দায়িত্বহীনতার আরও একটি নমুনা
৩১ মে, ২০১৫ ইং
রাজধানীর সার্ক ফোয়ারা মোড়ের পাশে ৬৪ কাঠা জমিতে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) নির্মাণাধীন টুইন টাওয়ারের পাইলিং ধসের ঘটনা ঘটে গত বুধবার। পরের দিন দুই দফা নির্মাণাধীন ভবনের প্রাচীর এবং সড়কের একাংশ ধসিয়া যায়। ইহাতে সার্ক ফোয়ারার পশ্চিম পার্শ্ব হইতে সুন্দরবন হোটেলের পূর্বকোণ পর্যন্ত অংশকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলিয়া মনে করা হইতেছে। স্বাভাবিক কারণে ইহার পর হইতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করিতেছে। পার্শ্ববর্তী সড়কে যানবাহন চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন ছাড়াও আশেপাশের ভবনের গ্যাস-পানির লাইন বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াইতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ ছিল জরুরি; কিন্তু ইহাতে আবার বিভিন্ন মাত্রার জনদুর্ভোগও শুরু হইয়াছে। অর্থাত্ এই সংকট বেশি দিন যাহাতে অব্যাহত না থাকে, সে দিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। ইহার মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ঢাকার উভয় সিটি করপোরেশন, রাজউক, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারগণ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছেন। শত শত ট্রাক বালি ফেলিয়া ঝুঁকি মোকাবিলার চেষ্টা করা হইতেছে। আমরা আশা করি, ইহাতে শিঘ্রই পরিস্থিতির উন্নতি হইবে এবং ঝুঁকিমুক্ত হইবে সমগ্র এলাকা।

উক্ত এলাকায় পাইলিংয়ের গর্তে ধস সৃষ্টির কারণে এখনও কেহ হতাহত হন নাই। তাহার পরও নাগরিকদের মধ্যে প্রচণ্ড ভীতি কাজ করিতেছে। ইহার যুক্তিসংগত কারণ আছে। একে তো দেশে মাঝে-মধ্যে বৃষ্টি হইতেছে, তাহার ওপর সামপ্রতিককালের ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্ক বৃদ্ধি পাইয়াছে। এই ঘটনায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে যাহা প্রশংসনীয়। তবে এই ঘটনা হইতে আমাদের শিক্ষা গ্রহণও করিতে হইবে। আমরা জানি, একদা এই এলাকায় ছিল বড় খাল। এই খালের সহিত হাতিরঝিলের সংযোগ ছিল। তাহা ভরাট করিয়াই এখানে বড় বড় ভবন গড়িয়া উঠিয়াছে। আলোচ্য টুইন টাওয়ার নির্মাণও একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। তবে এই অট্টালিকা নির্মাণে পরিকল্পনা হইতে শুরু করিয়া বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে ত্রুটি না থাকিলে এইরূপ বিপর্যয় দেখা দিত বলিয়া প্রতীয়মান হয় না। আবার সারাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখারও কোন অবকাশ নাই। কেননা ভবন নির্মাণে অসতর্কতা সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই কমবেশি রহিয়াছে। কোন কোন ক্ষেত্রে রহিয়াছে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম। বাংলাদেশে এমন ঘটনাও আছে যে, ব্রিজ-কালভার্ট উদ্বোধনের কয়েক দিনের মাথায় তাহা সশব্দে ভাঙিয়া বা ধসিয়া পড়িয়াছে; কিন্তু এজন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে খুব কমই দেখা যায়।

ভবন নির্মাণে যেমন নিয়ম-কানুন লংঘনের ঘটনা ঘটে, তেমনি যাহারা ইহা প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকেন, তাহারাও কখনও কখনও দেখিয়াও না দেখিবার ভান করেন। রাজউক প্রতিষ্ঠা লাভের পর ঢাকা শহরে বনানী, গুলশান, উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকা পরিকল্পিতভাবে গড়িয়া উঠিলেও এখনও অপরিকল্পিত শহর সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয় নাই। নীতি-নিয়মের তোয়াক্কা না করা এবং নিজ নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে পালন না করা যেনবা আমাদের মজ্জাগত হইয়া গিয়াছে। প্রায় সর্বক্ষেত্রেই দেখা যায় অপরিণামদর্শী কার্যকলাপ। নিয়ম না মানিয়া যেনতেন প্রকারে দায়িত্ব সম্পাদন করিতে গিয়াই আমাদের চারপাশে ঘটিয়া চলিয়াছে নানান বিপত্তি। তবু আমাদের পরোয়া নাই। কোন কিছু হইতেই যেন আমরা শিক্ষা গ্রহণ করিতে প্রস্তুত নই। যাহা হউক, সার্ক ফেয়ারা মোড়ের পার্শ্বে পাইলিংয়ের গর্তে যে ধস দেখা দিয়াছে, তাহা তদন্ত করিয়া দেখিতে হইবে এবং সেই অনুযায়ী সকল নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া নূতনভাবে কাজ শুরু করিতে হইবে। তাহাছাড়া ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শ্রমিক, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সকলের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম ব্যবস্থা রাখা বাঞ্ছনীয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন