রাজধানীর যাত্রী ছাউনিগুলির এই দুর্দশা কেন?
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হইয়াছে যে, রাজধানী ঢাকায় প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী ছাউনির মধ্যে বেশিরভাগই এখন রহিয়াছে অবৈধ দখলে। এসব যাত্রী ছাউনিতে বিভিন্ন প্রকার পণ্যসামগ্রীর দোকান বসিয়াছে। অনেক যাত্রী ছাউনি আবার ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অযোগ্য হইয়া পড়িয়াছে। কোথাও কোথাও ছাউনির লোহাগুলি ভাঙিয়া গিয়াছে। অর্থাত্ এমন জীর্ণশীর্ণ হইয়া পড়িয়াছে যাহার নীচে বসিয়া বিশ্রামের কথা চিন্তাই করা যায় না। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনার কারণে যাত্রী ছাউনিতে বসিবার উপযুক্ত পরিবেশ নাই। আবার দেখা যায়, যেখানে যাত্রী ছাউনি একান্ত প্রয়োজন, সেখানে নাই ইহার কোনো অস্তিত্ব। কোথাও কোথাও দিনের বেলা ছাউনিগুলি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহূত হইলেও রাত্রিবেলা তাহা চলিয়া যায় বিভিন্ন অপরাধীর দখলে। ফলে যাত্রী ছাউনি নিয়া মানুষের নানা প্রকার বিড়ম্বনা ও অভিযোগের অন্ত নাই। এভাবে যাত্রীদের জন্য যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হইলেও যাত্রীরা ইহার কোনো সুবিধা ভোগ করিতে পারেন না বলিলেই চলে।

বর্ষায় বৃষ্টি আর গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রোদ হইতে যাত্রীসাধারণের সুরক্ষায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়িয়া তোলা হয় যাত্রী ছাউনি। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৯টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সীমানায় ৮৬টি যাত্রী ছাউনি রহিয়াছে। সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন সংস্থার অধীনে রহিয়াছে এইসব ছাউনি। ফলে যাত্রী ছাউনির দুর্দশার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের অভাবও বিদ্যমান। জানা মতে, ২০০৭ সালে ডিসিসি নূতন করিয়া ১৬০টি স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত এই যাত্রী ছাউনির বেশিরভাগই এখন ব্যবহূত হইতেছে বাণিজ্যিকভাবে যাহা উদ্দেশ্যের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। অন্যদিকে শহুরে যাত্রীরা রোদে পুড়িয়া ও বৃষ্টিতে ভিজিয়া বাসের জন্য খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াইয়া অপেক্ষার প্রহর গোনেন। বাস কাউন্টার বা স্টপেজের কথা না ভাবিয়া নির্মাণ করার কারণেও অনেক যাত্রী ছাউনি আসলে কোনো কাজে আসিতেছে না। ফলে সারি বাঁধিয়া রাস্তায় দাঁড়াইয়া বাসের জন্য অপেক্ষার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটিতেছে। এমনকি যানজট লাগিয়া থাকিবার কারণে নাজেহাল হইতেছেন যাতায়াতকারীরা।

গতিশীল নগরে পথচারীদের বসিবার জন্য পরিচ্ছন্ন পার্ক, হাঁটিবার জন্য প্রশস্ত  ফুটপাত এবং পরিবহনের জন্য যাত্রী ছাউনি অপরিহার্য। পৃথিবীর সকল দেশেই নগরজীবনে একটু স্বস্তির জন্য এই সকল অবকাঠামো গড়িয়া তোলা হয় এবং কঠোর তত্ত্বাবধানে এগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করিয়া ব্যবহারোপযোগী রাখা হয়। অথচ ঢাকা মহানগর যেন চলিতেছে সম্পূর্ণ উল্টা নিয়মে। কিন্তু দিনের পর দিন এইভাবে তো চলিতে পারে না। জনদুর্ভোগ কমাইতে সংশ্লিষ্ট মহলকে এই ব্যাপারে অবশ্যই সক্রিয় হইতে হইবে। আমরা আশা করি, অবিলম্বে যাত্রী ছাউনিগুলি অবৈধ দখলমুক্ত করিয়া পথচারী ও যাত্রীদের বসিবার উপযুক্ত করিয়া তোলা হইবে এবং প্রয়োজনে যাত্রী ছাউনির সহিত সঙ্গতি রাখিয়া বাস কাউন্টার ও স্টপেজগুলিকে পুনর্বিন্যস্ত করা হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন