শান্তির বার্তাবাহী বিশ্ব অলিম্পিক
০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
শান্তির বার্তাবাহী বিশ্ব অলিম্পিক
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো এখন বিশ্বের হাজার হাজার ক্রীড়াবিদ ও ক্রিড়াপ্রেমী দর্শকদের পদভারে মুখরিত। গত শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ নামক বর্ণিল বিশ্ব অলিম্পিকের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ২০৬টি দেশের সাড়ে ১০ হাজার ক্রীড়াবিদ মোট ২৮টি ইভেন্টে অংশ নিয়াছেন এইবার। ১৯ দিন ধরিয়া মোট ৩০৬টি পদকের জন্য লড়িয়া যাইবেন তাহারা। জিকা ভাইরাস ও জঙ্গি আতঙ্ক এবং ব্রাজিলের অর্থনৈতিক মন্দায় একশ্রেণির ব্রাজিলিয়ানের বিক্ষোভ প্রদর্শন সত্ত্বেও এবারের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক জমিয়া উঠিয়াছে। আজ হইতে প্রায় পৌনে তিন হাজার বত্সর আগে বিশ্বের এই সর্ব প্রাচীন, বৃহত্ ও ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াসরের গোড়াপত্তন হয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূতিকাগার গ্রিসে। গ্রিসের সিটি স্টেট বা নগররাষ্ট্রগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেবতাদের পিতা জিউসের নামে এই ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যাহা আজ অলিম্পিক গেমস নামে পরিচিত। এখানে মূল অলিম্পিয়া শব্দের উত্পত্তি অলিম্পাস হইতে। ইহার অর্থ দেবতাদের আবাসভূমি বা স্বর্গ। গ্রিসের দক্ষিণভাগের পেলোপলিস ও মেসিডোনিয়ার মধ্যবর্তী কয়েকটি ছোট পাহাড় নিয়া গঠিত অলিম্পিয়া পর্বতমালা। প্রাচীন গ্রিকদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী যেখানে বসবাস করিতেন দেবতারা। তবে আধুনিক অলিম্পিকের সূত্রপাত হয় ১৮৯৬ সালে ব্যারন পিয়েরে দ্য কুবেরত্যার হাত ধরিয়া।

প্রত্যেকবারের মতো এবারো অলিম্পিকের মূল আকর্ষণ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড। সবার নজরে থাকিবেন দুইটি অলিম্পিকে অনন্য রেকর্ডের অধিকারী জ্যামাইকান গতি দানব উসাইন বোল্ট। আমেরিকার কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপসও দ্যুতি ছড়াইবেন নূতন করিয়া। তবে সর্বোচ্চ পদক কাহারা লাভ করিবেন তাহা নিশ্চিত করিয়া বলা যায় না। বহু বত্সর ধরিয়া গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ছিল। খেলায়ও যেন ছিল কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের ছাপ। তবে বিশ্বঅর্থনীতিতে যেমন এখন চীন এক নম্বরে আসিয়া গিয়াছে, তেমনি  শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইটাও বর্তমানে দুই শীর্ষ বিশ্বঅর্থনীতির দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসিয়া ঠেকিয়াছে। খেলাধুলায় যে অধিক বিনিয়োগ করিতে হয়, এই ঘটনা তাহারই প্রমাণবহ। বলিতে গেলে এই কারণেই বাংলাদেশ পিছাইয়া আছে।  বাংলাদেশ এই পর্যন্ত অনেকগুলি বিশ্বঅলিম্পিকে অংশগ্রহণ করিয়াছে। কিন্তু অংশগ্রহণ করাটাই সার হইয়াছে। তবে এইবারের অলিম্পিকে আমাদের আনন্দের ব্যাপার হইল, দেশের একমাত্র নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস অলিম্পিকের মশাল বহন করিবার গৌরব অর্জন করিয়াছেন। আর বাংলাদেশের গলফার সিদ্দিকুর রহমান সরাসরি অলিম্পিকে খেলার সম্মান লাভ করিয়াছেন। এই আসরে আমাদের ৭ জন ক্রীড়াবিদ ও ১৪ প্রশিক্ষক-কর্মকর্তা মিলিয়া ২১ জনের দল অংশ নিয়াছে।

আমরা এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়কে আছি। এই অবস্থায় বিশ্ব অলিম্পিকের ন্যায় খেলাধুলার গৌরবজনক আসরে আমাদের অবস্থান শক্তিশালী করিবার অবকাশ আছে বৈকি। এইজন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করিয়া অগ্রসর হইতে হইবে। এবারকার সাঁতারে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি একটি ভালো উদ্যোগ। এইভাবে অন্যান্য ইভেন্টেও প্রতিশ্রুতিশীল ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে এবং তাহাদের পরিচর্যা ও উন্নয়নে মনোযোগী হইতে হইবে। এবারের অলিম্পিকের ৩১তম আসরে ৪৩ জন শরণার্থীর অংশগ্রহণ স্মরণ করাইয়া দিতেছে বিশ্ব অলিম্পিকের সেই শান্তি দর্শন। এইসব শরণার্থী ইরাক, সিরিয়া, সুদানসহ বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা উভয়বিধ যুদ্ধ-বিগ্রহ ও জাতিগত সংঘাত-সংঘর্ষের শিকার। কিন্তু বিশ্ব ক্ষমতাধরগণ কি এইসব সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিবেন? আপাতত আমরা এই ব্যাপারে আশাবাদী হইবার মতো কোনো উপলক্ষ খুঁজিয়া পাইতেছি না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন