প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় জনবল সংকট
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হইয়াছে, সারাদেশে ৪ হাজার ৫১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নাই। তন্মধ্যে পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ৫৫৮টি এবং নূতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (জাতীয়করণকৃত) সংখ্যা ২ হাজার ৯৫৪টি। অন্যদিকে আগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রহিয়াছে ১২ হাজার ৬৬১টি এবং জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রহিয়াছে ১৭ হাজার ৪৪৪টি। সব মিলাইয়া সহকারী শিক্ষকের মোট শূন্য পদ ৩০ হাজার ১০৫টি। ইহাছাড়া দুই শতাধিক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদও শূন্য রহিয়াছে। কাহারও কাহারও মতে, প্রকৃত শূন্য পদের সংখ্যা আরও বেশি। বারংবার চাহিদাপত্র দেওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরিয়া এইসব শূন্যপদ পূরণ করা হইতেছে না।

শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা পর্যাপ্ত না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম সংকট বিরাজ করিতেছে। দেখা দিয়াছে বিশৃঙ্খলা। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকেরা ঠিকমতো স্কুলে আসিতেছেন না। বা আসিলেও তাহারা দায়িত্ব পালনে তেমন মনোযোগী হইতেছেন না। তাহারা ক্লাস নিতেছেন না যথাযথভাবে। অন্যদিকে শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় অনেক স্কুৃলের তদারকি কার্যক্রম বিঘ্নিত হইতেছে। অর্থাত্ উক্ত তিনপ্রকারের জনবল সংকটে সারাদেশে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইতেছে। কোনো কোনো স্কুল একজন বা দুইজন শিক্ষক নিয়াও পরিচালনা করা হইতেছে। ফলে এইসব বিদ্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়ার মান পড়িয়া যাইতেছে। সচেতন ও সচ্ছল অভিভাবকরা তাহাদের সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে নিয়া যাইতেছেন। উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮৬৪টি। ইহার মধ্যে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি একসঙ্গে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ কয়েক দশক পর এই জাতীয়করণের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ইহা একটি তাত্পর্যপূর্ণ কাজ হইয়াছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণও এখন জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। তাই আমাদের এই ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোযোগী হইতে হইবে।

জানা যায়, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ১৪৪টি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিয়াছে। আর সমপ্রতি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৫৯টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদের বিপরীতে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হইয়াছে যাহা ফল প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। অর্থাত্ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। শীঘ্রই ইহার সমাধান হইয়া যাইবে বলিয়া আশা করা যায়। তবে পিএসসিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারেও আন্তরিক হইতে হইবে। কেননা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি আগে ছিল তৃতীয় শ্রেণির। তখন ইহার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এখন এই পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় পিএসসিকে-ই এই ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হইবে। তাহার আগে এই সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমার সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে এইসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। এই সরকারের আমলে কয়েক দফায় নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হইলেও প্রয়োজনের তুলনায় তাহা অপ্রতুল। বিশেষত জাতীয়করণের পর এই সংকট যেহেতু বাড়িয়াছে, তাই ইহার মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্বও বৃদ্ধি পাইয়াছে বৈকি। আমরা আশা করি, অবিলম্বে উপযুক্ত শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন