পানিবন্দি চট্টগ্রামবাসীর জন্য স্বস্তিকর সংবাদ
১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
অবশেষে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক নূতন একটি প্রকল্প অনুমোদিত হইয়াছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর বৈঠকে। গত বুধবার পাঁচ হাজার ৬১৬  কোটি ৫০ লাখ টাকার বৃহদাকার এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরকে ঘিরিয়া থাকা ৩৬টি খালের মাটি খননসহ গুরুত্বপূর্ণ খালসমূহের পাড়ে রাস্তা নির্মাণ, খালের সাথে সংযোগকারী পাকা ড্রেনসমূহের সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হইবে। পরিকল্পনা মন্ত্রী জানাইয়াছেন যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়াছেন প্রধানমন্ত্রী। ইহার জন্য তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হইয়াছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। চলতি বত্সরের জুলাই হইতে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হইয়াছে। দীর্ঘদিন ধরিয়া পানিবন্দি চট্টগ্রামবাসীর জন্য ইহা নিঃসন্দেহে খুবই স্বস্তিকর একটি সংবাদ। তবে ইহা বোধগম্য যে তাহাদের গত এক-দেড় দশকের অভিজ্ঞতা এতটাই তিক্ত যে সহজে আশাবাদী হওয়া তাহাদের পক্ষে বাস্তবিকই কঠিন।

চট্টগ্রাম মহানগরের মানুষ জলাবদ্ধতা হইতে মুক্তি চাহিয়াছিল। আর এখন তাহাদের বড় অংশের প্রাত্যহিক জীবন নির্ভরশীল হইয়া পড়িয়াছে জোয়ার-ভাটার উপর। গত কয়েক মাস যাবত্ ইহাই তাহাদের নিত্যদিনের সমস্যা হইয়া দাঁড়াইয়াছে। অবস্থা এমন দাঁড়াইয়াছে যে স্থানীয় দৈনিকগুলিতে এখন প্রতিদিনের জোয়ার-ভাটার সময় ছাপা হইতেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও তাহাদের ওয়েবসাইটে জোয়ার-ভাটার সময় উল্লেখ করিতেছে নিয়মিত। নগরীর সিডিএ আবাসিক এলাকা, মহেষখাল সংলগ্ন এলাকা, হালিশহরের কয়েকটি এলাকা, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ তত্সংলগ্ন বাকলিয়া এলাকা সরাসরি জোয়ার-ভাটার মারাত্মক বিরূপ প্রভাবের শিকার হইয়াছে। চট্টগ্রামের এক সময়ের সবচেয়ে অভিজাত আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার অবস্থা আরও শোচনীয়। একদিকে জোয়ার-ভাটা, অন্যদিকে বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় বিপন্ন হইয়া পড়িয়াছে নগরবাসীর জীবন ও জীবিকা। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আছেন। আছেন একাধিক মন্ত্রীও। সর্বোপরি, দুইজন নির্বাচিত মেয়র তাহাদের মেয়াদ পূর্ণ করিয়াছেন। তৃতীয়জনেরও দুইবত্সর অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। তিনজনেরই নির্বাচনের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান। কিন্তু বাস্তবে ঘটিয়াছে উলটোটাই।

কিন্তু কিছুই হয় নাই বলিলে মহা অন্যায় হইবে। কারণ গত ১৪ বত্সরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন মেয়রই ব্যয় করিয়াছেন ৩২৪ কোটি টাকা। অর্থাত্ প্রতি বত্সর গড়ে ব্যয় হইয়াছে ২৩ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গিয়াছে মেয়রগণই তাহা ভালো বলিতে পারিবেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী জনগণের ভাগ্যে কী জুটিয়াছে তাহা এখন সারাদেশের মানুষ জানে। স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই সমাধান করিবেন— ইহাই প্রত্যাশিত। সত্যি সত্যিই যদি তেমনটি হইত, তাহা হইলে হয়ত প্রধানমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা প্রদান করিতে হইত না। আশার কথা হইল, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় অঙ্কের বরাদ্দ পাওয়া গিয়াছে। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা আমাদের আশাবাদকে আরও দৃঢ় করিয়াছে। আমরা আশা করি, আর অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটিবে না। পূর্ণ স্বচ্ছতার সহিত বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সদ্ব্যবহার হইবে। অবসান ঘটিবে চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘকালীন দুর্ভোগের।  

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন