমন কোন সম্ভাবনা নাই যদিও সর্বব্যাপী দুর্নীতি, ক্রমবর্ধমান অসমতা, প্রবৃদ্ধির নিম্মহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলি চীনের শাসকগোষ্ঠীকে ভালোমাত্রাতেই ভোগাইতেছ। নানান সময়ে এই ব্যাপারগুলি লইয়া বেইজিং নানাবিধ কথাবার্তাও বলিয়া থাকে। কিন্তু এই সমস্যাগুলি হইতে পরিত্রাণ পাইতে হইলে যেই ধরণের বৃহত্ উদ্যোগের প্রয়োজন সেমত কোন আয়োজন চীনে এখন অবধি দেখা যায় নাই। এইসব প্রসঙ্গে আসিলেই রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি সামনে আসিয়া পড়িয়া বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈয়ার করে বলিয়াই সম্ভবত চীনের শাসকগোষ্ঠী তেমন একটা রা কাড়েন না বলিয়া বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

তবে অন্য অনেক বিশ্লেষক মনে করেন যে, ইহা কেবল রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন প্রসঙ্গে শাসক গোষ্ঠীর অস্বস্তির বিষয় নহে। বরং উপরে উল্লেখিত বিষয়াদিতে সংস্কারের কঠিনতর দিকগুলিও মাথায় রাখিতে হইতেছে শাসকবর্গকে। কেননা এতদিন পর্যন্ত যেই সকল সংস্কার-উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে সেইগুলি হইতে ক্ষমতাসীন দল ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে গড়িয়া উঠা সুবিধাভোগীর সংখ্যা নিতান্ত কম নহে। চীনের সংস্কার বিষয়ে বিশ্লেষকদের কাহারো-কাহারো মতে এইসব সুবিধাভোগী এখন আর নূতন কোন সংস্কার চাহিতেছেন না। কেননা তাঁহারা মনে করিতেছেন যে, নূতন করিয়া সংস্কারের ঢেউ তৈরি হইলে তাহার একটা প্রভাব এতদিন ধরিয়া ভোগ করিতে থাকা অন্যায্য সুবিধাদির উপরেও পড়িতে পারে। চীনের প্রবৃদ্ধি অধুনা নিম্মগামী হইতেছে; ইহা ছাড়াও প্রকট হইতেছে দুর্নীতি, বেকারত্ব, পার্টির দুর্নীতিসহ নানাবিধ। এমতাবস্থায় চীনের ক্ষমতাসীনেরা কোন পথে হাঁটেন সারাবিশ্বের জন্যই তাহা হইবে একটি দেখিবার মত বিষয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২০ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন