স্থানীয়ভাবেই হামলাকারীদের রুখিতে হইবে
০১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ক্ষত শুকাইবার আগেই আবারও একাধিক মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়াছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায়। গত মঙ্গলবার রাত্রে ছোটভাকলা ইউনিয়নের হিন্দুপ্রধান চর কাচরন্দ গ্রামে সংঘটিত এই ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব না হইলেও ঘটনাটি জনমনে নানা সন্দেহ ও প্রশ্নের উদ্রেক করিয়াছে। এই সংশয় যে অমূলক নহে—গোয়ালন্দ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্যেও তাহার জোরালো সমর্থন রহিয়াছে। এলাকায় দীর্ঘকাল ধরিয়া বিরাজমান চমত্কার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করিয়া তাহারা বলিয়াছেন যে, সাম্প্রদায়িক কারণে এই ঘটনা ঘটে নাই। বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিয়া সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করিবার অভিপ্রায়ে কোনো মহল পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটাইতে পারে বলিয়া তাহারা মনে করেন। আপাতত স্বস্তির বিষয় এইটুকু যে, স্থানীয় প্রশাসন মন্দিরে হামলার বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সহিত গ্রহণ করিয়াছেন। তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হইয়াছে। রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করিয়াছেন। আশা করা যায় যে খুব সহসাই দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হইবে। কিন্তু তাহাতে যে সমস্যাটির পুনরাবৃত্তি রোধ বা মূলোত্পাটন সম্ভব হইবে না— তাহা অনুুধাবন করিবার জন্য রামু কিংবা নাসিরনগরের উদাহরণই যথেষ্ট বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে।

ইহা মোটামুটি স্পষ্ট যে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাইয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসিদ্ধির অপচেষ্টা চলিতেছে। সেই লক্ষ্যেই কখনো মন্দিরে, কখনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উপর চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হইতেছে। পাশাপাশি এই বাস্তবতাও স্বীকার করিতে হইবে যে সরকার বা প্রশাসনের যত সদিচ্ছাই থাকুক তাহাদের একার পক্ষে দেশের আনাচেকানাচে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া থাকা এইসব উপাসনালয় কিংবা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নহে। ইহার অর্থ এই নয় যে, সমস্যাটি অপ্রতিরোধ্য। বরং আমরা মনে করি যে অবশ্যই এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব এবং সেই কাজটি করিতে হইবে স্থানীয়ভাবে। প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত যে জনপ্রতিনিধিরা আছেন— তাহাদেরই এই দায়িত্ব লইতে হইবে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ হইতে ইহা নিশ্চিত করিতে হইবে যে, যেখানেই এই ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটিবে তাহার দায়দায়িত্ব অবধারিতভাবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপরই বর্তাইবে। কেহ যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা শৈথিল্য প্রদর্শন করেন তাহা হইলে প্রশাসনকে অবশ্যই তাহার হাত প্রসারিত করিতে হইবে। আর সেই হাত প্রয়োজনে কত লম্বা ও দৃঢ় হইতে পারে— তাহা কি বলার অপেক্ষা রাখে!  

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন