সীমালঙ্ঘনকারীদের সহিত কোনো আপস নহে
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
তেজগাঁওয়ের অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করিয়া সীমালঙ্ঘনকারীরা আবারও তাহাদের ঔদ্ধত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাইয়াছেন। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের উপস্থিতিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়াছে। ভাঙচুর করা হইয়াছে মেয়রের প্রটোকলের গাড়ি ও ডিএনসিসির সাতটি গাড়ি ছাড়াও গণমাধ্যমের একাধিক গাড়ি। এমনকি প্রায় তিনঘণ্টা অবরুদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছে মেয়রকে। এলোপাতাড়ি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান রাখিয়া বাধার সৃষ্টি করা হইয়াছে যান চলাচলে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ১০০ ফুটের অধিক চওড়া এবং অর্ধমাইল দীর্ঘ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তেজগাঁও লিংক রোডটি দখল করিয়া শুধু যে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড গড়িয়া তোলা হইয়াছিল তাহাই নহে, সেই সাথে ব্যাঙের ছাতার মতো গজাইয়া উঠিয়াছিল গাড়ি মেরামতের কারখানাসহ বহু দোকানপাট। ফলে যেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছিল তাহাতে যান চলাচল দূরে থাক, পথচারীদের হাঁটাচলাও দুঃসাধ্য হইয়া পড়িয়াছিল। দিনের পর দিন দুঃসহ যানজটের পাশাপাশি অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাইতে হইয়াছে রাজধানীবাসীকে। ডিএনসিসি মেয়র তাহার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মতিক্রমে সড়কটি সচল করার উদ্যোগ নিয়াছিলেন। এই লক্ষ্যে তিনি দফায় দফায় ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সহিত বৈঠক করিয়াছেন। মালিকরা স্বেচ্ছায় ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান সরাইয়া লইতে সম্মতও হইয়াছেন। সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষের সহিত আলোচনাক্রমে ইহার জন্য বাঁধিয়া দেওয়া সময়সীমা দুই দফা পরিবর্তনের পরও যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়াছে তাহাতে পুনরায় ইহা প্রমাণিত হইয়াছে যে সীমালঙ্ঘনকারীরা কোনো প্রকার বিনয়, ভদ্রতা, নিয়মনীতি ও আইনকানুনের তোয়াক্কা করে না।

ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলিয়াছেন যে, তাহারা এই উচ্ছেদের পক্ষে। কিছু লোক উস্কানি দিয়া পরিস্থিতি ঘোলাটে করিতে চাহিয়াছে। যাহারা ইটপাটকেল ছুঁড়িয়াছেন তাহাদের মধ্যে বহিরাগতই বেশি। অবৈধ দখলকারীরা ব্যক্তিস্বার্থেই এই হামলা চালাইয়াছেন বলিয়া তিনি মন্তব্য করেন। ডিএনসিসি মেয়রও সংবাদ সম্মেলনে সেইদিকেই অঙ্গুলিনির্দেশ করিয়াছেন। বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া যাহারা অবৈধভাবে বিস্তৃত সড়ক ও সরকারি জমি জবরদখল করিয়া একদিকে নিজেদের আখের গোছাইয়াছেন, অন্যদিকে সৃষ্টি করিয়াছেন অবর্ণনীয় জনদুর্ভোগ—তাহারাই যে কলকাঠি নাড়িয়াছেন তাহা বুঝিবার জন্য বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন পড়ে না। দরিদ্র সাধারণ মানুষকে জিম্মি করিয়া দীর্ঘদিন ধরিয়া চলিয়া আসা এই দখলবাণিজ্য যে কতটা আগ্রাসী রূপ পরিগ্রহ করিয়াছে তাহা সর্বজনবিদিত। আর এই আগ্রাসন কেবল রাজধানী বা মহানগরগুলির ফুটপাত ও সড়কেই সীমাবদ্ধ নহে, খাল-বিল-নদী-জলাশয় ও বনাঞ্চল সর্বত্রই প্রসারিত হইয়াছে তাহাদের সীমাহীন লোভের থাবা। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলিয়া যাইতেছে তাহাদের উদরে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তাহাদের সদম্ভ পদচারণা সমাজ ও রাষ্ট্রকে কতটা বিষময় করিয়া তুলিয়াছে তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডিএনসিসি মেয়র অত্যাধুনিক সুবিধাসংবলিত একটি ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। আমরা ইহাকে স্বাগত জানাই। নূতন ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মিত না হওয়া অবধি বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের বিষয়টিও বিস্মৃত হইলে চলিবে না। পাশাপাশি ইহাও প্রত্যাশিত যে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গকে পুনর্বাসনেরও উদ্যোগ নেওয়া হইবে। তবে সীমালঙ্ঘনকারীদের সহিত কোনো আপস নহে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার স্বার্থেই সরকারকে এই ব্যাপারে কঠোর হইতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন