জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জীবননাশের শঙ্কা
১৩ জুন, ২০১৬ ইং
ঢাকা চিড়িয়াখানায় মাছি বা পোকাবাহিত জটিল রোগ ট্রিপানোসোমিয়াসিসের প্রাদুর্ভাব ঘটিয়াছে। প্রাণঘাতী এই রোগে ইতোমধ্যে ‘টোকিও’ নামক এক বাঘের শাবক মারা গিয়াছে।  আরেকটি ব্যাঘ্র শাবক ‘ইয়েন’ আছে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাহাকে চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি হাসপাতালের সিসিইউ তথা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিত্সা দেওয়া হইতেছে। তাহার পিছনের দুই পাসহ শরীরের বেশকিছু অংশ অবশ হইয়া গিয়াছে। তাহার চিকিত্সার জন্য গঠন করা হইয়াছে ১২ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড। টোকিও ও ইয়েন জাতীয় চিড়িয়াখানার রয়েল বেঙ্গল টাইগার রণবীর ও জ্যোতির আদরের সন্তান। জ্যোতিকে ২০১১ সালে রাজধানীর শ্যামলী হইতে শিশু অবস্থায় পাচারকারীদের হাত হইতে উদ্ধার করা হয়। সে লালিত-পালিত হয় কক্সবাজারের বঙ্গবন্ধু ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। তাহাকে রাষ্ট্রীয় বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসাবে জাপানে পাঠানোর উদ্দেশ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হইয়াছে। তবে বিদেশ যাইতে বিলম্ব এবং রণবীর ও জ্যোতির একত্রে বসবাসের কারণে জ্যোতি দুই দফায় মা হয়। আর জাপানের রাজধানী ও  মুদ্রার নাম হিসাবে তাহার সন্তানদের নাম রাখা হয় ‘টোকিও’ ও ‘ইয়েন’। তাহাদের জন্মের খবর সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কিন্তু একজনের মৃত্যু ও অন্যজনের অসুস্থতার খবর প্রাণীপ্রেমিকদের নিকট এখন বিনামেঘে বজ্রপাতের ন্যায় প্রতীয়মান হইতেছে। শুধু তাহাই নহে, এই জটিল ও কঠিন রোগের অস্তিত্ব ধরা পড়ায় চিড়িয়াখানার বাঘ, সিংহ, জেব্রা, জিরাফ ও হরিণজাতীয় প্রাণীকূলেও এই রোগ ছড়াইয়া পড়িবার আশঙ্কা করা হইতেছে। তাই এই ব্যাপারে আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে।

বাংলাদেশ যখন সুন্দরবনে বাঘ রক্ষা করিবার সর্বাত্ম্যক প্রচেষ্টা চালাইয়া যাইতেছে, তখন চিড়িয়াখানায় হইলেও বাঘ শাবকের মৃত্যু ও অসুস্থতার খবর দুঃখজনক। জানা যায়, ট্রিপানোসোমিয়াসিস রোগটি বহিরাগত। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায় প্রায়শ। এই রোগের লক্ষণগুলি মারাত্মক।  ইহাতে রক্তের হিমোগ্লোবিন নষ্ট হয় এবং প্রাণীর দেহে দেখা দেয় রক্তশূন্যতা। আক্রান্ত প্রাণীটির খাবারদাবার হ্রাস পায় এবং পক্ষাঘাতের শিকার হয়। এভাবে একসময় ঢলিয়া পড়ে মৃত্যুমুখে। তবে এই রোগ নূতন নহে। ১৯৯০ সালে এই রোগে জাতীয় চিড়িয়াখানার চারটি বাঘ মারা যায়। সমপ্রতি ভারতের ওডিশার নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় এই রোগে ১১টি বাঘ মারা গিয়াছে। সুতরাং পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাইয়া ইয়েনের সুচিকিত্সা নিশ্চিত করিতে হইবে। এইক্ষেত্রে  অবহেলা প্রদর্শনের  কোনো অবকাশ নাই।

ইতোমধ্যে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এই রোগ প্রতিরোধের জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে জরুরি নির্দেশনা দিয়াছেন। সেই অনুযায়ী রোগটির বিস্তার রোধে প্রাণীদের মশা-মাছি হইতে রক্ষা করিতে প্রকোষ্ঠের আশপাশে তারপিন তেল ও নেগোভেট ঔষধ ছিটানো হইতেছে। দর্শনার্থীদের যাহাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হইতেছে। আমরা আশা করি, শীঘ্রই এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হইবে। প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জানাইয়াছেন যে, তাহারা অসুস্থ ইয়েনের চিকিত্সায় বহির্বিশ্বের চিড়িয়াখানার সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করিয়া চলিয়াছেন। অতএব, অসুস্থ ইয়েন আবার সুস্থ হইয়া শীঘ্রই মা-বাবার কোলে ফিরিয়া যাইবে বলিয়া আমরা প্রত্যাশা করি।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন