নৌপথের নিরাপত্তা :যাত্রী সাধারণের সচেতনতা
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
গত তিন দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ স্থল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধিত হইলেও এখনও পর্যন্ত যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপথ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখিয়া যাইতেছে। বর্তমানে আমাদের  নৌ পথের দৈর্ঘ প্রায় ২৮ হাজার কিলোমিটার। এই দীর্ঘ নৌ-রুটে প্রতিদিন ছোটবড় মিলাইয়া প্রায় ৬০ হাজার নৌযান চলাচল করিয়া থাকে। ইহার মধ্যে মাত্র ১০হাজার নৌযান রহিয়াছে, যেইগুলি নিবন্ধিত। ্এক হিসাব হইতে জানা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মোট যাত্রীর ৩৫ শতাংশ যাতায়াত করিয়া থাকেন ৫৩টি নৌরুটে। তেলজাত দ্রব্যাদির  ৯০ শতাংশই পরিবহন করা হইয়া থাকে নদীপথে। গত ৬ বত্সরে নৌপথ উন্নয়ন এবং নৌব্যবস্থাপনায় দৃষ্টিগ্রাহ্য অগ্রগতিও সাধিত হইয়াছে। নৌপথ খনন ও সংস্কারের জন্য ১১ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হইয়াছে। প্রায় ২৪টি নৌপথ ইতোমধ্যে খনন করা হইয়াছে, আরও অনেকগুলির খনন কাজ চলিতেছে। অন্যদিকে, টেকসই এবং উন্নত নৌযান নির্মাণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট উন্নতি হইয়াছে। নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিত করার কার্যক্রমও এখন অতীতের তুলনায় জোরদার করা হইয়াছে।

তাহাসত্ত্বেও  আমাদের দেশে প্রতিবত্সরই কমবেশি নৌ দুর্ঘটনা ঘটিয়া থাকে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৭৬ সাল হইতে এই পর্যন্ত ৫০৯টি দুর্ঘটনায় সলিলসমাধি হইয়াছে ৪৬১০ জনের। দুর্ঘটনা কখনও বলিয়া কহিয়া আসে না। যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে দুর্ঘটনা ঘটিয়া যাইতে পারে। এমতাবস্থায় নৌপথে যত দুর্ঘটনা ঘটে, সেইগুলিকে নিছকই দুর্ঘটনা বলিতে পারিলে, আর কিছু না হউক, কিছুটা স্বস্তিবোধ করা যাইত। কিন্তু সেই অবকাশ আছে সামান্যই। বাংলাদেশে জলে ও স্থলে জীবনবিনাশী ঘনঘন দুর্ঘটনার কারণগুলি এখন কমবেশি সবারই জানা। অদক্ষ এবং কাণ্ডজ্ঞানবর্জিত একশ্রেণির চালকের হাতে পড়িয়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রায়শ দুর্ঘটনায় পতিত হইয়া থাকে। নৌ দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ হইল ওভার লোডিং। ধারণক্ষমতার চাইতে অনেক বেশি, কখনও কখনও দ্বিগুণ-তিনগুণ যাত্রী বহনের জন্য লঞ্চ কিংবা ট্রলারের কান্ডারি-সহকারিগণ নাকি যাত্রীসাধারণ নিজেরাই বেশি দায়ী, তাহা স্থির করা সহজ নয়। বলিতে গেলে দায়ী উভয় পক্ষই, কম আর বেশি।  চালক-সহকারীরা ব্যস্ত এক ট্রিপে কত বেশি আয় করা যায়, তাহা লইয়া। পক্ষান্তরে, অনেক যাত্রীর কাছে জীবনের চাইতে সময়ের দাম যেনবা অনেক বেশি। পথে কী ঘটিতে না ঘটিতে পারে, তাহা তুচ্ছজ্ঞান করিয়া তাহারা যাত্রায় শামিল হইবেন, হইবেনই। নৌযানে তিলধারণের ঠাঁই না থাকিলেও তাহাদের চড়িতে হইবে। সঙ্গে পরিবারের শিশু ও মহিলা থাকিলেও পরোয়া করেন না। পরিণামে দুর্ঘটনা —মৃত্যু,আহাজারি।

 নৌযানের ফিটনেস, চালকগণের দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়াও, নৌপথে এখনও যেইসব বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান রহিয়াছে, সেইসবেরও  সমাধান করিতে হইবে। নৌ পথে সাইন-সিম্বল থাকা যেমন আবশ্যক, তেমনই সেইসব মানিয়াও চলিতে হইবে। অবশ্য, রাতারাতি সব ঠিক হইয়া যাইবে— এমনটি আমরা আশা করি না। তবে, বিষয়গুলি দেখভাল করিবার দায়িত্ব যাহাদের, তাহারা কর্তব্যপরায়ণ হইলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিতে বাধ্য। কিন্তু যাত্রী সাধারণের সচেতনতা জিনিসটি তো  কর্তৃপক্ষীয় কোনো আদেশ-নির্দেশ দ্বারা অর্জিত হইবার নহে। নিজের জীবন সম্পর্কে নিজেরই সজাগ হইতে হইবে। নিজেকে যিনি বা যাহারা ভালবাসেন, তিনি বা তাহারা আগে যাইবার প্রতিযোগিতায় নামিয়া সজ্ঞানে নিজেকে সলিলে সমর্পণ করিবেন না নিশ্চয়ই।  সামনে বর্ষাকাল। নৌপথ আরও দীর্ঘ ও প্রশস্ত হইয়া যাইবে।  নদীগুলি আরও উত্তাল হইবে। এই সময় নৌযাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন আরও বেশি। এইদিকে উদ্যাপিত হইতেছে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ। জনসচেতনতা সৃষ্টি এইরূপ সপ্তাহ  পালনের অন্যতম প্রধান  উদ্দেশ্য। সর্বমহলে সেই সচেতনতা আমাদেরও প্রত্যাশা  ।         

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন