বনাঞ্চল ও কৃষিজমি প্রসঙ্গে
২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত সোমবার বিশ্বের বনাঞ্চল ও কৃষিজমি নিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়াছে। তাহাতে দেখা যায়, বিশ্বের ২০০টি দেশের মধ্যে ১৭টি দেশের কৃষিজমি ও বনভূমি উভয়ই কমিয়াছে। তন্মধ্যে আছে বাংলাদেশের নামও। বলা হইয়াছে গত ২৫ বত্সরে দেশের বনভূমি কমিয়াছে ৬৫ হাজার একর। আর ১৯৯০ হইতে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের কৃষিজমি কমিয়াছে ১১ লক্ষ ৪৫ হাজার হেক্টর। কিন্তু এই দুুইটি তথ্যই যথার্থ নহে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আমাদের বনভূমির পরিমাণ ধরা হইয়াছে ১১ শতাংশ। কিন্তু বন পর্যবেক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ ১৫ শতাংশ। আবার আমাদের বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ ১৭ শতাংশ। বিশেষ করিয়া গত চার দশকে বঙ্গোপসাগরে পলি পড়িয়া এক হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার নূতন ভূমি যুক্ত হইয়াছে বাংলাদেশের সঙ্গে। ইহার পুরাটাতেই সৃজন করা হইয়াছে বন। সুতরাং যাহারা বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ কম বলিতেছেন, তাহারা ইহাকে আমলে নিতেছেন না বলিয়াই প্রতীয়মান হয়।

জাতীয় বননীতি ২০১৬-এর খসড়া অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বনভূমির পরিমাণ ২০ শতাংশে উপনীত করিবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হইয়াছে। ইহার বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ রহিয়াছে। কেননা বাংলাদেশের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। অথচ সেই অনুপাতে ভূমির পরিমাণ কম। তাহার পরও বাংলাদেশ বনভূমি রক্ষায় যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া যাইতেছে। বনভূমি হ্রাস-বৃদ্ধির সহিত জলবায়ুর একটি পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বনভূমি উজাড় হইলে তাহা জলবায়ুর পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। আবার বনভূমির পরিমাণ বেশি থাকিলে তাহা ঐরূপ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হইতে রক্ষা করে। বনভূমি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশসম্মত আবাসন ও কল-কারখানা গড়িয়া তুলিতে হইবে। আশার কথা হইল, এই ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা বাড়িতেছে। দেশে ঘরবাড়ির আশেপাশে বা ছাদে-বারান্দায় গাছপালা লাগানোর প্রতি উত্সাহিত করা হইতেছে। ইহাতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্সে বিশেষ ছাড় প্রদান করিবার নীতিও গ্রহণ করা হইয়াছে। এই ধরনের নীতিমালা সবুজ বাংলাদেশ গড়িবার জন্য সহায়ক নিঃসন্দেহে।

অন্যদিকে ১৯৭১ সালে যেখানে আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি, সেখানে বর্তমানে জনসংখ্যা বাড়িয়া দাঁড়াইয়াছে ১৬ কোটিরও বেশি। ফলে এই সময়ে ৩০ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি কমিয়াছে। কিন্তু ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন ও প্রয়োগের ফলে সার্বিকভাবে বাড়িয়াছে কৃষি উত্পাদন। যেমন— স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে খাদ্যশস্য উত্পাদন হইয়াছিল এক কোটি ১০ লক্ষ মেট্রিক টন। আর এখন উত্পাদিত হইতেছে প্রায় চার কোটি মেট্রিক টন।  দেশে ধান, গম, ভুট্টা, পাট, আলু ও পিঁয়াজসহ বেশির ভাগ ফসলের উত্পাদন বাড়িয়াছে দুই হইতে চার গুণ। বর্তমানে ধান, আলু, ভুট্টা ও সবজি উত্পাদনে বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। শুধু তাহাই নহে, খাদ্যশস্য উত্পাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় উঠিয়া আসিয়াছে। হেক্টরপ্রতি ধান উত্পাদন এবং একই জমিতে একাধিক ফসল চাষের দিক হইতেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের জন্য রোল মডেল। অতএব, ফাওয়ের প্রতিবেদনে আমাদের উদ্বিগ্ন হইবার কোনো কারণ নাই। বলা বাহুল্য, ইহার আগে এই সংস্থাটিই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসাবে প্রচার করিয়াছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন