চাই সৃজনশীল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী
০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
আমাদের দেশে একসময় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মুখস্থবিদ্যাই ছিল প্রধান ভরসা। তাহারা ইহার মাধ্যমে পরীক্ষার বৈতরণী পার হইলেও বাস্তব জীবনে বেশ সমস্যায় পড়িতেন। নোট ও গাইড বইগুলি তাহাদের এই বিদ্যাকে আরো শাণিত করিত বৈকি। এই উভয় প্রকার নেতিবাচক প্রভাব হইতে মুক্তি পাইতে সাত বত্সর আগে চালু হয় সৃজনশীল পদ্ধতি। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এই পদ্ধতি চালু হয়, এতদিন পর দেখা যাইতেছে সেই উদ্দেশ্যই পূরণ হইতেছে না। সমপ্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ (মাউশি) দেশের ৯টি শিক্ষা প্রশাসনিক অঞ্চলের ৬ হাজার ৫৯৪টি বিদ্যালয় পরিদর্শনপূর্বক একটি ‘একাডেমিক সুপারভিশন প্রতিবেদন’ তৈরি করিয়াছেন। তাহাতে দেখা যায়, দেশের প্রায় ৪১ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র তৈরি করিতে পারে না। তাহাদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বিদ্যালয় তাহাদের শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তা নিয়া। আর ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বিদ্যালয় বাহির হইতে বাণিজ্যিকভাবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করিয়া পরীক্ষা নেয়। কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিবেদনেও বলা হয় যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৫ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি বোঝেন না। এই যদি হয় শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের বর্তমান দশা, তাহা হইলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতার বিকাশ আশা করা বাতুলতা মাত্র।

সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু করার বিষয়টিকে কোনোমতেই বেঠিক বলিবার অবকাশ নাই। আমাদের বাস্তব জীবনে সৃজনশীলতার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আসলে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাহা কিছু শিখি, বাস্তব জীবনে তাহা কাজে না আসিলে বা তাহাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করিতে না পারিলে সেই শিক্ষা আসলে ফলপ্রসূ হয় না। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সেই মেধা বিকাশের পথ প্রসারিত করিবার কথা। কিন্তু এই পদ্ধতি সম্পর্কে যদি শিক্ষকদেরই পরিপূর্ণ ধারণা না থাকে, তাহা হইলে তাহাদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হইবেন কীভাবে? এমনভাবে প্রশ্ন করা উচিত যাহাতে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই মূল বই হইতে উত্তর বাহির করিতে পারে এবং সম্ভাব্য আরও প্রশ্নোত্তর নিজেরাই রপ্ত করিতে পারে। ইহাতে একেক জনের প্রশ্নোত্তরে যদি স্বকীয়তার ছাপ না থাকে, উপস্থাপনের কৌশল ও ভঙ্গি যদি নিজস্ব না হয়, তাহা হইলে শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা ও প্রতিভার বিচ্ছরণ ঘটিবে কীভাবে?

সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির আমরা সাফল্য কামনা করি। তবে একইসঙ্গে এইজন্য শিক্ষকদের সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি ও সেভাবে পাঠদানের সামর্থ্য অর্জন করিতে হইবে। ইহা শিক্ষক প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াইয়া সম্পন্ন করা যাইতে পারে। মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের সেই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হইবে। সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে উদ্দীপক হইল মূল বিষয়। কিন্তু অনেক শিক্ষক ক্লাসে এই উদ্দীপক ভালোভাবে পড়াইতে পারেন না কিংবা পড়ান না। শিক্ষকদের এই দুর্বলতা কাটাইয়া উঠা প্রয়োজন। গাইড বইগুলিতে প্রদত্ত নমুনা অনুসরণ করিয়া কিংবা পাবলিক পরীক্ষায় যে প্রশ্নগুলি দেওয়া হয়, অধিকাংশ শিক্ষক কেবল তাহাই অনুসরণ ও অনুকরণ করিতেছেন। এই গতানুগতিকতা বাদ দিতে হইবে এবং প্রতি বত্সর নূতন ধাঁচে প্রশ্নপত্র তৈরি করিতে হইবে। এইজন্য নিয়মিত সিলেবাস সংস্করণও দরকার। দরকার মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা। সর্বোপরি নোট-গাইড বই নিষিদ্ধ হইলেও বাজারে তাহার সরব উপস্থিতি সৃজনশীলতার এই সংকটকে আরও প্রকট করিয়া তুলিতেছে বলিয়া মনে করেন তথ্যাভিজ্ঞ মহল। অতএব, এইদিকেও বিশেষ নজর দিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন