শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার
০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার
সামপ্রতিক বত্সরগুলিতে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকে শিশু-কিশোরদের অবস্থার লক্ষণীয় উন্নতি সাধিত হইয়াছে। এই ক্ষেত্রে সরকারি প্রয়াস উত্সাহব্যঞ্জক নিঃসন্দেহে। স্কুলে শিশুদের উপস্থিতির হার বাড়িয়াছে। ঝরিয়া পড়ার হারও  হ্রাস পাইয়াছে। শিশু মৃত্যুর হার কমিয়াছে। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ  উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় শিশু অধিকার বিষয়ে চিহ্নিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের সুরক্ষার ব্যাপারে আইন হইয়াছে। দুই বত্সর আগে প্রকাশিত শিশুশ্রম সমীক্ষায় দাবি করা হয় যে, দেশে শিশুশ্রম ৪৬ শতাংশ কমিয়াছে। সামাজিক সেবাখাতের পরিধি সমপ্রসারিত হওয়ায় অতি দারিদ্র্য পরিস্থিতি এখন সহনীয় পর্যায়ে নামিয়া আসিয়াছে। দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এখন প্রাথমিক বিদ্যালয় হইয়াছে। অতি দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরাও যাহাতে স্কুলে যাইতে পারে তাহার জন্য সরকার প্রাথমিক পর্যায়েও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করিয়াছে। দরিদ্র পরিবারে অর্থনৈতিক কারণে শিশুদের স্কুলে না পাঠাইয়া বিভিন্ন কাজে লাগাইয়া দেওয়া হয়। বেশিরভাগ সময় তাহাদের গৃহকর্মী হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু এখন শিশুসন্তানকে কাজে না পাঠাইয়া স্কুলে দিলেও অভিভাবকগণ অর্থনৈতিক সহায়তা পাইতে পারেন। এর ফলে বোধগম্য কারণেই ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার বাড়িয়াছে। শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের রহিয়াছে বিবিধ কর্মসূচি। এইসব কর্মসূচির সুফল আমরা পাইতেও শুরু করিয়াছি।

 ইতিবাচক এই পরিস্থিতির বিপরীতে শিশু অধিকার বিষয়ে কিছু কিছু খবরে হতাশাবোধ না করিয়া পারা যায় না। শিশু-অধিকার লইয়া কাজ করে, এই রকম আড়াই শতাধিক বেসরকারি সংস্থার মিলিত ফোরামের এক সমীক্ষায় বলা হয়, গত ছয় মাসে সারাদেশে দেড় সহস্রাধিক শিশু নির্যাতনের শিকার হইয়াছে। সমীক্ষাটি প্রণীত হইয়াছে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। পত্রিকায় সকল খবরই যে যথেষ্ট তথ্যভিত্তিক সে দাবি করা যায় না। কখনো কখনো সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার শর্ত লঙ্ঘিতও হইতে পারে বৈকি। তাহা সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে  শিশুর ওপর অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা যে ঘটিয়া যাইতেছে তাহা অস্বীকার করিবার জো নাই। শহরাঞ্চলে ছ্যাকা দিয়া  শিশু গৃহকর্মীর শরীর ঝলসাইয়া দিবার মত দুর্ভাগ্যজনক  খবরও আমাদের প্রায়শই পড়িতে হয়। পায়ুপথে বাতাস দিয়া নির্দয়ভাবে শিশু হত্যার মত ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটিয়াছে। শিশু রাজন হত্যার মর্মান্তিক স্মৃতি-তাহাও সহজে ভুলিয়া যাইবার মত নহে। যাহারা শিশু নির্যাতন করে, তাহারা মানুষ হিসাবে যে কতটা নিকৃষ্ট তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। মানসিকভাবে ইহারা দুর্বৃত্ত। শিশুরা দুর্বল বলিয়া ইহারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে বেপরোয়া। তবে সমাজে এই শ্রেণির লোকের সংখ্যা মোটেও বেশি নহে। সংখ্যায় ইহারা অল্প হইলেও সমাজে অনাচার সৃষ্টি করিয়া সামাজিক উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি করিয়া চলিয়াছে। শিশু নির্যাতনের অনেকগুলি ঘটনার বিচারও হইয়াছে। আইনি প্রতিকারের পাশাপাশি দরকার সামাজিক প্রতিরোধ। শিশুদের পৃথিবীকে অবশ্যই আমাদের  নিরাপদ করিতে হইবে।   

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন