ফতুল্লা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের এ কী হাল
১১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
গত দুইমাস ধরিয়াই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম বার বার সংবাদ শিরোনাম হইতেছে। কারণ আন্তর্জাতিক মানের এই মাঠেই আগামী ২২-২৩ আগস্ট প্রস্তুতি ম্যাচ খেলিবার কথা অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। অথচ, দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হইয়া পড়িয়াছে জলাবদ্ধতার কারণে। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বিকেএসপিকে তৈরি করা হইতেছে। জলাবদ্ধতার কারণে উন্নতমানের এই স্টেডিয়ামের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়িয়াছে। পঁচিশ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে এখন নদীর বুকে জাগিয়া ওঠা একখণ্ড চর বলিয়া মনে হয়। ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোমর, আবার কোথাও হাঁটু পানি। বিশেষত আশপাশের এলাকা হইতে অবস্থান নিচু হওয়ায় স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশনে নির্মিত ক্যানেল দিয়াই পানি ভিতরে প্রবেশ করিতেছে। মূল স্টেডিয়ামের পাঁচটি প্রবেশপথের মধ্যে চারটির ফটক পানিতে তলাইয়া গিয়াছে। মূলমাঠে ৩০ গজ বৃত্তের বাহিরেও থই থই করিতেছে পানি। প্রতিবাদে স্থানীয় যুবকরা গত ৪ আগস্ট জলমগ্ন স্টেডিয়ামে মাছের পোনা অবমুক্ত করিয়াছেন।

ফতুল্লা স্টেডিয়াম প্লাবিত হইবার কয়েকটি কারণ জানা গিয়াছে। স্টেডিয়ামে অবিরাম পানি ঢুকিতেছে দুইভাবে। প্রথমত, ডিএনডি এলাকার অন্তর্ভুক্ত স্টেডিয়ামের পশ্চিম দিকে থাকা রামারবাগ এলাকা হইতে পানি ঢুকিতেছে। দ্বিতীয়ত, স্টেডিয়ামের চারিপার্শ্বে গড়িয়া উঠিয়াছে চার-পাঁচটি কারখানা। এসকল কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা স্টেডিয়ামের ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ দিকে থাকা কয়েকটি ডাইং ফ্যাক্টরির রাসায়নিক বর্জ্যমিশ্রিত পানির প্রবাহ অব্যাহত রহিয়াছে। স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটের বাহিরের এলাকা ডাইং ফ্যাক্টরির রাসায়নিক বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে সয়লাব হইয়া আছে। কালো রঙের এই পানির মধ্যেই অনেকে হাঁটাচলা করিতেছেন। আশপাশের এলাকা দূষণের মুখে পড়িলেও কোনো মাথাব্যথা নাই কারখানা মালিকদের। তদুপরি, এদেশের সকল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মতো স্টেডিয়ামগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও প্রবল উপেক্ষার বিষয় তো আছেই। ক্রিকেট সিরিজ শুরু হইলে বাথরুম, এয়ার কন্ডিশনার, প্রেসবক্স সকল কিছুই মেরামত করিতে হয়। কিন্তু দেখা যায়, আরেকটি সিরিজ আসিবার আগেই এসকল যন্ত্র বিকল হইয়া যায়। নূতন বাজেট হয়। কোনো একটা উপলক্ষ আসিলেই কেন স্টেডিয়ামগুলিকে নূতন করিয়া সকল কিছু কিনিতে হয়, ঠিক করিতে হয়, তাহা এক রহস্যই বটে! নিয়মিত বেতন দিয়া স্টেডিয়াম দেখভালের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী রাখিয়া লাভ কী তাহা হইলে?

ফতুল্লা স্টেডিয়ামও যে নিষ্ঠুর অবহেলার শিকার হইয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই। জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ একেবারে লক্ষণীয় নহে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রক্ষণাবেক্ষণ করিলেও দেশের ৫৬টি ক্রীড়া স্থাপনার মতো ফতুল্লা স্টেডিয়ামের মালিক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। মাঠের মালিক হিসাবে এনএসসির বড় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন ছিল। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দড়ি টানাটানি অব্যাহত আছে। তবে, জানা গিয়াছে স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমে পানি ঠেকানো যাইতেছে না বলিয়া ফতুল্লা স্টেডিয়ামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান খুঁজিতেছে এনএসসি। পদক্ষেপ হিসাবে বুয়েটকে দায়িত্ব দিয়াছে জরিপ করিয়া একটা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য। আমরা বলিব, সবচাইতে বেশি দায় বর্তায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওপরে। শতশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মানসম্পন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রগুলি কেন এইরূপ অবহেলার শিকার হইবে এবং সরকারের বিপুল অপচয়ের কারণ হইবে, তাহার দায়দায়িত্ব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিছুতেই এড়াইতে পারে না। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন