বার বার কেন এই নৃশংসতা
২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
খুলনায় শিশু রাকিব হত্যার এক বত্সর পূর্ণ হইবার আগেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একই কায়দায় হত্যা করা হইয়াছে আরও একটি শিশুকে। প্রায়শ বলা হইয়া থাকে যে, অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে সমাজে প্রতিনিয়ত যেইসব গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হইতেছে তাহার পুনরাবৃত্তি হইত না। এই বক্তব্যের সহিত সকলেই কমবেশি একমতও পোষণ করিয়া থাকেন। কিন্তু গত রবিবার শিশুশ্রমিক সাগর বর্মণের সহিত সজ্ঞানে পরিণতবয়স্ক ব্যক্তিরা যাহা করিয়াছেন—তাহাতে সাধারণের সেই বিশ্বাসও চুরমার হইবার উপক্রম হইয়াছে। ঘটনার বীভত্সতাদৃষ্টে বেদনায় ও বিস্ময়ে স্তম্ভিত হইয়া পড়িয়াছেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রসঙ্গত স্মরণ করা যাইতে পারে যে খুলনায় শিশু রাকিবকেও অনুরূপ নৃশংস পন্থায় খুন করা হইয়াছিল। কিন্তু সেই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আটক করা হইয়াছে। অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হইয়াছে তাহাদের বিচারকার্য। দেওয়া হইয়াছে সর্বোচ্চ শাস্তি। তাহার পরও কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিল—সেই প্রশ্ন এড়াইয়া যাইবার উপায় নাই।

লক্ষণীয় যে উভয়ক্ষেত্রে অতি তুচ্ছ কারণে বর্বরোচিত এই নৃশংসতা সংঘটিত করা হইয়াছে। রাকিব কাজ করিত গাড়ি মেরামতের একটি ওয়ার্কশপে। তাহার অপরাধ ছিল সে অন্য একটি ওয়ার্কশপে কাজ নিয়াছিল। অন্যদিকে, বাবার সহিত একই কারখানায় কাজ করিত সাগর। মাত্র নয় বত্সর বয়সী এই শিশুটি কী এমন অপরাধ করিতে পারে যাহার জন্য কমেপ্রসার মেশিনের মাধ্যমে পেটে বাতাস ঢুকাইয়া অমানুষিকভাবে তাহাকে হত্যা করা হইল—তাহা আমরা বুঝিতে অক্ষম। ইহা সুবিদিত যে যখন এই শিশুদের ঘাসফড়িঙের পিছনে ছুটিয়া বেড়াইবার কথা কিংবা বইখাতা হাতে কোলাহলমুখর করিয়া তুলিবার কথা স্কুলপ্রাঙ্গণ, তখন কেবল পেটের দায়ে তাহাদের বাছিয়া লইতে হইয়াছে শ্রমিকের জীবন। কোমলমতি এই শিশুরা সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে ছোটখাটো ভুল করিতেই পারে। কিন্তু এইজন্য এইভাবে তাহাদের খুন করিয়া ফেলিতে হইবে—ইহা কি ভাবা যায়?

বস্তুত রূপগঞ্জে যাহা হইয়াছে এবং অন্যত্র যাহা হইতেছে—তাহা মোটেও সুস্থতার লক্ষণ নহে। কোনো সুস্থ মানুষ এই ধরনের কাজ করিতে পারেন না। সঙ্গত কারণেই এই উন্মত্ততা হইতে পরিত্রাণ পাইতে হইলে আমাদেরকে অবশ্যই এই ব্যাধির উত্স এবং কারণ খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে। সমাজই যদি ক্রমবর্ধমান এই অসহিষ্ণুতার জন্য দায়ী হইয়া থাকে তাহা হইলে দেখিতে হইবে যে কী কারণে এই ব্যাধি সমাজে শিকড় গাড়িতে পারিল? সর্বোপরি, সেই কারণটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নহে, একই সাথে তাহার যথাযথ প্রতিকারেরও পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। অসহিষ্ণুতার মূল কারণটি দূর করিতে না পারিলে ইহার দাবানল হইতে পরিত্রাণ সুদূরপরাহতই বলা যায়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন